খুলনা | সোমবার | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

লিভার রোগ: ভয় কতটুকু?

ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিক | প্রকাশিত ২৫ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। শারীরিক যতেœর অভাবে বা নিয়ম কানুন না মানার ফলে অন্যান্য অঙ্গের মতো লিভারেও নানা ধরনের রোগ বাসা বাধে। প্রশ্ন হলো লিভারের রোগ মানবদেহের জন্য কতটা ঝুঁঁকিপূর্ণ। বা লিভারে রোগ হলে আমাদের করণীয় কি? এক্ষেত্রে আমি বলব লিভার রোগ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, লিভারের রোগ নিয়ন্ত্রণ মানুষের সদিচ্ছার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। লিভারে সাধারনত যে রোগগুলো হয় তার মধ্যে অন্যতম ভাইরাল হেপাটাইটিস। ভাইরাস থেকে জন্ডিস হয়।
যেমন: এভাইরাস, ই ভাইরাস, সি ভাইরাস-সবগুলো থেকে জন্ডিস হতে পারে। এ ভাইরাস, ই-ভাইরাস কেন হয় এগুলো সবই পানিবাহিত রোগ। আমরা যদি একটু সতর্ক হই, বিশুদ্ধ পানি পান করি, রাস্তা ঘাটে বা যেখানে সেখানে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করি তাহলে তো এ ভাইরাস বা ই ভাইরাস হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না।
বি ভাইরাস ও সি ভাইরাস ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। অন্যের রক্ত নিজের শরীরে নেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিন, একজন রোগীকে রক্ত দেওয়ার সময় নতুন সুঁচ ব্যবহার করি তাহলে কিন্তু বি-ভাইরাস বা সি-ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ নেই বললেই চলে।
এছাড়া স্বামী বা স্ত্রী দু’জনের কারো যদি বি ভাইরাস বা সি ভাইরাস থাকে তাহলে তার সাথে মেলামেশার ফলে অন্যেরও বি ভাইরাস বা সি-ভাইরাস হতে পারে। তাই একজনের যদি এসব ভাইরাসের কোনটি থাকে তাহলে অন্যজনের উচিত পরীক্ষা করে টিকা নিয়ে নেওয়া। মায়ের যদি এ ভাইরাস থাকে তাহলে সন্তানকেও জন্মের মুহূর্তে অবশ্যই বি ভ্যাক্সিন ও ইমিউনোগ্লোবিওলিন ইনজেকশান দিতে হবে।
লিভারের একটি বড় রোগ হচ্ছে ফ্যাটিলিভার। যা মূলত খাদ্যাভ্যাস ও লাইফ স্টাইলের উপর নির্ভর করে। রাতে দেরিতে খাওয়া, খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাতে যাওয়া, হাঁটা চলা কম করা, ফ্যাটি ফুড ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া এগুলো ফ্যাটি লিভারের বড় কারণ। কখনো কখনো এ্যালকোহল ও ফ্যাটি লিভারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে যেমন-নিয়মিত ব্যায়াম করা, রাতে ভাত কম খাওয়া, রাতে খাওয়ার পর একটু হাঁটা-চলা করা, বিকেলে হাঁটাহাঁটি করা, ফাস্ট ফুড ফ্যাটি ফুড কম খাওয়া এসব নিয়ম মেনে চললে ফ্যাটি লিভার এড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ, আমি বলতে চাচ্ছি লিভারের বেশিরভাগ রোগই প্রতিরোধ যোগ্য।
প্রশ্ন হচ্ছে যদি লিভারের রোগ হয়ে যায় তাহলে কী করব? লিভার রোগের বড় দুঃশ্চিন্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এইচবিএস পজিটিভকে। এইচবিএস পজিটিভ যাদের থাকে তাদের মধ্যে শতকরা পনের থেকে বিশ জনের লিভার ডেমেজ এবং লিভার সিরোসিস হয়। সেই পনের থেকে বিশ জনের মধ্যে শতকরা পাঁচ জনের লিভার ক্যান্সার হতে পারে। বেশিরভাগ রোগীর কিছুই হয় না।
আবার যাদের লিভার সিরোসিস বা লিভার ডেমেজ হয়ে যায় তাদের অধিকাংশ কিন্তু টেরই পান না যে তাদের লিভার সিরোসিস হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারেন। তাই, কেউ যদি একটু নিয়ম কানুন মেনে চলেন এবং কোন সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তাহলে দীর্ঘদিন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব।
ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিক
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
লিভার বিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
খুলনা।

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০৩


ব্রেকিং নিউজ





কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

কপিলমুনি মুক্ত দিবস আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮