খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কেসিসি এলাকায় কত সংখ্যক শিশু শ্রমে জড়িত তা কোন দপ্তরের কাছে হিসাব নেই : মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক     | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:৩৬:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, প্রকল্প বাস্তব ভিত্তিক হতে হবে। আর থাকতে হবে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পরিসংখ্যান খুবই জরুরি। কেন না সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। যাদের কাছে (সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহ) তথ্য থাকার দরকার, তাদের কাছে না থাকা সত্যি দুঃখজনক। 
মেয়র বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কত সংখ্যক শিশু শ্রমে জড়িত তা সমাজসেবা অধিদফতরসহ অন্য কোন দপ্তরের কাছে তার হিসাব নেই। সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালককে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে আহবান জানান।  তিনি আরও বলেন, সকল শিশুকে স্কুলে পাঠাতে পারলে দেশে শিশুশ্রম থাকবে না। সরকার ২০১০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণের পাশাপাশি উপবৃত্তিও প্রদান করছে।
তিনি বুধবার সিএসএস আভা সেন্টারে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন বছর মেয়াদী যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তার অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবর্তন খুলনা ও সিএসএস মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। খুলনাকে মাদকমুক্ত করা হবে আবারও পুনর্ব্যক্ত করে মেয়র বলেন এর সাথে কোন আপোষ নেই।
শিশুশ্রম নিরসনে যে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে তাদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করারও আহ্বান জানান সিটি মেয়র। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব যথাযথ পালন না করায় সরকারের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। খুলনা নগরীকে শিশুশ্রম মুক্ত করতে যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন  তা তিনি করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। 
সিএসএস’র পরিচালক (শিক্ষা) জেমস অজয় চৌধুরীর সভাপতিত্বে  অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ এহসান শাহ, শ্রম অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক খান মোতাহার হোসেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রাফেজা শাহীন। প্রকল্পের পরিচিতি উপস্থাপন করেন সিএসএস’র জহিরুল ইসলাম ও পরিবর্তনের আকবর হোসেন।     সভায় কেসিসি’র বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অবহিতকরণ সভায় জানানো হয়, ২০১৩ সালে বিবিএস পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী দেশে ৩৫ লাখ শিশু শ্রমিক নিয়ে দেশে আইন থাকলেও কমেনি ঝুঁকি। বন্ধ হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। এখনও ঘরে বাইরে কলকারখানা, ওয়ার্কশপ, রেস্তোরাঁ, মোটর গ্যারেজ, বাস ও টেম্পো, নির্মাণ কাজ, চা বাগান, ট্যারারি, প্লাস্টিক কারখানা, কৃষি ও গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে। উক্ত জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ১২ দশমিক ৮ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এছাড়া দুই লাখ ৬০ হাজার শিশু অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ