খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

খননের দেড় বছরেই ভরাট ক্ষুদের খাল দূষণ ও দখলে আবারও অস্তিত্ব সংকটে

এস এম আমিনুল ইসলাম   | প্রকাশিত ০১ জুন, ২০১৯ ০১:২০:০০

যত দূর চোখ যায় ভেসে আসে সবুজ কচুরীপানার দৃশ্য। মাঝে মাঝে তলদেশ ভরাট হয়ে উঁচু হওয়া মাটিতে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। খালের দুই পাড় বাঁশ পুঁতে ও সাইন বোর্ড দিয়ে অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে। এছাড়া নেট-পাটা দিয়েও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে পানির স্রোত। জলাবদ্ধতা নিরসণে মাত্র দেড় থেকে দুই বছর আগে এক কোটি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে মহানগরী বয়রা শ্মশান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার ক্ষুদের খাল খনন শেষে বর্তমান চিত্র এটি। এ  অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই খালটি খননের যে আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা ভেস্তে গেছে।
জানা গেছে, নগরীর বয়রা শ্মশান ঘাট থেকে ক্ষুদে খালের উৎপত্তি। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা অসংখ্য ড্রেনের পানিসহ নানা বর্জ্য এ ক্ষুদের খালে এসে পড়ে। ফলে খালটি দিন দিন সংকুচিত ও ভরাট হয়ে যায়। খালের গভীরতাও দিন দিন হ্রাস পায়। ফলে নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অপর দিকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এ খাল দখলের  মহোউৎসব চলে। খালটি দখল করে মৎস্য ঘের, পাকা ভবনসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এছাড়া খালের তীরে গড়ে তোলা হয় অসংখ্য ঝুলন্ত পায়খানা। এসব পায়খানা থেকে নির্গত মানব বর্জ্য, শত শত ড্রেন ও নালা-নর্দমা থেকে বেয়ে আসা ময়লা-আবর্জনা বিষাক্ত করে তোলে এ খালের পানিকে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতা দূর করতে সিটি কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ক্ষুদে খাল খনন, খালের পাশে দেয়াল নির্মাণ ও ৩টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নূর এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়। যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছিল খাল খননের জন্য ১ কোটি ২ লাখ, দেয়াল নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৬৯ লাখ এবং কালভার্ট নির্মাণের জন্য ৩৯ লাখ টাকা। গত দেড় থেকে দুই বছর আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই খনন কাজ শেষ করে। 
এদিকে, খাল খননের এক পর্যায়ে দুই পাশের অবৈধ দখলের কারণে পুরো খনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। যার প্রেক্ষিতে ক্ষুদের খাল অবৈধদখলমুক্ত ও সীমানা নির্ধারণ করে সঠিকভাবে খনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষে কেসিসি’র উদ্যোগে একটি সম্মিলিত জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। ওই জরিপে খালের দুই পাশে বিপুল পরিমাণ নতুন জমি উদ্ধার হয়। পরে কর্পোরেশনের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত ওই নতুন জমি খনন কাজও সম্পন্ন করা হয়।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার ওই খালে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে খালের দু’পাশে উদ্ধার হওয়া জমি ফের বাঁশ পুঁতে ঘিরে দখল করা হয়েছে। তার মধ্যে ব্যক্তি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর পুরো খাল জুড়ে বেড়ে উঠেছে সবুজ কচুরীপানা। কোথাও সহজে পানি দেখা মিলবে না। মাঝে মাঝে তলদেশ ভরাট হয়ে উঁচু মাটিতে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া মাছ চাষের জন্য নেট-পাটা দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে স্রোত।
নুর উদ্দিন, খালিদ হোসেনসহ এলাকাবাসী জানায়, আসলে খননের নামে হরিলুট হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় শুধুমাত্র পানি ঘোলা করা হয়েছে। আবার কোন জায়গা খননই করা হয়নি। যদি খনন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হতো তাহলে এতো স্বল্প সময়ে এ করুণ পরিণতি হতো না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে খননের যে উদ্দেশ্য ছিলো তা পুরো ভেস্তে গেছে। তবে নগরবাসীর স্বার্থে কর্পোরেশনের উচিত খালটি ফের সঠিকভাবে খনন করা। তারা আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান খননকৃত খাল ও সীমানার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত ফের দখলের উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। ফলে খাল সরু হয়ে পড়ছে। খালের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে।
কর্পোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিভিন্ন ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা প্রতিনিয়ত খালে এসে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে খালটি পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখতে মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা উচিত। দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, খাল পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু লোক বাঁশ ও সাইবোর্ড দিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। এগুলো উচ্ছেদের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া খাল বা নদীর পাড় ভেঙে কোন ব্যক্তি মালিকানা জমি ভেতরে গেলে তা খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত হবে। ওই জমির মালিকরা আর খাজনা দিতে পারবে না।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ