খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রতিবাদে পরিচালক অবরুদ্ধ,পরে মুক্ত

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১৮ জুন, ২০১৯ ১২:৫৬:০০

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত

যানবাহন ক্রয় ও মেরামতে ব্যাপক দুর্নীতি, কর্মকর্তাদের নারী কেলেঙ্কারী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অহেতুক কারণে মারধর, চাকুরিচ্যুৎসহ নানা অভিযোগে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বিপর্যস্ত। হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় দ্বিগুণ হলেও বাড়েনি সেবার মান। সম্প্রতি হাসপাতালের মাদকসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পুলিশের হাতে আটক হলে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগ করেন। তবে কোন কাজ না হওয়ায় গতকাল সোমবার হাসপাতালের পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে সিনিয়র চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে তাকে (পরিচালক) মুক্ত করা হয়। পরে আন্দোলনকারীরা কাজে ফিরে যায়।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, খুলনার শিরোমনিতে একটি অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগ সার্ভিস থেকে শুরু করে চোখের বিভিন্ন ধরনের অপারেশন হয় রোগী ভর্তির মাধ্যমে। 
খোঁজ নিয়ে যায় হাসপাতালটিতে বর্হিবিভাগ সার্ভিসে টিকিট ও চোখ পরীক্ষা ব্যয় গত দুই বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ করা হয়েছে। ৫০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা টিকিট এবং চোখ পরীক্ষার ফি বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। তবে এসবের পরও সেবারমান ন্যূনতম বাড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সোনাডাঙ্গা এলাকার শাহীদা বেগম ঐ হাসপাতাল থেকে চোখ দেখান। তিনি বলেন, এখন আর চক্ষু হাসপাতালে যাই না। ডাক্তাররা ঠিকমত দেখেননা। খারাপ ব্যবহারের পাশাপাশি টাকাও নেয় অনেক বেশি।
এদিকে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের সীমাহীন দুর্নীতি ও কতিপয় কর্মকর্তার মাদক সংশ্লিতা ও নারী কেলেঙ্কারিতে সর্বত্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তারিফ ফেন্সিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 
হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী ও চাকুরীচ্যুত কর্মচারী জিয়াউর রহমান আলাদা আলাদা অভিযোগপত্রে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর প্রদান করলে বিষয়টি সকলের নজরে আসে। ওহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী (হাসপাতালের এক নারী কর্মী)-র সাথে মাহমুদুল হাসান তারিফের অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ আনেন। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দুই পরিবারের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওহিদুল ইসলামকে তার স্ত্রী তালাক দেয়। এ ঘটনা হাসপাতালের সর্বত্র আলোচনায় রয়েছে। 
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালের কোয়ার্টারে ব্যাচেলর কর্মচারীদের থাকা নিষিদ্ধ থাকলেও অবৈধভাবে ছাত্রী হোস্টেলের পাশেই থাকেন কর্মচারী (কম্পিউটার অপারেটর) আরিফ। ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েছেন অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রুবেল নামে অপর চাকুরিচ্যুৎ এক কর্মচারী অভিযোগ করেন রিয়েল নামে একজন চিকিৎসকের সাথে তারিফ নিয়মিত মাদক সেবন এবং তাকে সরবরাহ করতো সে। এছাড়া মাহমুদুল হাসান তারিফের সাথে চিকিৎসক ডাঃ রিয়েলের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ করেন কর্মচারীরা। সময়মত হাসপাতালে না আসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে
সাধারণ কর্মচারীদের নামে দেয়া অভিযোগপত্রে আরও বলা যায় হাসপাতালের যানবাহন শাখায় দায়িত্ব নেয়ার পর মেরামত ও নতুন যানবাহন ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তারিফের নেতৃত্বে। বাজার মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গাড়ি ক্রয়, বাস ক্রয়ে দুর্নীতি করেছে এ শাখায় নিয়োজিত কর্মচারীদেরকে সাথে নিয়ে। 
সাধারণ কর্মচারীরা অভিযোগপত্রে দাবি করেছে যানবাহন শাখার পূর্বের ভাউচার এবং বর্তমান ভাউচার একত্র করলেই পাওয়া যাবে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। 
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুল হান্নান সময়ের খবরকে বলেন মাহমুদুল হাসান তারিফ মাদকসহ আটক হয়েছে এমন কোন তথ্য আমার কাছে নেই। এছাড়া আমি নতুন এসেছি, হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে আমার তেমন কিছু জানা নেই। এছাড়া আমার মাধ্যম ছাড়া হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কাছে কিছু অভিযোগ দেয়া হয়েছে শুনেছি। বিষয়টি আমি এখনও দেখিনি তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। আমার কাছে আসলে আমি বিষয়টি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
এদিকে মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় মাহামুদুল হাসান তারিফ কারাগারে থাকায় ৮ দিন অফিসে অনুপস্থিত রয়েছে। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ নজরুল ইসলাম, ডাঃ সাইফুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় ব্যবস্থা না নেয়ায় তাকে (পরিচালক) অবরুদ্ধ করে। পরে সকাল ১০টায় হাসপাতালের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হেসেন, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ডিএমএ সালাম, মহিলা সম্পাদিকা হালিমা ইসলাম এবং নগর আ’লীগের সহ-সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী ঘটনাস্থলের এসে উভয়পক্ষের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে হাসপাতালের পরিচালককে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারীদের কাজে ফিরে যেতে অনুরোধ জানান ম্যানিজিং কমিটি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ