খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ  ব্যবস্থা ত্র“টিমুক্ত করুণ

৩১ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ  ব্যবস্থা ত্র“টিমুক্ত করুণ

গ্রীষ্মের তাপদাহে এমনিতেই ত্রাহি অবস্থায় খুলনাসহ ৯টি উপজেলার মানুষ। তার মধ্যে রমজান মাস চলছে। অসহ্য বিদ্যুতের ভেলকিবাজি লোডশেডিং এ দুর্ভোগ এখন চরমে। প্রচন্ড খরতাপ আর বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় নাকাল এখন নাগরিক জীবন। ‘অফিস-আদালত থেকে ক্ষেত-খামার’ সর্বত্রই ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চরম বিপাকে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। দিনে এবং রাতে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকছে। কিছু সময় আকাশে মেঘ জমলে এবং সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগ মানসম্মত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অগণিত গ্রাহক। কিছুদিন ধরে অনেক এলাকাতেই দিন-রাতে দুই-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ করে মধ্যরাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষকে অবাক করছে। বিশেষ করে ইফতার, তারাবী নামাজ ও সেহেরীর সময় কোথাও কোথাও ঘন্টার পর বিদ্যুতের দেখা মেলা ভার। এত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও ‘অফপিক আওয়ার’-এ লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন জাগছে। ‘লোডশেডিং’ আর ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট’- বিদ্যুৎ বিভাগের এ দু’টি শব্দের অর্থ এখনও সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে পরিস্কার হয়নি।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থাপনায় ত্র“টি আছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে গাফিলতিও আছে। বস্তুত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যে পরিমাণ মনোনিবেশ করেছে সেই পরিমাণ আগ্রহ নেই সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে সে হিসাবে বিতরণ লাইন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। অপরদিকে নতুন লাইন সম্প্রসারণ হলেও পুরনো লাইনের সংস্কারে সরকার তেমন কোন কাজ করেনি।
জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন দরকার নিরাপত্তার জন্যও। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগগুলো আমলে আনা। কেন মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে তাও গ্রাহকদের অবহিত করা এবং সাময়িক ভোগান্তির কারণগুলো ব্যাখ্যা করা। বিদ্যুতে নিজেদের অর্জনের পরিসংখ্যান থাকলেও গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের মূল্যায়ন নেই বললেই চলে। কখনও কখনও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়ে জরিপ করা হলেও সেটি করা হয় শীতকালে। এ সময় এমনিতেই বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। গ্রীষ্মকালে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলেও এই সময়ের কোন জরিপ করা হয় না। আমরা মনে করি, ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় এ জরিপের কাজটি করা হলে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করা সহজ হবে।
সাধারণ মানুষকে যেন বিপর্যয়কর অবস্থায় পড়তে না হয়, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটানো দরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে কিন্তু সঞ্চালন বিতরণ অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি না হওয়ার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে সরকারকে। দূর করতে হবে এ খাতের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও। সর্বোপরি বিদ্যুৎ চুরি, অপচয় ও সিস্টেম লস রোধ করে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ