খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে ‘কৃষকের হাট’ মডেল

আব্দুস সালাম তরফদার | প্রকাশিত ২৯ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে ‘কৃষকের হাট’ মডেল

বর্তমান বোরো মৌসুমে ধানের নিম্নমুখী মূল্যের কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় তথা বর্তমান সরকার  নিঃসন্দেহে চিন্তিত। কারণ এটা কোন ক্রমেই ভাল লক্ষণ নয়। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমাদের এদেশে ব্যাপক খাদ্য চাহিদা বিদ্যমান। ইতোমধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহতি উদ্যোগ দেশকে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র মুক্ত করণের ধাপ পেরিয়ে দানা জাতীয় খাদ্যপণ্যে দেশ আজ স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এ উৎপাদন ধরে রাখতে প্রয়োজন উন্নত কৃষি বিপণন ব্যবস্থাপনা। যার অন্যতম একটি নিয়ামক হলো কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। মাঠ পর্য়ায়ে কোন প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যদি এটা ব্যাহত হয়, তাহলে দেশে এ ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যবস্থায় ধস নামতে পারে। এ কারণে বর্তমানে রোরো মৌসুমে কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ে আমার সুনির্দিষ্ট একটি প্রস্তাব ও আইডিয়া খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করি। যা সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্য হয়। এ আইডিয়া ও প্রস্তাবটি গত ২০ মে-২০১৯ ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার ৮ম পৃষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রচারসহ সহমত পাওয়া গেছে ।
প্রস্তাবটি নিম্নরুপ : “কৃষকের হাট’’- ধান ও গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের আরো বেশি আন্তরিক হওয়া দরকার। ধান ক্রয়ের পূর্বে কোন কৃষকের তালিকা তৈরির প্রয়োজন নেই। কৃষি বিভাগ হতে প্রাপ্ত কার্ডধারী সকল কৃষকই তাদের সামর্থমত ধান সরকারের কাছে বিক্রি করবেন।
অনুসরণীয় বিষয় সমূহ : ক) উপজেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাটের নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে হবে যার সহযোগীতা করবেন জেলার দ্বায়িত্বরত কৃষি বিপণন কর্মকর্তা/জেলা বাজার কর্মকর্তা।
খ) চান্দিনাযুক্ত নির্দিষ্ট স্থানে উপজলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের ব্যবস্থাপনায় কিছু কিছু ‘কৃষকের হাট’ তৈরি করা যেতে পারে। যা ধান উৎপাদনের পরিমাণ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ এ সকল বিষয় মাথায় রেখে কৃষকের হাটটি তৈরি করতে হবে। চান্দিনা না পাওয়া গেলে কোন অডিটোরিয়াম বা তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ছাউনিযুক্ত করে নেয়া যেতে পারে। 
গ) এ ‘কৃষকের হাটে’ কোন ব্যাপারী, ফঁড়িয়া, আড়তদারের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
ঘ) সপ্তাহে একদিন অন্ততঃ এ হাটে সরাসরি কৃষক সরকারের নিকট নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক উপজেলার এসব ‘কৃষকের হাটের’ দিন ও সময় পূর্বে নির্ধারণ করে দিতে হবে।
ঙ) খাদ্য বিভাগের ক্রয় কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী ট্রাকসহ সে সকল ‘কৃষকের হাট’ হতে ধান ক্রয় করবেন। 
চ) সরকারের চাহিদামত গুণাগন সম্বলিত ধান বা গম কেমন হবে (ভূষি চিটা মুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নির্ধারিত সর্বনিম্ন আর্দতা ইত্যাদি) সে সম্পর্কে ছাপানো কিছু লিফলেট কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের পূর্বেই কৃষকদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
ছ) ক্রয়ের পূর্বেই কোন প্রকার কৃষকের তালিকা নয়, শুধুমাত্র যে সকল কৃষকের নিকট হতে ধান ক্রয় সম্পন্ন হবে শুধুমাত্র তাদের বিস্তরিত তালিকা তৈরি করে রাখা হবে।
জ) সরকারের টার্গেট বা লক্ষমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ধান ক্রয় কার্য উপজেলা ভিত্তিক পর্যায়ক্রমে চলবে।
ঞ) ‘কৃষকের হাটে’ সরাসরি ধান বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এসব হাটে যাওয়া-আসা যাতে অবাদ ও নির্বিঘœ হয় সে লক্ষে এলাকায় প্রয়োজনে পুলিশের টহল গাড়ি দ্বায়িত্বরত থাকবে।
জ) সকল বিষয় পর্যক্ষেণ ও মনিটরিং করার জন্যে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসক-এর সভাপতিত্বে গঠিত ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করে একটি করে বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। যারা সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকের নিকট হতে ধান ক্রয়ের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবেন।
(লেখক : জেলা বাজার কর্মকর্তা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, খুলনা। ) 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪১


বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪৩


ভারত ভ্রমণে নয় দিন

ভারত ভ্রমণে নয় দিন

০৮ মে, ২০১৯ ০০:৫৯

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১৬


গ্রন্থাগার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ফসল

গ্রন্থাগার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ফসল

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০০:১০




বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০


ব্রেকিং নিউজ