খুলনা | শনিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘লোকসানের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কৃষক’

খুলনায় সাড়ে তিন হাজার কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ১,৯১৩ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য খাদ্য বিভাগের

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২৩ মে, ২০১৯ ০১:১০:০০

বোরো’র বাম্পার ফলন ও মূল্য রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেশ ছাপিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় ইস্যু বাংলাদেশের ধান। বহুল আলোচনা শেষে সম্প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে খাদ্য বিভাগ। ততোদিনে ঋণে জর্জরিত হতাশ (কতিপয়) কৃষক খুব কম মূল্যে মিল মালিক, মজুতদার ও মহাজনদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে ধান। মাঠ পর্যায়ে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ফলে কৃষকের ধান অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হতে পারে এমন শঙ্কা কৃষকের। কৃষি অধিপ্তরের দেয়া সাড়ে তিন হাজার কৃষকের কাছ থেকে এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ।
সূত্রমতে, প্রান্তিক কৃষক যারা কৃষকদের কৃষি কার্ড যাচাই-বাছাই করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা সংগ্রহ কমিটির মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করবে। প্রতি কেজি ধানের দাম ২৬ টাকা। আর প্রতি কেজি চাল কেনা হবে ৩৬ টাকা দরে। অবশ্য চাল মিল মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হবে। এখানেই অসাধু চক্রের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে আশঙ্কা কৃষকদের। তাছাড়া উদ্বৃত্ত উৎপাদনের অতিক্ষুদ্র অংশই ক্রয় করছে সরকার। ফলে লোকসানের হাত থেকে কৃষককে রেহাই দেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ফুলতলা মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের।
তিনি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকায় ক্রয় করলেও তাদের লোকসান ঘুচবে না। তাছাড়া কৃষকের উৎপাদিত অতি সামান্য অংশই কিনছে সরকার। তাও কতজন প্রান্তিক কৃষক এ সুবিধা পাবে সেটা নিয়েও শঙ্কা রয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, বাজারে কোন পন্যের মূল্য রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস করলে অসাধু সিন্ডিকেট চক্র মজুদের সুযোগ নেয়।
খুলনা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, ‘তিন হাজার ৫০২জন কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ। সে অনুযায়ী খুলনার উপজেলা পর্যায়ের খাদ্য সংগ্রহ কমিটি ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণের কাছে ওই তালিকা প্রেরণ করেছি। খুলনাতে এবার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৭ মেট্রিক টন বোরো উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।”
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর রহমান বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রতিটি উপজেলায় বোরো ধান ক্রয় কমিটির নিকট প্রেরণ করেছি। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন কতজনের কাছ থেকে আমরা ধান কিনবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই কমিটির সভাপতি; ওই কমিটি কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে দিবেন সেইসব প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে বোরো সংগ্রহ করবো খাদ্য বিভাগ। কৃষি কার্ডধারী নন এমন ব্যক্তির কাছ থেকে ধান ক্রয়ের কোন সুযোগ নেই। ২৬ টাকা কেজি ধরে খুলনা জেলা থেকে এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। খুলনার শস্য ভান্ডার খ্যাত ডুমুরিয়াসহ উপজেলা পর্যায়ের কৃষকদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফুলতলা কৃষি অফিসারের কাছ থেকে কয়েকজন কৃষকের নাম নিয়ে আনুষ্ঠাকিভাবে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “খুলনাতে কৃষি বাজার/হাটের মাধ্যমে কৃষকদের জমায়েত করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে বোরো সংগ্রহ করা কঠিন। তবে খাদ্য বিভাগে এ ধরনের  পরিকল্পনাও রয়েছে। এটা নিয়ে কাজ করছে অধিদপ্তর।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ২১ মে দুপুরে ফুলতলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এ সময় জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ তানভীর রহমান উপস্থিত ছিলেন। 
জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে মাত্র এক হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার ৪০ টাকা। একজন কৃষক সর্বনিম্ন ৩ বস্তা (১২০ কেজি) ও সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান বিক্রি করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় কৃষকের কাছ থেকে এভাবে বোরো ধান সংগ্রহ করবে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:১০









গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:১০


ব্রেকিং নিউজ









লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫৩