খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে দেড় যুগ পর উঠে যাচ্ছে জিপিএ, যুক্ত হচ্ছে সিজিপিএ 

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ১৮ জুন, ২০১৯ ১২:৫৮:০০

দেশের পাবলিক পরীক্ষায় দেড়যুগ পর উঠে যাচ্ছে গ্রেড জিপিএ পদ্ধতি। তারস্থলে যুক্ত হচ্ছে সিজিপিএ (কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) পদ্ধতি। এ বছরের আসন্ন জেএসসি পরীক্ষা থেকেই নতুন এ পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের পাস থাকবে ৪০ নম্বরে। আর কেউ ৪০ এর কম নম্বর পেলে অকৃতকার্য এফ-গ্রেড বলে বিবেচিত হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ের খসড়া শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে উপস্থাপন করা হবে বলে শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়। যা গত দেড় যুগ অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এ বছর থেকেই জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এ পদ্ধতি আর থাকছে না। ফলে কাউকে আর জিপিএ-৫ পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে দেশে প্রথমবারের মত চালু হচ্ছে সিজিপিএ-৪ পদ্ধতি। আসন্ন জেএসসি পরীক্ষা থেকেই সিজিপিএ-৪ (কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ) পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যা দেশের সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে জানেিয় দেয়া হয়েছে ও এ বিষয়ে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। এরপর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা একই পদ্ধতিতে ফলাফল হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে সব বিষয়ে ৮০’র ওপরে নম্বর পেলে সিজিপিএ-৪ ও লেটার গ্রেড হয় এ-প্লাস। এরপর ৭৫ থেকে ৮০’র মধ্যে সিজিপিএ ৩.৭৫ ও লেটার গ্রেড এ। ৭০ থেকে ৭৫-এর মধ্যে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ ও লেটার গ্রেড-এ মাইনাস। ৬৫ থেকে ৭০’র মধ্যে পয়েন্ট ৩.২৫ ও লেটার গ্রেড বি-প্লাস। ৬০ থেকে ৬৫’র মধ্যে পয়েন্ট ৩ ও লেটার গ্রেড-বি। ৫৫ থেকে ৬০’র মধ্যে পয়েন্ট ২.৭৫ ও লেটার গ্রেড-বি মাইনাস। ৫০ থেকে ৫৫-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.৫০ ও লেটার গ্রেড-সি প্লাস। ৪৫ থেকে ৫০-এর মধ্যে পয়েন্ট ২.২৫ ও লেটার গ্রেড-সি। ৪০ থেকে ৪৫ নম্বর পেলে পয়েন্ট ২ ও লেটার গ্রেড-ডি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ৪০’র কম নম্বর পেলে অকৃতকার্য, এর লেটার গ্রেড-এফ হবে। 
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল আলীম বলেন, গত ১২ জুন ঢাকায় দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন গ্রেড পদ্ধতি সিজিপিএ বাস্তবায়নে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সিজিপিএ বাস্তবায়ন ও পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত একটি খসড়া উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তবে সিজিপিএ-৫-এর পরিবর্তে ৪ এর মধ্যে ফলাফল প্রকাশে সবাই একমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন সেক্টরের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবো। এরপর তাদের মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। একই সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরীক্ষা সংক্রান্ত ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। এরপর আগামী এক মাসের মধ্যে সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে কিভাবে ফলাফল প্রকাশ করা যায় সে ব্যাপারে একটি খসড়া শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তারপরও যদি সম্ভব হয় তাহলে চলতি বছরের জেএসসি পরীক্ষা থেকেই সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। 
বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো বলেন, বর্তমানে দেশে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড অনুযায়ী সিজিপিএ-৫ এর মধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশে সব ধরনের পরীক্ষার ফলাফলই প্রকাশ করা হয় সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে। ফলে এসএসসি আর এইচএসসির ফলাফলের সঙ্গে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার ফলের সমন্বয় করতে গিয়ে দেশের উন্নয়ন সংস্থাগুলো সমস্যায় পড়েন। আর বিদেশে পড়ালেখা ও চাকুরির ক্ষেত্রে পড়তে হয় আরো বড় সমস্যায়। কারণ প্রতিনিয়তই বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যাচ্ছে। তাদের এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটের সমতা করে তারপর বিদেশে যেতে হয়। এতে অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের ফলাফলের সমতা থাকছে না। 
এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি চালু হয়। সেখানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৫, লেটার গ্রেড এ-প্লাস বলা হয়। আর এটাই ফলাফলে সর্বোচ্চ গ্রেড। এরপর ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৪, লেটার গ্রেড-এ। ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০, লেটার গ্রেড এ-মাইনাস। ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ৩, লেটার গ্রেড-বি। ৪০ থেকে ৪৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ২, লেটার গ্রেড-সি। ৩৩ থেকে ৩৯ নম্বর প্রাপ্তদের গ্রেড পয়েন্ট ১, লেটার গ্রেড-ডি। আর শূন্য থেকে ৩২ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গ্রেড পয়েন্ট জিরো, লেটার গ্রেড এফ। এই গ্রেডকে অকৃতকার্য বলা হয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ