খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

দু’পাড় দখল করে শত শত ঘর-বাড়ি নির্মাণ

ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও শালতা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৯ ০১:০০:০০

ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও শালতা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগ

৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভদ্রা ও শালতা নদী পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীর বেশিরভাগ স্থানে নিয়মমাফিক খনন হয়নি। এছাড়া দু’পাড়ে রাখা খননকৃত মাটির উপর ফের শত শত বসতবাড়ি নির্মাণ করে দখল করা হচ্ছে। ফলে নদী খননের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবশ্য বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খননকৃত নদী পরিমাপ করেই ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হবে। 
জানা গেছে, মাত্র ১২ থেকে ১৩ বছর আগেও ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা-শালতা নদী ঘিরে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চলতো। জোয়ার-ভাটা, মাছ শিকার ও নৌ-যান চলাচল ছিলো নিত্য-নৈমিত্তিক চিত্র। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ছিলো নদী দু’টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও নানা প্রতিকুলতার মুখে ভদ্রা ও শালতা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার পলিপড়ে নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যায়। আর ভরাটের সাথে সাথে নদীর বুক জুড়ে শুরু হয় অবৈধ দখল। প্রভাবশালীরা যে যার মত করে ভরাট হওয়া নদীর বুক দখল করে নেয়। দখলবাজ চক্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভরাট হওয়া জমিতে গড়ে তোলে বসত বাড়ি, রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। যার ফলে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় করুণ পরিণতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক  বসত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০৫  সালে নদী দু’টি খননের উদ্যোগ নেয় খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে লাল ফিতা বন্দী হয়ে পড়ে। এরপর ফের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ওই নদী দু’টি খননের জন্য ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) জমা দেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যার বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা  হয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর। ভদ্রা নদী দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তারাংশের তেলিগাতি হতে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন করে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করা হবে। নদীর প্রস্থ ১২০ ফুট এবং গভীরতা হবে ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত।
জানা গেছে, ৯টি প্যাকেজে কাজগুলো বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমিন এ্যান্ড কোং, হাসান এ্যান্ড ব্রাদার্স, কেএসএল জেভি, রানা বিল্ডার্স, সালেহ আহমেদ ও কামরুল এন্টারপ্রাইজ। দু’টি ব্রীজ নির্মাণ ছাড়া ইতোমধ্যে সকল খনন কাজ শেষ করা হয়েছে।
মোঃ মোক্তার হোসেন ও সাঈদ রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদী দু’টি খনন হলে ডুমুরিয়া উপজেলার সকল মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। উপজেলাবাসী স্থায়ী জলাবদ্ধতাকে মুক্তি পাবে। বিশেষ করে কৃষক শ্রেণীর মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ নদীর বেশিরভাগ স্থানে সঠিকভাবে খনন হচ্ছে না। নিচে কোথাও কোথাও পিঠ উঁচু রয়ে গেছে। যা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর খনন করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ জায়গায় প্রস্থও কম খনন করা হয়েছে। এছাড়া একই নদীর গাবতলা অংশ বড় এবং মলমলিয়া অংশ সরু করে খনন করা হয়েছে। অন্যদিকে দু’পাড়ে রাখা খননকৃত মাটির উপর ফের শত শত বসতবাড়ি নির্মাণ করে দখল করা হচ্ছে। সর্বোপরি দু’টি সড়কে ব্রীজ নির্মাণের কোন তৎপরতা এখনও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ফলে খননকৃত নদীর মধ্যে বিভাজন থেকেই গেছে। 
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং সহকারী প্রকৌশলী হাসনাতুজ্জামান বলেন, খননকৃত নদী পরিমাপ করেই ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু দু’পাড়ে রাখা খননকৃত মাটি ধসে পড়ায় প্রস্থ সঠিকভাবে খনন করা যায়নি। তবে যেটুকু খনন হয়নি তার বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। দখলের ব্যাপারে তারা বলেন, নদী মালিক জেলা প্রশাসন। তাই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দায়িত্ব তারা পালন করবে। তারা আরও বলেন, ব্রীজ নির্মাণের বিষয়টি ডিপিপিতে আগে ছিলো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতির কারণে কাঠের ব্রীজ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্রীজ নির্মাণ ও সড়ক কেটে দেয়ার পর দুই মাথা অন্য নদীর সাথে মিশিয়ে দেয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ