খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চুক্তিতে উন্নতমান সরবরাহে নিম্নমানের চাল

রোগীদের নির্ধারিত খাবার নিয়েও খুমেক হাসপাতালে জালিয়াতি!

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ০১ জুন, ২০১৯ ০১:০২:০০

রোগীদের খাবার নিয়ে বহুমুখী জালিয়াতি চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঠিকাদার ও হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে সম্মিলিত সিন্ডিকেট এ জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। হাসপাতালের পরিচালক ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করায় এ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী খাবার না দেয়ার অভিযোগ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের খাবার দেয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় জালিয়াতি চলছে ভাতে। সর্বশেষ চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে চাল দেয়া হবে চিকন আর উন্নতমানের। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা কেজি। 
তবে সরেজমিন দেখা, গেছে, পুরনো মোটা চাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যার বাজার দর ৪৫-৪৮ টাকার বেশি নয়। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৮শ’ থেকে ৯শ’ রোগী খাবার পায়। সে হিসাবে শুধু চালেই মাসে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ চক্র। সকালের খাবার মেনুতে রয়েছে রুটি, কলা, ডিম ও দুধ। চুক্তি অনুযায়ী একটি ভালো কলা দেয়ার কথা রয়েছে, যার মূল্য ৭ টাকার উপরে। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে নিম্নমানের। সম্প্রতি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ খাবার পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের কলা দেখে তা বাতিল করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর পর ক্ষমা চেয়ে মাফ পেয়ে যান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ব্রয়লার মুরগী খাওয়ানো হলেও বিল নেয়া হয় কেজি প্রতি প্রায় তিনশ’ টাকা করে। যার কেজি কখনও ১৫০ টাকার উপরে ওঠে না। বিশ্বাসযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঠিকাদারদের একটা সখ্যতা রয়েছে। তারা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে সব ধরনের খবর পৌঁছাতে দেয় না। যে কারণে খাবার ভিজিট করতে গেলে হাতেনাতে অনিয়ম ধরে ফেলেন তিনি। 
মেডিসিন ৭-৮ এ চিকিৎসাধীন একজন রোগী বলেন, দুপুরে খাবার দেয়, তা সন্ধ্যায় খাওয়া যায় না গরমে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাবার মান খুবই নিম্নমানের। এসব খাবার খেয়ে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রোগীদের সাথে কথা বললে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভাত নিয়ে রোগীদের অভিযোগ ছিল সব থেকে বেশি। তারা বলেছে ভাতের চাল খুবই নিম্নমানের। দুপুরের ভাতের সাথে রাতের ভাত মেশানোর কারণে কেউ তা ঠিকমত খেতে পারেন না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ সময়ের খবরকে বলেন, আমি নিজে সময় পেলেই রান্নাঘরে যাই। খাবার তদারকি করি। চুক্তি অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ