খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্ষুদের খালের দিকে নজর দিন

০২ জুন, ২০১৯ ০০:১০:০০

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্ষুদের খালের দিকে নজর দিন

খননের দেড় বছরেই ভরাট হয়ে গেছে খুলনা মহানগরীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ক্ষুদের খাল। পাশাপাশি খালের দুই পাড় বাঁশ পুঁতে ও সাইন বোর্ড দিয়ে অবৈধভাবে দখল করছে প্রভাবশালীরা। এছাড়া নেট-পাটা দিয়েও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে পানির স্রোত। অথচ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাত্র দেড় থেকে দুই বছর আগে এক কোটি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে মহানগরী বয়রা শ্মশান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার ক্ষুদের খাল খনন করা। এ  অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই খালটি খননের যে আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা দূষণ ও দখলে আবারও ভেস্তে গেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই নগরীতে খাল দখলের  মহোউৎসব শুরু হয়। যার থেকে বাদ যায়নি ক্ষুদের  খালটি। খালটি দখল করে মৎস্য ঘের, পাকা ভবনসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এছাড়া খালের তীরে গড়ে তোলা হয় অসংখ্য ঝুলন্ত পায়খানা। এসব পায়খানা থেকে নির্গত মানব বর্জ্য, শত শত ড্রেন ও নালা-নর্দমা থেকে বেয়ে আসা ময়লা-আবর্জনা বিষাক্ত করে তোলে এ খালের পানিকে। নগরীর বয়রা শ্মশান ঘাট থেকে ক্ষুদে খালের উৎপত্তি। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা অসংখ্য ড্রেনের পানিসহ নানা বর্জ্য এ ক্ষুদের খালে এসে পড়ে। ফলে খালটি দিন দিন সংকুচিত ও ভরাট হয়ে যায়। খালের গভীরতাও দিন দিন হ্রাস পায়। ফলে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতা দূর করতে সিটি কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদের খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত দুই বছর আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই খনন কাজ শেষ করে। এর আগে ক্ষুদের খাল অবৈধ দখলমুক্ত ও সীমানা নির্ধারণ করে সঠিক ভাবে খনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষে কেসিসি’র উদ্যোগে একটি সম্মিলিত জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। ওই জরিপে খালের দুই পাশে বিপুল পরিমাণ নতুন জমি উদ্ধার হয়। পরে কর্পোরেশনের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত ওই নতুন জমি খনন কাজও সম্পন্ন করা হয়।অথচ বর্তমানে খালের দু’পাশে উদ্ধার হওয়া জমি ফের বাঁশ পুঁতে ঘিরে দখল করা হয়েছে। তার মধ্যে ব্যক্তি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর পুরো খাল জুড়ে বেড়ে উঠেছে সবুজ কচুরীপানা। কোথাও সহজে পানির দেখা মিলবে না। মাঝে মাঝে তলদেশ ভরাট হয়ে উঁচু মাটিতে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া মাছ চাষের জন্য নেট-পাটা দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে স্রোত।
আমরা মনে করি, যদি খনন প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে সম্পন্ন হতো তাহলে এতো স্বল্প সময়ে এমন করুণ পরিণতি হতো না।খাল খননকালে কিছু কিছু জায়গায় শুধুমাত্র পানি ঘোলা করা হয়েছে। আবার কোন জায়গা খননই করা হয়নি। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে খননের যে উদ্দেশ্য ছিলো তা পুরো ভেস্তে গেছে। নগরবাসীর স্বার্থে কর্পোরেশনের উচিত খালটি ফের সঠিকভাবে খনন করা। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খননকৃত খাল ও সীমানার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত ফের দখলের উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। যার তদারকি জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা যাতে খালে এসে না পড়ে সেদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেযা উচিত। খালটি পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখতে মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা উচিত। বাঁশ ও সাইবোর্ড দিয়ে দখলের চেষ্টাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ