খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কথা রাখছে না মিয়ানমার, মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গারা থাকলে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়তে পারে, কূটনীতিকদের বাংলাদেশ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:১৭:০০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা যদি ফিরে যেতে না পারে, তাহলে তাদের মধ্যে সন্ত্রাসের তৎপরতা বেড়ে বিনিয়োগ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কার কথা কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ইদানীং (রোহিঙ্গাদের মধ্যে) কিছুটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হচ্ছে। এটা আমরা অনেক দিন ধরেই আঁচ করেছিলাম যে এই বিরাট সংখ্যক লোক যদি পড়ে থাকে, তাহলে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা আছে। এ জন্য মিয়ানমারকে আবার জোর দিয়ে বলব, তোমরা তোমাদের কথা রাখো। লোকগুলোকে নিয়ে যাও।’ ‘আর তাদের (মিয়ানমারের) বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা, তাদেরও আমরা সম্প্রতি বলেছি এবং বলব। তাদের আমরা জোর করে বলব, তোমরাই আমাদের উপদেশ দিয়েছ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে ফেরত দেওয়ার। আগে আমরা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে ফেরত দিয়েছি। তোমাদের বন্ধুকে বলো, ওদেরকে নিয়ে যেতে।’ ‘কারণ, যদি না নিয়ে যায় (রোহিঙ্গাদের মধ্যে) সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়তে পারে, তখন তোমরা যে ওখানে বিনিয়োগ করেছ বা করবে বলে আশা করেছ, সবকিছু ভেস্তে যাবে। যদি অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে সেখানে উন্নয়ন সহজে হয় না,’ যোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে কূটনীতিকদের সহায়তা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ, যাতে তারা (মিয়ানমার) রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এর আগে রোহিঙ্গা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় অবস্থানরত কূটনীতিকদের ব্রিফ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 
বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ফিরে যাক, এটাই আমরা চেয়েছি। বরং মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও তাদের কথা রাখছে না। আমরা তাদের সঙ্গে এ্যারেঞ্জমেন্ট করেছি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুই বছরের মধ্যে এটা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। তার পরে বলা হলো, ২০১৮ সালের নভেম্বরে তারা শুরু করবে। সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে গেলাম, তখন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। বোধ হয় প্রক্রিয়াটা শুরু হলো। তা হয়নি।’ ‘তারপর তারা আবার মিয়ানমারের আটশ গ্রামের মধ্যে দুইটা গ্রামে স্টাডি করেছেন। আটশর মধ্যে দুইটা! সেটা আসিয়ানকে দিয়ে, আসিয়ানের নামে এই স্টাডিটা করা হয়েছে! এবং সেখানে বলা হয়েছে, অবস্থা খুব ভালো। আটশ গ্রামের মধ্যে দুইটা গ্রাম, যেটা শোকেস গ্রাম। বলেছে, সেটা খুব ভালো করেছে! বাস্তবিক অর্থে মিয়ানমার তাদের কথা রাখেনি। মিয়ানমারের সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে তারা কোনো ভূমিকা রাখেননি। ছয় মাস আগে তারা যখন বলল, আমরা সব ঠিকঠাক করে দেব। ছয় মাস পরে এই মে মাসে আমরা যখন মিটিং করলাম, নতুন করে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন পর্যন্ত একটি রোহিঙ্গা ফেরত যায়নি। আমাদের দেশে যে রোহিঙ্গা আছে, একটিও যায়নি। তারা যে বারবার প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন, একটিও যায়নি। এমনকি যারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে আছে, আমাদের দেশে না, ওখানে আছে, একটিও ফেরত যায়নি। সুতরাং মিয়ানমার সারা বিশ্বে যা বলছেন, সেটা আসলে সত্য না।’
ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার। জাপানের ফিউচার এশিয়া সম্মেলনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া।
তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, সেটা তারা রাখছে না। রাখাইনে ৮০০টি গ্রামের মধ্যে তারা মাত্র দুইটি গ্রামের পরিস্থিতি ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের বন্ধু। তাদের নিয়েই আলোচনার মধ্যে, নিয়মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া দরকার। কিন্তু এ রকম ডাহা মিথ্যা আমরা কেমন করে কত হজম করতে পারি।’
কূটনীতিকদের সাথে বৈঠকের ব্যাপারে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান তাদের (কূটনীতিকদের) জানিয়েছি। এবং তাঁরা এক বাক্যে বলেছেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। মিয়ানমার যে রিপোর্টগুলো বলছে, বিভিন্ন লোক দিয়ে তৈরি করছে, সব ডাহা মিথ্যা। এগুলো পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করে না। আমরা তাদের বলেছি, আপনারা মিয়ানমারে যান, রাখাইনের যান। সহায়ক পরিবেশ যাতে তারা তৈরি করে, তার জন্য চাপ আরো আরো বৃদ্ধি করেন। মোটামুটিভাবে তাঁরা সবাই রাজি হয়েছেন।’
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান যে ওআইসির বিভিন্ন দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের সেদিন ওআইসির সামিট হয়। তারা মিয়ানমারের বিষয়টা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে নিয়ে যাবেন। গাম্বিয়া এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গাম্বিয়ার এ্যাটর্নি জেনারেল এ ব্যাপারে অত্যন্ত পরিপক্ব লোক। তিনি এই মামলাগুলো আগেও করেছেন। তিনি সেটা নিয়ে যাবেন।  ওআইসির সব দেশ এতে সমর্থন দিয়েছে।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ