খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুশী ও ইবাদতের অপূর্ব মিলন ঈদ  

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে | প্রকাশিত ০৪ জুন, ২০১৯ ০১:০৭:০০

আজ ২৯ রমজান। আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। ইসলাম শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ একটি ধর্মের নাম নয়,বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। বিজাতীয় কোন কৃষ্টি-কালচার, রীতি-নীতি ধার করা বা আমদানী করার কোন সুযোগ রাখেনি ইসলাম। এর জলন্ত প্রমান ঈদ। হুজুর (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর দেখলেন, মদিনার লোকেরা বছরে দুই দিন আনন্দ-উৎসবের দিন হিসাবে আমোদ-ফূর্তি এবং খেলাধুলায় লিপ্ত হয়। এটি ছিল ইসলাম পূর্ব জাহিলিয়াত যুগের রীতি। হুজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে এটি করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা এই দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুইটি দিন তোমাদিগকে দান করেছেন-ঈদুল আযহার দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন (মেশকাত: আবু দাউদ)। প্রত্যেক জাতিরই একটি খুশীর দিন থাকে, আর মুসলিম জাতির খুশীর দিন হল দুই ঈদ। ঈদ আমাদেরকে সাম্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শেখায়। এই কারণেই ঈদগাহে  যাবার পূর্বেই  ফিতরা আদায়ের আদেশ দেয়া হয়েছে ধনীদের, যাতে অভাবী, গরীব-দুঃখীরাও ঈদের আনন্দ মিছিলে শরীক হতে পারে। ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ।’ হাঁ, ঈদ মানেই হলো খুশির বার্তা। ঈদ মানে আনন্দ হলেও, এটি ¯্রফে আনন্দ আর ফূর্তি নয়; নিষ্কলুষ আনন্দ আর ইবাদতের এক অপূর্ব মিলনের নাম ঈদ। এই কারণে ঈদের উৎসবও ইবাদতের আদল বা মেজাজেই করতে হবে। শুধু নাজায়েজ হাঁসি তামাশা আর আমোদ ফূর্তিতে যাতে ঈদের সময়টুকু না কাটে সে দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। ঈদ যেমন আনন্দ তেমনি ইবাদতও বটে। এ কারণে ঈদেরও কিছু সুন্নত তরিকা আছে। এর সুন্নত তরিকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঈদের নামাজের আগে গোসল করে নেয়া, ভালো পোশাক পরিধান করা, আতর-সুগন্ধি মেখে ঈদগাহে যাওয়া, সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হলে তা নামাজের আগেই আদায় করে দেয়া, পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোন ওজর না থাকলে মসজিদের পরিবর্তে মাঠে বা ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ পড়া। সম্ভব হলে এক রাস্তায় যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা, ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া এবং নিজ পরিবারের জন্য সাধ্যমত ভাল খাবারের ব্যবস্থা করা। তবে ঈদুল ফিতরের দিনে ফজরের ফরজ নামাজের পরে ঈদের জামাত পর্যন্ত আর কোন সুন্নত বা নফল নামাজ পড়া সমীচিন নয়। আমরা সাধারণতঃ আনন্দ-ফূর্তির সময় মহান স্রষ্টার কথা বেমালুম ভুলে যায়। কিন্ত ঈদ হল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আনন্দ-ফূর্তির সাথে সাথে আল্লাহর স্মরণ এবং ইবাদতও এই দিন মানুষ বেশী করে থাকে। ঈদের দিনে সকল মুসলিম আল্লাহর প্রশংসা বার্তা’ আল্লাহ আকবার আল্লাহ আকবর . . . . .’ ধ্বনি দিতে দিতে ঈদগাহে যায়। শুধু মাটির মানুষ নয়, এই আনন্দ ফোয়ারায় যোগ দেন স্বয়ং আসমানের নূরের ফেরেশেতারা। এমনকি মহান রাব্বুল আলামীনও এই দিন বান্দাদের প্রতি খুশী ও সন্তুষ্ট হয়ে পুরস্কার প্রদান করেন এবং সবাইকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন। 
(লেখক: আরবি সাহিত্যিক, ইমাম ও খতিব, নাজিরঘাট জামে মসজিদ, নিরালা, খুলনা।)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮




পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


ব্রেকিং নিউজ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২