খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন  সামাজিক সংস্কার ও আন্দোলন

১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন  সামাজিক সংস্কার ও আন্দোলন


আমাদের নারীরা আজ স্বাধীন দেশেই বিপন্ন ও নিরাপত্তাহীন। নারী নির্যাতন এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে শত চেষ্টা করেও নারীদের রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে দেখা যায় কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতন কিংবা অবমাননার শিকার হচ্ছে। নারী কেবল নির্যাতনের শিকারই হচ্ছে না, তাকে ধর্ষণ, গণধর্ষণ করা হচ্ছে এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর কায়দায় নৃশংসভাবে হত্যা করাও হচ্ছে। এ নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা ও বর্বরোচিত কর্মকান্ড কোনো গণতান্ত্রিক এবং সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। উপরন্ত বর্বর সমাজের চিত্রই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। 
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, চাহিদা মতো ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে না পারায় স্বামী, শাশুড়ি দেবর মিলে ঘরের দরোজা বন্ধ করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে গৃহবধূর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নানি শাশুড়ি যখন তাকে উদ্ধার করে তখন তার শরীরের অধিকাংশ ঝলসে গেছে। এই অবস্থায় পাঁচ দিন রেখে দেয়া হয় শিরিনা আক্তার নামের এই গৃহবধূকে। তাকে জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবশেষে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দিনমজুর বাবা মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। এই ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। দেশের সচেতন ও বিবেকবান মানুষ এমন নিষ্ঠুর ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। এমন ঘটনা কেবল বর্বর সমাজেই ঘটতে পারে। 
আমরা মনে করি, যৌতুক আইনি প্রক্রিয়ায় বন্ধের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক সংস্কার ও আন্দোলন। এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে সমাজের প্রতিটি সচেতন ও বিবেকবান মানুষকে। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সর্বত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। লোভ-লালসার জগৎ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা যৌতুকের দাবিতে নির্মম ও জঘন্য অপরাধে মেতে উঠছে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন আনতে রাষ্ট্রকেই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যৌতুকমুক্ত এক সুন্দর ও সুস্থির সমাজ গড়ে তুলতে না পারলে নারীদের রক্ষা করা যাবে না। যৌতুকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার সময় এসেছে। এ ধরনের সামাজিক অবিচার ও বর্বরতা দূর করতে কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরী। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ