গ্রীষ্ম মৌসুমে নগরীতে পানির সংকট নিরসনে  গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার দাবি 


চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে মহানগরীতে সাব-মার্সিবল পাম্প ও উৎপাদক নলকুপ সমূহের প্রভাবে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশির ভাগ নলকূপে চাহিদা মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে জনগুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রতিদিন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ‘পানির গাড়ি’ রাখার দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৭৬২ বর্গমাইল আয়তন নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্র। ৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ অধিক্ষেত্রে বসবাস করে ১৬ লাখ মানুষ। চতুর দিকে নদ-নদী বেষ্টিত এ মহানগরীতে শিল্প-কারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, বিপণী বিতানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সমৃদ্ধ কর্পোরেশন এলাকার এ বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির জন্য একমাত্র ভূ-গর্ভস্থ গভীর নলকূপ ও ওয়াসার সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের এক জরিপে উঠে এসেছে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ওয়াসার অন্তত ৮৪টি বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ রয়েছে। এসব উৎপাদক নলকূপ চালু করার পর পানির স্তর ১০৩ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র অতিমাত্রায় স্থাপন করা হচ্ছে সাব-মার্সিবল পাম্প। যদিও বাসা-বাড়ি ও সড়কে স্থাপিত নলকূপের পানি লেয়ার ও সাব-মার্সিবল পাম্পের লেয়ার একই অর্থাৎ ৭শ’ থেকে ১ হাজার ফুট। কিন্তু হাতচাপ টিউবওয়েলে পাম্প স্থাপন করা হয় উপরে। অন্যদিকে সাব মার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হয় ২শ’ ফুট নিচেই। ফলে সাব-মার্সিবল পাম্প চালু করলে এর প্রভাবে উপরে স্থাপিত নলকূপে পানি উঠছে না।
নগরীর বাসিন্দারা বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে চরম পানির সংকট চলছে। টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। শত চেষ্টা করেও চাহিদা মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকেই পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই এ সংকট নিরসনে ৩১টি ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানির ভাসমান ট্যাংকী রাখা উচিত।
তবে এ ব্যাপারে খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, একা ওয়াসার পক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া ও বাস্তবায়ন সম্ভব না। কারণ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে গাড়ি ও চালক দরকার, গাড়ি রাখার গ্যারেজ প্রয়োজন। এছাড়া ৩১টি ওয়ার্ডের জন্য ৩১টি গাড়ি কিনতে ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশও দরকার হতে পারে। তাই এ উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়নে ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও কেএমপির সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।