খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ |

আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরী

২৫ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরী

সর্বগ্রাসী আইলার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল জুড়ে আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবার এখনও পুনর্বাসিত হয়নি। আশ্রয়হীন জনপদে এখনও চলছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও খাবার পানির তীব্র সংকট। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাঁধগুলো মেরামত না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকার মানুষ। সর্বগ্রাসী আইলা আজও উপকূলীয় অঞ্চল খুলনার দাকোপ, কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আইলা দুর্গত এলাকার মূল সমস্যা জরাজীর্ণ ভেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির সমাধান আজও মেলেনি।
২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা “আইলা” আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদে। মুহূর্তের মধ্যে খুলনার দাকোপ, কয়রা সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদি পশু আর ঘরবাড়ি। ক্ষণিকের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার। লক্ষ লক্ষ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকূল রক্ষা ভেড়িবাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্রলয়ঙ্করী আইলা আঘাত হানার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় এলাকায় মানুষের হাহাকার এখনো থামেনি। দু’মুঠো ভাতের জন্য জীবনের সাথে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানি সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, উপকূলীয় ভেড়িবাঁধ এখনও ঠিকমত সংস্কার হয়নি। ফলে উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত সবাই চালাচ্ছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। পাশাপাশি এ বিশাল জনপদে যে সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অপরদিকে, বনদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর উপর নির্ভরশীল এ এলাকার মানুষের জীবন যাপন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেন না উপকূলীয় এ জনপদের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। আইলার পরপরই কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজের বিনিময় খাদ্য প্রকল্পের কাজ হলেও এখন আর কোনো কাজ হচ্ছে না। আর এ কারণেই ক্রমে ক্রমে বাড়ছে দরিদ্র ও হত দরিদ্রের সংখ্যা।
আইলার ১০ বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলরক্ষা ভেড়িবাঁধগুলোর ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দেয়ায় এবং সংস্কার না করায় সামান্য ঝড় কিম্বা বৃষ্টিতে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে এ জনপদের কয়েক লাখ মানুষের। তাই উপকূলীয় এ জনপদের মানুষের সরকারের কাছে দাবি টেকসই উপকূল রক্ষা ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে উপকূল রক্ষা ভেড়িবাঁধ উঁচু ও মজবুত করার কোন বিকল্প নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ