খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে গমন নির্বিঘœ হোক 

০৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে গমন নির্বিঘœ হোক 

মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে বাংলাদেশে সড়কপথের যে হালচাল তাতে যাত্রীদের চলাচল যে কতটা নিরাপত্তাহীন, প্রতিদিন হতাহতের সংখ্যা থেকে সেটি অনুমান করা কঠিন নয়। এরই মাঝে ইদের ছুটিতে এর মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী গত তিন ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮শ’ মানুষ। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ঈদুল ফিতরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৩৯ জন। বাংলাদেশে তিনটি প্রধান গণপরিবহন যথাক্রমে সড়ক, ট্রেন ও নৌপথেই বেশি মানুষ চলাচল করে। এর এ সুযোগে প্রায় সব পরিবহন সংস্থা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অন্যান্য দেশে উৎসব-পার্বনে যাত্রী ও ক্রেতাদের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। আর আমাদের এখানে উল্টো তাদের কাছ থেকে বাড়তি পয়সা নেওয়া হয়। এটি দুঃখজনক।
ঈদের সময় সড়কে নৈরাজ্য আরও বেড়ে যায়। অধিক মুনাফার লোভে পরিবহন সংস্থাগুলো চালকদের অনেক বেশি কর্মঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করে। এ ছাড়া এ সময়ে ফিটনেন্সবিহীন যানবাহনও বেশি সড়কে নামানো হয়। ঈদ বা অন্য কোনো পার্বনে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে যে কয়েক গুণ বেশি মানুষ চলাচল করেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভাবিত বলে মনে হয় না। ঈদের আগে কিছু ট্রেনের বগি বাড়িয়ে, কিছু ভাঙা সড়কে চুনকাম করে, মহাসড়কে যান চলাচলের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করে। ফলে ঈদের সময়ে যাত্রী সাধারণ শুধু অবর্ণনীয় দুর্ভোগেরই শিকার হন না, বহু পরিবারে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞরা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া যানবাহন চালানোর পাশাপাশি ত্র“টিপূর্ণ যানবাহন, সড়ক ও সেতুর নাজুক অবস্থাকেও চিহ্নিত করেছেন। যানবাহন সড়কে বের করার আগে চাকা বা ইঞ্জিন ঠিক আছে কি না, সেটা পরীক্ষা করা যে বাধ্যতামূলক, তা অনেক পরিবহন সংস্থা ও চালকই মানেন না। 
প্রতি বছর ঈদের আগে সরকারের নানা পদক্ষেপ আর ঘোষণার  পরও দুর্ঘটনা রদ হয় না। ঈদের সময়ে যে কয়েক গুণ যাত্রী চলাচল বেড়ে যায় , তাদের সামাল দিতে প্রয়োজন টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ। বর্ধিত যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের সংখ্যা বাড়াতে হবে, তাই বলে ফিটন্সেহীন যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না। ঈদের সময় পরিবহন মালিকদের মধ্যে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা যায়, তাও বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতি যে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি আমলে নিলে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়। ঝড়ের আশঙ্কা আমলে নিয়ে লঞ্চ, স্টিমার ও ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা প্রয়োজন। বর্ষার প্রকোপ কম থাকায় এবার সড়কপথে ঝুঁকি কম। তারপরও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ