খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ডিআইজি মিজানের দুর্নীতি তদন্তে নতুন কর্মকর্তা

ঘুষ নয়, তথ্য পাচারের অভিযোগে এনামুল বাছির বরখাস্ত : দুদক

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:২০:০০

ঘুষের কারণে নয়, তথ্য পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ইকবাল মাহমুদ।
বুধবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘুষের বিষয় নিয়ে মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে। তথ্য টুইস্ট করা হয়েছে।’ ‘আমরা তাঁকে (এনামুল বাছির) ঘুষের কারণে বরখাস্ত করিনি। এটা তো প্রমাণের বিষয়। দুদকের অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে কীভাবে গেল, সেটাই বড় প্রশ্ন। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। যদিও এটাও প্রমাণের বিষয়,’ যোগ করেন চেয়ারম্যান।
এদিকে দুপুরে দুদক কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল বাছির বলেন, ‘গণমাধ্যম ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে আমার ক্ষতি করছে, তারা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন মনে করছে না।’
এনামুল বাছির আরো বলেন, ‘আমার ক্ষতি করে কুশল ও সালাম বিনিময় অপ্রয়োজনীয়। সাংবাদিকদের এড়াতে সাড়ে ১২টায় দুদকে ঢুকলাম। তবুও সাংবাদিকদের কাছ থেকে ছাড় পেলাম না।’
তদন্তে নতুন কর্মকর্তা : নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা (সাময়িক বরখাস্ত) দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের স্থলে বুধবার মঞ্জুর মোর্শেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত দুদকের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের পরিবর্তে এ বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের পরিচালক জনাব মঞ্জুর মোর্শেদকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এবং মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত), দুর্নীতি দমন প্রধান কার্যালয়, ঢাকাকে তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এমতাবস্থায়, পূর্ববর্তী অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুসন্ধান নথি বুঝে নিয়ে বিধি মোতাবেক অনুসন্ধান করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ 
অন্যদিকে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করতে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখ্তকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, লিগ্যাল অনুবিভাগের মহাপরিচালক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও প্রশাসন অণুবিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান। তারা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পেয়েছেন এ কারণে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে  সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’ 
এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানকে। এর চার মাস পর তাঁর সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। উপপরিচালক ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারীর হাত ঘুরে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান এনামুল বাছির।
এদিকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের ওই অডিওকে মিথ্যা-বানোয়াট বলে দাবি করেছেন  দুদক পরিচালক এনামুল। ডিআইজি মিজান এর সত্যতা যাচাই করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সোমবার তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ