খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ঈদ আসুক সবার ঘরে

আলহাজ্ব মাওঃ আরিফ বিল্লাহ | প্রকাশিত ০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০:০০

ঈদ শব্দটি শোনামাত্রই হৃদয়ে জাগে খুশির দোলা। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে ঈদ হল বছরের সেরা খুশির দিন। যে খুশির আমেজ শুরু হয় পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা থেকে। অনেকে ভাবতে থাকেন এবার ঈদের নতুন কাপড় নেব; কেমন ডিজাইন হবে? দামটা কত হবে? কোন মার্কেট থেকে কিনব? কাকেই বা সঙ্গে করে ঈদ মার্কেটে যাবো? এবার ঈদে কাকে কাকে সালাম করব? কার কাছ থেকে কত টাকা ঈদের সালামি আদায় করব? এসব ভেবে ঘুমহীন রাত কেটে যায়। অনেকে রীতিমত তালিকা তৈরি করে সুপরিকল্পিত ভাবে কাজ শুরু করে। কারণ বন্ধুদের সাথে গল্পে জিততেই হবে যে, এবার ঈদে কে কত টাকা ঈদের সালামি আদায় করতে পেরেছে।
আসলে ঈদের আনন্দ টাই পাওয়া মাঝে নয়। যারা পায় না, শুধু দেয় তাদের যে কোনো আনন্দ নেই একথা সত্যি নয়। কারণ শুধু ভোগে নয় ত্যগের মধ্যেও আনন্দ আছে। ঈদের দিনে নিজের পরিবার আপনজন কাছের মানুষদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারাটাও কম আনন্দের নয়। তবে দেওয়া আর নেওয়া যদি একই সাথে মিলে যায় তবে সে আনন্দের আর সীমা থাকে না। তাই স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন যারা শুধু দেয় তাদের জন্যও সাধ্যমত কিছু করা দরকার। কমবেশি যাই হোক উপহার সেতো উপহারই। আর যাদের সাধ্য নেই নিজেকে ঈদের সাজে সাজানোর মত; আর না কাছের মানুষদের ঈদের সাজে সাজানোর মত; তাদের কাছে ঈদ আসে চোখের জল আর দুঃখের বন্যা নিয়ে। ঈদের বাঁকা চাঁদ তাদের জন্য হয় খুবই কষ্টের। ছোট বাচ্চাটা যখন তার পিতার গলা জডড়য়ে ধরে মিনতির সুরে বলে- “ও বাপ জান! আমাকে তুমি ঈদের জামা কিনে দিবা না? এবার ঈদে কি আমার নতুন জামা হবে না? অসহায় পিতা ভাবতে থাকেন-কোথায় পাব টাকা? কিভাবে কিনব কলিজার টুকরা সন্তানের জন্য একটি নতুন জামা? সন্তানের কান্না আর বাপের অন্ধকার মুখের দিকে তাকিয়ে ছেড়া কাপড় পরা মা বলে-আমার জন্য ঈদের কাপড় লাগবে না বাচ্চাটির জন্য একটি নতুন কাপড় কিনে আনো। ওদের ঈদের দিনও অন্যদিনের মত হয়। থাকে না কোন মজাদার সুস্বাদু খাবার, থাকে না কোন আনন্দ উৎসব। মলিন দু’টি চোখের কোণে থাকে অশ্র“সজল দীর্ঘনিঃশ্বাস। যে নিঃশ্বাসের দহন সইতে না পেরে কত পিতা আত্মহত্যা করে। কেন যে আত্মহত্যা করে পয়সাওয়ালারা তা বুঝবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে চান। সুন্দর এ স্বপ্নের জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তবে এই চাওয়া বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাস্তায় বসে কান্না আর আর্তনাদের চিৎকার করা রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল শ্রমিক এবং চাপে অভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরব বকেয়া বেতন ভাতা দিতে হবে, নন-এমপিও কর্ম শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও দিতে হবে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ ঈদ বোনাস দিতে হবে, অভাবী অনাহারীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তবেই আসবে ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ।
তাছাড়া ঈদ কেবল মুসলিম জাহানের ধর্মীয় উৎসব নয়; ঈদ বাঙালি জাতির একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও বটে। সাম্প্রদাযড়ক সম্প্রীতির এই দেশে নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করা সত্ত্বেও অনেকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আর্থিকভাবে এবং সশরীরে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে সাম্প্রদাযড়ক সম্প্রীতির মহান পরিচয় তুলে ধরে থাকেন। তাই আমরাও ধর্ম বর্ণ বিভেদ ভুলে সকলকে আমন্ত্রণ জানাই! আসুন আমরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই, আসুন সবাই এক কাতারে দাঁড়য়ে ঈদের নামাজ আদায় করি, কোলাকুলি করি বুকে বুক মিলিয়ে, খাওয়া-দাওয়া আনন্দ উৎসবে মাতি সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আসুন বাস্তবায়ন করি বর্তমানে বাঙালির সাম্প্রদাযড়ক সম্প্রীতির অন্যতম উদার বাণী-ধর্ম যার যার উৎসব সবার।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

কুরবানীর ইতিহাস ও বিধান

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৯

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

ঈদুল আযহা : তাৎপর্য

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৯







জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

জবাইয়ে যে ভুল করলে কুরবানী হয় না

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৬

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

গরুর মাংসের সাদা ভুনা

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:১৪

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

পোলাওয়ের সাথে মাটন কোফতা কারি

১১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৯


ব্রেকিং নিউজ