খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নজরদারী জরুরি 

২৮ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নজরদারী জরুরি 

ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে দেশ। ফসল ভালো বা বেশি হলে বলা হয় দেশ এগোচ্ছে, শুনতে ভালো লাগে। তবে কৃষক ন্যায্য দাম পায় না। বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে ভোক্তাদেরও ঠকানো হয়। উৎপাদন কম হলেতো কৃষক ভোক্তা এমনিতেই মরে। সরকার চায় উৎপাদন বাড়িয়ে দেশ এগিয়ে নিতে। প্রয়োজনে কৃষক ভর্তুকি পায় (ভিক্ষা পায়)। উৎপাদন বাড়লে দেশের উন্নয়ন হয় এটা হয়তো ঠিক, তবে আমদের মতো দেশে কৃষকের উন্নয়ন হয় না। ভোক্তা ও কৃষক ন্যায্য মূল্য পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারে না। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া নিয়ে সরকারের বাগাড়ম্বরের ঘাটতি ছিল না কখনই।
এখনো গ্রামাঞ্চলের ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই সরকারকে কৃষি ও কৃষক নিয়ে এমন অনেক কথা বলতেই হয়। কিন্তু সেসব কথা কার্যকর করার জন্য যে প্রচেষ্টা ও বিনিয়োগ দরকার, তা কার্যত কতটুকু হচ্ছে তার প্রমাণ প্রতিদিনের সংবাদপত্রেই মিলবে। বাস্তবে অন্যায্যভাবে কৃষকরা ঠকছেন, ঠকছেন ভোক্তারাও। ধান-চালের উৎপাদক ও ভোক্তাপর্যায়ে মূল্য পার্থক্য বিশাল। এক হিসাবে দেখা গেছে, এ পার্থক্য গড়ে ২০ থেকে ২২ টাকা। উৎপাদনকারী কৃষক যেখানে চালের দাম পাচ্ছেন ১৮ থেকে ২০ টাকা, সেখানে ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে ৩৪ থেকে ৪০ টাকায়। ক্ষেত্র বিশেষে দামের এ পার্থক্য আরও বেশি। এ ব্যবধানের সিংহভাগ অর্থ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে। উৎপাদক আর ভোক্তা পর্যায়ে ধান-চালের বিস্তর পার্থক্য ভাবিয়ে তুলছে অর্থনীতিবিদদের। এর মুখ্য কারণ হলো আইনের শাসনে দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি যথেষ্ট প্রসারিত হওয়া। কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু দাম পাচ্ছেন না। লাভের গুঁড় খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্বভোগী পিঁপড়ারা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন। চাষির পণ্য বিক্রি করে কয়েক গুণ বেশি লাভ করেন এই মধ্যস্বত্বভোগীরা, সরকারি নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা চাষির অতিরিক্ত লোকসানের বড় কারণ। বলার অপেক্ষা রাখে না এভাবে কৃষি খাতের অগ্রগতি টেকসই হবে না। কৃষকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার আগেই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ