খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঈদ-উল-ফিতর : এক অনন্য আনন্দ উৎসব

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০:০০

কুরআনের মাস, সিয়ামের মাস, কিয়ামের মাস, তাকাওয়ার মাস, প্রশিক্ষণের মাস, দান-সদকার মাস, কদরের মাস, ই’তিকাফের মাস, ইবাদতের মাস, অতিক্রম করে প্রতি বছরই ঈদ আসে আর বহন করে আনে আনন্দোৎসবের নতুন পয়গাম, স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের ভাগ্যের প্রসন্নতা ও সূচনার রঙ্গীন কাহেনী। উন্মুক্ত করে দেয় আনন্দ-উল্লাসের নতুন দ্বার। প্রতিটি নর-নারী নতুন নতুন বসনে, ভূষনে সুসজ্জিত হয়ে পবিত্র ঈদ উদযাপন করে। 
ঈদ শব্দের অর্থ ঃ ঈদ শব্দটি “আওদ” থেকে উদ্বুত, ঈদ এর অর্থ আনন্দ, খুশী, আমোদ, আহলাদ, উৎসব ইত্যাদি। “আওদ” অর্থ ফিরে আসা। পুনঃ পুনঃ আসা, বারবার আসা। আর ঈদুল ফিতর অর্থ হলো খুশী, আনন্দ ও উপবাস ভঙ্গকরণ। সুদীর্ঘ একটি মাস আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে রোজা রাখার পর বিশ্ব মুসলিম এই দিনটিতে রোজা ভঙ্গ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে আনন্দোৎসব করে বলে এর নামকরণ হয়েছে “ঈদুল ফিতর”। রমযান মাসের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখে সে মাসের প্রথম দিন মুসল্লিম মিল্লাত ‘ঈদুল ফিতর’ উপলক্ষে ঈদগাহে অথবা মসজিদে সমাবেত হয়ে মহানন্দে ও উল্লাসে ধনী-দরিদ্র, আমীর-ফকীর, ছোট-বড়, শিক্ষিত-অশিক্ষিত মিলিতভাবে যে দু’রাকাআত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। 
ঈদ এর উৎস ঃ এবার জেনে নেই ঈদ এই আনন্দ উৎসব পর্বের উৎস কি? আরবের জাহেলি সমাজে ইসলাম আগমনের পূর্বে বিশেষ করে মদীনাতে প্রতি বছর নওরোজ ও মেহেরজান নির্দিষ্ট দু’টি দিনে আনন্দ উৎসব, মেলা, খেল-তামাশা, নাচ, গান, জুয়াখেলা, পাশাখেলা ও বর্শা নিক্ষেপ ইত্যাদি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। প্রতি বছরের এই দিনগুলোতে মদীনায় লোকেরা খেল-তামাশা, নাচগান আর আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতো। হজরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে এলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন মদীনার লোকেরা বছরের দু’টি নির্দিষ্ট দিনে আনন্দ উৎসব ও খেলাধুলা করছে। এক পর্যায়ে রাসূল (সাঃ) তাদের কাছে জানতে চাইলেন, এই নির্দিষ্ট দু’টি দিন কি ও কেন? তারা জবাবে বললেন, ইসলাম আগমনের পূর্বে আমরা বংশানুক্রমে প্রতি বছর এই নির্দিষ্ট দু’টি দিনে খেল-তামাশা ও আনন্দ উপভোগ করতাম। তাদের কথা শোনার পর রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এই দু’টি দিনের পরিবর্তে উৎকৃষ্টতর দু’টি দিন নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হলো শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ ঈদুল ফিতর আর অপরটি হলো জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ তারিখ তথা ইয়াওমুল আরাফাহ বা হজ্বের পরের দিন ঈদুল-আযহা। আজকে আমরা আলোচনা করবো ঈদুল-ফিতর সম্পর্কে। 
ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও মর্যাদা ঃ ঈদ বিশ্ব-মুসলিম এর একটি বার্ষিক সম্মিলন ও উৎসবের দিন। ঈদের দিন নামাজ আদায়ের লক্ষে ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে সকল ভেদাভেদ ও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্মিলিতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য। ঈদের পরশে ভ্রাতৃত্ব ও প্রেম-ভালোবাসার স্বর্গীয় বন্ধনে পরস্পরকে বেঁধে নেয়া উচিত। ঈদের দিন মুসলিম মিল্লাতের জন্য এক পরম আনন্দ ও উৎসবের দিন। পূর্ণ একমাস সিয়াম সাধনা আর কঠোর সংযম ও কৃচ্ছতা সাধন শেষে মানুষ হয়ে খাঁটি মুমিনে পরিপূর্ণ। ঈদগা মাঠে নামাজ শেষে একে অপরের হাতে হাত, বুকে বুক রাখলে মুসলমান ভুলে যায় সারা মাসের উপবাসের কষ্ট। ঈদের দিনের মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেছেন ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ লাভের অদম্য স্পৃহায় দুই ঈদের রাতে জেগে ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবে, সেদিন তার অন্তর এতটুকু ভীত-সম্প্রস্ত হয়ে পরবে না, যে দিন অন্য সভার অন্তর ভীত-সম্প্রস্ত মৃতব হয়ে পরবে। অন্য এক হাদিসে আছে, ‘যারা ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য ঈদের ময়দানে একত্রিত হয়, তাদের সম্পর্কে দয়াময় আল্লাহ তাঁর ফিরিশতাদের জিজ্ঞেস করেন, যারা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে আজ এখানে সমবেত হয়েছে তাদের কি প্রতিদান দেয়া উচিত? ফিরিশতারা জবাবে বলেন তাঁদের  পূণ্যময় কাজের সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দেয়া দরকার। তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইজ্জতের শপথ করে বলেন, অবশ্যই তিনি তাদের প্রার্থনা কবুল করবেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা ঈদের নামাজ সমাপনকারী তাঁর নেক বান্দাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আর তোমাদের কৃত অতীত পাপকে নেকীতে পরিণত করে দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে নবী কারিম (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপনকারীরা নিস্পাপ অবস্থায় ঈদের মাঠ থেকে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করে, যেন তারা নবজাত শিশুর ন্যায় নিস্পাপ। ঈদের রাতের ফজিলত সম্পর্কে তাবরানী শরীফে উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার রাতে অর্থাৎ শাওয়াল মাসের প্রথম রাত আর জিলহজ্ব মাসের দশম রাত জাগতির থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকবে, যে দিন অন্যান্য সকল আত্মা মরিবে, সেদিন তার আত্মা মরবে না। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আতঙ্কে অন্যান্য লোকেরা আত্মা ভয়ে ভীত মৃত প্রায় হয়ে যাবে কিন্তু দুই ঈদের রাতে জাগরনকারীর আত্মা তখন ঠিকই ভয়ে ভীত হবে না। 
ঈদ ও আমাদের সংস্কৃতি ঃ সংস্কৃতি একটি জাতির শেকড়। এ শেকড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে গোটা জাতিসত্তা। সংস্কৃতির বিকাশ প্রভাবিত করে ব্যক্তি জীবন সামষ্টিক পরিমন্ডলকে, সংস্কৃতির বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে মূল্যবোধ, নৈতিক শক্তি ও মানবিকতা। মুসলিম জাতির চেতনায় তাওহীদের শিকড়, তাই ঈদ উদ্যাপন হবে সম্পূর্ণ ইসলামী সংস্কৃতির আদলে, ঈদ সংস্কৃতিতে যা আছে তাহলো, তারাবীহ নামাজ, সিয়াম বা রোজা, ইফতারী ও সাহরী, ঈদের খুশী সভার মাঝে বিলিয়ে দিতে যাকাত ও ফিতরা আদায়। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে নতুন করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ঈদের জামায়াতে ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা সকলে মিলে শরীক হওয়া। নামাজ শেষে শত্র“-মিত্র সভার সাথে কোলাকুলি এক অনাবিল দৃশ্য। 
শিশু ও কিশোরদের মাঝে ঈদ ঃ বড়দের ঈদের আনন্দের পাশা-পাশি ছোট ছোট কমলমতি শিশু কিশোরেরা ঈদের মহা আনন্দ ও উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে। ঈদের দিন ব্যবহারের জন্য নতুন নতুন জামা-কাপড়, জুতা, মোজা, পাঞ্জাবী কেনাকাটা করে। ঈদের দিন এই নতুন পোষাক পরিধান করে পাড়ায়-মহল্লায় ঘুরে বেড়ায়। এবং বড়দের সালাম করে নতুন টাকা বকসিস নিয়ে অনেক আনন্দ উপভোক করে থাকে। 
ঈদের প্রকৃত চেতনা ঃ বর্তমানে পবিত্র রমযানের আসল হকিকত থেকে জাতি অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। চতুদিকে পবিত্র রমযানের প্রস্তুতির চেয়ে ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি অনেক গুণ বেশী। অথচ সঠিকভাবে রমযান পালন ছাড়া ঈদের আনন্দ যে পুরোপুরি তাৎপর্যহীন। তা অনেকেই বুঝে না বুঝার ভান করে। ঈদুল ফিতরের দিন রোজাদারদের পুরস্কারের দিন। যে মুমিন একটি মাস সিয়াম সাধনা করে রহমত, মাগফিরাত, ও নাজাত অর্জন করতে পেরেছে, সেই পারে ঈদুল ফিতরের আসল তাৎপর্য উপলব্ধি করতে এবং ঈদের রূহানী পরিবেশ তৈরি করতে। আমাদের মনে রাখতে হবে কোন ভাবেই ইসলামী সংস্কৃতির ঈদের প্রকৃত চেতানা থেকে আমরা যেন দূরে চলে না যাই।
প্রচলিত ঈদ অপসংস্কৃতি ঃ ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু আজ ঈদ উদ্যাপনের যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে তা দুঃখজনক। ঈদ একটি মুসলিম জাতির অভিন্ন উৎসব। এই উৎসব ইসলামী সংস্কৃতির আদলেই হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় ঈদের নামে অপসংস্কৃতি সমাজে, দেশে সয়লাভ হয়ে আছে। যেমন অশ্লীল সিনেমা, কিছু মিডিয়ায় নানা ধরনের অপসাংস্কৃতির অনুষ্ঠান মালা, ঈদ মেলার নামে অশ্লীলতার আয়োজন ইত্যাদি।
কেমন হওয়া উচিত মুসলমানদের ঈদ ঃ একজন মুমিন মুসলমানের ঈদ উৎসব উদ্যাপন হবে একমাত্র শরীয় বিধান অনুসারে। কোন শরীয়ত বিরুধী কাজ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে ঈদ উৎসব ব্যহ্যিকতা নয়, আনুষ্ঠানিকতা নয়, পবিত্র ঈদ প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় ছড়িয়ে দেবে অনাবিল আনন্দের পরশ। এক অপার্থিব সুখের অনুভূতি নিয়ে একে অপরের মাঝে এ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে। ধনীরা এগিয়ে আসবে সমাজের দুঃখী দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে, যার জন্য ইসলাম রোজাদারদের ভুল-ত্র“টি সংশোধনের জন্য ‘ফিতরার’ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিতরা যেমন রোজাকে শুদ্ধ করে, তেমনি দরিদ্র জনগোষ্ঠী একটু ভালোভাবে ঈদ পালন করতে পারে, যার জন্য ঈদের পূর্বে ‘ফিতরা’ আদায় করা উচিত। আত্মীয় সম্পর্ক রক্ষা করে তাদের হক আদয় করতে হবে। একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবে এবং বলতে হবে ‘তাকাব্বাল্লাহ মিল্লা ওয়া মিনকা’ অর্থাৎ আল্লাহ আমার ও আপনার পক্ষ থেকে ঈদকে কবুল করুন।
ঈদ শুধু আনন্দ নয়, ইবাদতও বটে ঃ ঈদ শুধু আনন্দ নিয়ে আসেনা, ঈদ আগমন করে গুণাহ থেকে মুক্তির ঘোষণা নিয়ে। তাইতো ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ঈদের দিনে পথের পার্শ্বে বসে একাকি কাঁদছিলেন। একজন এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমীরূল মুমিনীন! এই খুশির দিনে আপনি এখানে বসে কাঁদছেন কেন? জবাবে হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমিতো জানিনা, আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন কিনা। আমার পরিনতি কি হবে? এ ছিল জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত খলিফার মানসিক অবস্থা। আমাদের গুণাহ মাফের জন্য মানসিক অবস্তা ও এমনটি হওয়া উচিত। তাই আমাদের স্বরণ রাখতে হবে, পরকালে সব কিছু মহান আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে, ঈদের দিন কোন অপসংস্কৃতি লালন পালন না করে, যে কাজগুলি করলে নেকী অর্জন হয় সেই কাজ গুলো বেশী বেশী করার আপ্রান চেষ্টা করব। 
প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী উৎসব ঃ ঈদ মাসব্যাপী মহান আল্লাহর গোলামী ও তাবেদারিতে নিজেকে নিবেদিত করতে পারার খুশির দিন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার সময় একজন যে সততা, সত্যনিষ্ঠা ও আল্লাহ ভীতির পরিচয় দিয়েছে, সারা বছর সেটাই তার জীবনাদর্শ হওয়া উচিত। সূর্যোদয়ের আগেই সেহেরী খাওয়া শেষ করে দেয়। আবার সূর্যাস্তের সাথে সাথে সে ইফতারী করে। পুরো এক মাসব্যাপী মুসলমান এভাবে আত্মসংযম, সততা, সত্যনিষ্ঠা, আল্লাহ ভীতি, আল্লাহর গোলামী ও আনুগত্য এবং নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতার যে অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, ঈদুল ফিতর সেই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী উৎসব অনুষ্ঠান। রামযানের এক মাসের প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে যদি বছরের বাকি মাসগুলোতে পরিচালনা করতে পারি তাহলে এই ঈদ হবে আমাদের জীবনে সুন্দর ও স্বার্থক। 
লেখক: মুফাসসিরে কোরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯







জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ