খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬ |

স্বাস্থ্য সেবার নামে পুকুর চুরি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

২৭ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

স্বাস্থ্য সেবার নামে পুকুর চুরি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সরকার জনগণের জীবনমান এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু সরকারি প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। প্রকল্পের নামে দেশের আর্থিক খাতে চলছে বিশৃঙ্খলা। আর এ বিশৃঙ্খলার কারণে ঘটছে অর্থের অপচয়। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে মাটি চাপা দেওয়া দশ বস্তা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃষ্টির পানিতে ভেসে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে পাচার করতে না পেয়ে বিপুল পরিমাণ এ ওষুধ ও ব্যান্ডেজ মাটির তলায় পুঁতে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে হাসপাতালে ১৭ কোটি টাকার কেনাকাটার মধ্যে ১২ কোটি টাকাই লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, সাত কোটি টাকা ব্যয়ে যে মেডিকেল সফটওয়্যার কেনার দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এমনকি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের খোদ তত্ত্বাবধায়কই তদন্তকারীদের বলতে পারেননি পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের সফটওয়্যারটির কাজ কী? 
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের কেনাকাটার জন্য ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পিএসিএস সফটওয়্যার ক্রয় এবং বাকি ১০ কোটি টাকায় অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার কথা। কিন্তু এর মধ্যে উল্লেখিত সফটওয়্যারটির ব্যবহারই বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া দামি এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিনে এমনিতেই সফটওয়্যারটি ইনস্টল করা থাকে। অন্যথায় আলাদা কিনতে গেলে এক থেকে সোয়া কোটি টাকায় এটি কেনা যায়। বোঝা যাচ্ছে, এটি কেনার নাম করে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে দুর্নীতিবাজরা। একই সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা। 
বস্তুত সরকারি কেনাকাটায় প্রায়ই বড় ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে এবং জনগণের করের অর্থ লোপাট হচ্ছে দেদারসে, যার একটি বড় উদাহরণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পের কেনাকাটার ঘটনা। সেখানে একটি বালিশের দাম ৯ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তোলার জন্য ৭৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এমন দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে যে প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। পরিতাপের বিষয় হলো, যে কোনো ক্ষেত্রে বড় দুর্নীতি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপরের নির্দেশেই এমনটি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও এমনটি বলেছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটার প্রস্তাব আসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জেলা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে। মূলতঃ দুর্নীতিবাজরা অনিয়ম-দুর্নীতি করে ধরা পড়ে গেলে উপরের নির্দেশ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তবে উপরের মহলের যে আদৌ কোনো দায় নেই, তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশে সরকারি কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়, তা বন্ধ করা গেলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যেত। বর্তমানে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার মাধ্যমে এ অগ্রযাত্রা দ্রুততর ও মসৃণ হতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন চুনোপুঁটিদের পেছনে পড়ে না থেকে সরকারি কেনাকাটায় ও অন্যান্য খাতের বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে এবং সরকারের শীর্ষ মহল কঠোর মনোভাব দেখালে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ