খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ্গা নবীর সুন্নত

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে | প্রকাশিত ০৩ জুন, ২০১৯ ০০:৪০:০০

আজ ২৮ রমজান। কাল চাঁদ দেখা গেলে পরশু পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক জাতিরই একটি খুশীর দিন থাকে, আর মুসলিম জাতির খুশীর দিন হল দুই ঈদ। ঈদ আমাদেরকে সাম্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শেখায়। হুজুর (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর দেখলেন, মদিনার লোকেরা বছরে দুই দিন আনন্দ-উৎসবের দিন হিসাবে আমোদ-ফূর্তি এবং খেলাধুলায় লিপ্ত হয়। এটি ছিল ইসলামপূর্ব জাহিলিয়াত যুগের রীতি। হুজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে এটি করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা এই দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুইটি দিন তোমাদিগকে দান করেছেন-ঈদুল আযহার দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন (মেশকাত: আবু দাউদ)। হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ্গ (মেশকাত: মুসলিম)। ঈদের চাঁদ দেখার ব্যাপারে নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশ হল, যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে রোজা ৩০টি পূর্ণ কর (সহীহ মুসলিম)। ঠিক একই বিষয় আরও অনেক সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে। নিজ চোখে এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার চেষ্টা করাও নবীজীর একটি সুন্নত। এটি একটি অত্যন্ত সহজ হিসাব এবং সকলের জন্য এটাই সুবিধাজনক। এর ভিতরে কোন জটিলতা নেই। একটি দেশের মধ্যে যদি কোন এক জায়গায় চাঁদ দেখা যায় তাহলে তা সেই দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে হাদিসে বর্ণিত আছে যে, এক দেশের চাঁদ অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না (সহীহ মুসলিম)। ইসলাম অত্যন্ত সহজ একটি ধর্ম। পবিত্র কুরআনে চাঁদকে একটি ঝুলন্ত ক্যালেন্ডার এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন চাঁদ আল্লাহর অপার কুদরতের একটি জ্বলন্ত নিশানা। নতুন চাঁদ দেখে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের  এই দোয়া পড়ার কথা বলেছেন, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমা-নি ওয়াছ ছালামাতি ওয়াল ইসলামি, রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ; হিলা-লু রুশদি ওয়া খইর। অর্থঃ হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। হে চাঁদ তোমার ও আমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ (তিরমিজী)। এছাড়া অন্যান্য দোয়ার কথাও হাদিসে বর্ণিত আছে। আমরা অনেক সময় ঈদের নতুন চাঁদ দেখে সব কিছু ভুলে যাই, ইবাদতের কথা আর মনে থাকে না। অথত ঈদের রাত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যদি কোন ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত জেগে ইবাদত করে তাহলে যে দিন অন্যান্য দিল মরে যাবে সেদিন তার দিল মরবে না অর্থাৎ কিয়ামতের দিনের আতঙ্কে কারণে অন্যান্য লোকের অন্তর ঘাবড়ে গিয়ে মৃত প্রায় হয়ে যাবে, কিন্তু দুই ঈদের রাত্রে জাগরণকারীর অন্তর তখন ঠিক থাকবে (তাবারানী)। সুতরাং ঈদের দিন রাতেও আমাদের বেশী বেশী ইবাদতে মশগুল থাকা উচিৎ। 
(লেখক: আরবি সাহিত্যিক এবং ইমাম ও খতিব, নাজিরঘাট জামে মসজিদ, নিরালা, খুলনা।)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮




পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা ২৩ অক্টোবর

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

ব্যভিচার : কারণ ও তার শাস্তির বিধান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


ব্রেকিং নিউজ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২