খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

আমরা আম খাচ্ছি না বিষ খাচ্ছি

৩০ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

আমরা আম খাচ্ছি না বিষ খাচ্ছি

আম মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে উঠতে শুরু করেছে মধুমাসের মিষ্টি ফল বিভিন্ন জাতের আম। ফলগুলো দেখতেও বেশ ঝকঝকে এবং সুন্দর। এখন ইফতারেও এ ফল যুক্ত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব আম কি সত্যিকার অর্থেই পাকা? এগুলো কি খাওয়ার উপযোগী? কারণ এসব কিনে বাড়িতে নিয়ে কেটে দেখা যায় ভেতরের আঁটিই শক্ত হয়নি, আঙ্গুলে চাপ দিলেই ভেঙে যায়। আম কেটে কিছু সময় রাখার পর আপনা আপনি কালো হয়ে যায়। খেতেও আমের মতো লাগে না, মিষ্টি লাগা দূরের কথা মুখ বিস্বাদ হয়ে যায়। এ আম খাওয়ার পর অনেকের পেটেও সমস্যা দেখা দেয়। ফলে প্রশ্ন এসেই যায় আমের নামে আমরা এসব কি খাচ্ছি?
গত কয়েক দিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় এই ঝকঝকে পাকা আমের আসল রহস্য। পরিপক্ব হওয়ার আগেই আমগুলো পেড়ে আনা হয়েছে বাগান থেকে। তারপর বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো হয়েছে রোজার মধ্যে অতিলাভে বিক্রির উদ্দেশ্যে। সেই আমেই রাজধানীসহ সারাদেশের বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর র‌্যাব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংস করেছেন। এত কিছুর পরও থামছে না একশ্রেণীর অসাধু ফল ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্য।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আম বিক্রি প্রতিরোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ট এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। আর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে আম পাকানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলা হয়েছে, আমাদের ফল শিল্পের ক্ষতি করার জন্যই কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানো এবং ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণের বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষজ্ঞরা বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম জব্দ করে ধ্বংস করছে, সেখানে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর একে ষড়যন্ত্র বলছে। তারা কি জানে না, আমের মৌসুম এখনো শুরু হয়নি? তার আগে এসব আম এলো কোথা থেকে? কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত আমের পক্ষে তাদের এই সাফাই গাওয়া কি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়? তাদের বক্তব্য যদি সঠিকই হবে, তাহলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাওরান বাজারে অভিযান চালিয়ে ১২শ’ কেজি অপরিপক্ব আম কোন যুক্তিতে ধ্বংস করেছে? বুয়েটের গবেষণায় ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোর বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন সেটা প্রমাণ করতে পারছে না তা এক রহস্যই বটে।
অতিলোভ এবং বিবেকহীনতা আমাদের নীতি-নৈতিকতাসহ মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সামান্য ক’টা টাকা বেশি লাভের জন্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক-বিষতুল্য কেমিক্যাল মেশাতে একটুও দ্বিধাবোধ করছেন না। বিষমুক্ত ফল পেতে হলে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু আম ধ্বংস বা কিছু ব্যবসায়ীকে জরিমানা এবং দন্ড দিলেই হবে না, বরং চাষি থেকে শুরু ব্যবসায়ী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সমন্বিত করে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইনকে আরো কঠোর করতে হবে। যাতে কেউ আইন লঙ্ঘন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আম বা অন্য কোনো ফলে মেশানোর সাহস না করে। ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। কারণ পকেটের টাকা খরচ করে আমরা জেনে শুনে বিষ কিনে খেতে পারি না।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ