খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্রসঙ্গ: অতীত ইতিহাসে উৎসব ও বর্তমান বাস্তবতা ঈদ

প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী | প্রকাশিত ০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০:০০

প্রসঙ্গ: অতীত ইতিহাসে উৎসব ও বর্তমান বাস্তবতা ঈদ

উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির এক অনবদ্য ঐতিহ্য। মানুষের আনন্দ প্রকাশ ও লাভের উত্তম মাধ্যম হলো উৎসব। উৎসব পরিবার কেন্দ্রিক হতে পারে, হতে পারে সমাজ বা জাতি গোষ্ঠি কেন্দ্রিক। আবার হতে পারে রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রিক। সময়ের বিবর্তনে কালক্রমে উৎসবের রূপ ও ধারায় পরিবর্তন ঘটেছে। সৃষ্টি হয়েছে আবার নতুন ধারার উৎসব। প্রতিটি উৎসবের স্বাদে আবার ভিন্ন ধারার বৈশিষ্ট্য ভিত্তিক কার্যক্রমও বিদ্যমান। কোনটিতে রয়েছে সমাজ ও জাতীয়তার ছাপ, কোনটিতে ধর্মের ছাপ, আবার কোনটিতে বিদ্যমান রাজনীতির ছাপ। 
আদীম যুগের পশু শিকার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় শিকার অনুসন্ধানের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবির্ভাব, তাহা আজ মহীরূহ রূপ ধারণ করে আধুনিকতার নানা ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। অতীতে বেশির ভাগ উৎসব বা অনুষ্ঠান ছিল কৃষি ভিত্তিক পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রাচীন আচার অনুষ্ঠানগুলিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অতিপ্রাকৃতিক শক্তিকে বশিভূত ধারায় আনায়ণের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার উৎসবের একটা ধারা বিদ্যমান ছিল। তখনকার স্বত:স্ফুর্ত ধারায় অনুষ্ঠিত উৎসব সমূহ আধুনিক কালের যান্ত্রিকতার ছোয়ার সংস্পর্শে এসে অনেক ক্ষেত্রে বর্তমানে তাহা প্রয়োজন ভিত্তিক স্বদিচ্ছার রূপ পরিগ্রহ করেছে।
বাঙালি সত্তায় যে সব উৎসব প্রচলিত তন্মধ্যে ধর্মীয় সত্তার উৎসব সমূহ বিরাটকায় ন্থান দখল করে আছে। এই সব উৎসব সমূহ অনেক সময় শুধু মাত্র অসীম সত্তার কৃপা দৃষ্টি লাভের জন্য করণীয় কৃতকার্যের মধ্যে আবদ্ধ থাকেনি বরং আমাদের মাঝে সে সব উৎসব সমূহ দেখা দিয়েছে সামাজিক মিলন মেলার এক সেতু বন্ধন রূপে। সময়ের বিবর্তনে ধর্মীয় উৎসব সমূহ লোক সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে, বদল হয়েছে তার ধর্মীয় শুদ্ধ রূপ। ফলশ্রুতিতে স্থান ভেদে একই জাতী ও গোষ্ঠী ভিত্তিক ধর্মীয় জীবনবোধে পরিবর্তন ও পরিমার্জন সূচিত হয়েছে। 
বাংলাদেশের মুসলমানদের দুটি প্রধান উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদের সামাজিক অর্থ উৎসব আর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন। অন্যান্য সামাজিক উৎসবের মত ঈদও বার বার ফিরে আসে। আদি যুগে এ দুটি উৎসব পালনে গ্রামভিত্তিক জমায়েতের প্রভাব বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে তাতে ধর্মীয় বিশ্বাস যুক্ত হতে দেখা যায়। তদুপরি উৎসব সমূহ উৎযাপনে সময়ের আধিপত্যবাদের ছোঁয়া সব সময় প্রতীয়মান হয়েছে। তার সঙ্গে সংযুক্ত হতে দেখা গেছে লোকসংস্কৃতি, আর্থীক উপযোগিতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনাবোধ।  
মুঘল আমলে ঈদের দিনের আনন্দ বহিরাগত উচ্চপদস্থ এবং ধনাঢ্য মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ঈদ পালনে আদর্শগত পার্থক্য থাকলে ও মুঘলরা ধর্মীয় বিশ্বাসকে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গদেশে একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে তুলেছিলেন।
ঊনিশ শতকের শেষের দিকে ঈদের আনন্দ উৎযাপনে যুক্ত হয় লোকায়েত মেলা। উক্ত ধারার মেলা বর্তমান সময়ে বিদ্যমান। বিগত দিনে ঈদ উৎযাপনের ধারার দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে খাওয়া দাওয়া ছিল ঈদ উৎসবের প্রধান অঙ্গ। মফস্বলে খাবার তালিকায় স্থান পেত কোরমা- পোলাও, নানা প্রকার পিঠা, সেমাই ইত্যাদি। তবে শহরে এ দেশীয় খাবার তালিকায় ভীন্নতা প্রতীয়মান হতো। ঢাকায় উনিশ শতকের ঈদের বৈশিষ্ট্য ছিল ঈদ মিছিল। পরবর্তী কালে ঈদ উৎসবে স্থানীক সংস্কৃতির লোকাচার যেমন- চাঁদ দেখা, কদমবুসি করা, ঈদ মেলা ইত্যাদি যুক্ত হয়েছে।
ঈদ উৎসবে শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব বিদ্যমান। বিশ শতকের ত্রিশ- চল্লিশ দশকে  ঢাকার রমনা, আরমিটোলায় ’খটক’ নাচ অনুষ্ঠিত হতো। ঢাকায় ঘোড়-দৌড়, হিজরা গান পরবর্তীতে ঈদ উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়। উপমহাদেশে মুসলিম স্বাতস্ত্র্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হলে ঈদ উৎসব নতুন আঙ্গিকে গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে দুটি ঈদই জাতীয় ধর্মোৎসবে পরিণত হয় এবং তখন থেকে বাঙালি ঈদ উৎসবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আসছে।
আর্থ সামাজিক অবস্থার ভিন্নতার জন্য বা সামাজিক উঁচু- নিচু ভেদাভেদের জন্য ঈদ উৎসব আয়োজনে ভিন্নতা হতে পারে। নগর- মফস্বল ভেদে উৎসব উৎযাপনে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। তথাপি ঈদ মানে পরিবার পরিজন নিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের আলোকে রীতিনীতি প্রতিপালনের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ ও লাভের অনুষ্ঠান, যার আগমন বার্তা অনিবার্য বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত। 
[ সহকারি অধ্যাপক , মনোবিজ্ঞান বিভাগ সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা।]


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


ঈদ আসুক সবার ঘরে

ঈদ আসুক সবার ঘরে

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০

ঈদ সবার খুশির না

ঈদ সবার খুশির না

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০

ঈদের রেসিপি

ঈদের রেসিপি

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০

ঈদের রেসিপি

ঈদের রেসিপি

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০

ঈদের রেসিপি

ঈদের রেসিপি

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০


একটি সাধারণ গল্প

একটি সাধারণ গল্প

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০

ঘুণপোকা

ঘুণপোকা

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০



ঈদের বারতা

ঈদের বারতা

০৪ জুন, ২০১৯ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ