খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পানির স্তর নিয়ে শঙ্কা

মহানগরীতে যত্রতত্র বসানো হচ্ছে অনুমোদনহীন সাব-মার্সিবল পাম্প!

এস এম আমিনুল ইসলাম   | প্রকাশিত ২২ মে, ২০১৯ ০১:০৫:০০

মহানগরীর বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি অতিমাত্রায় বসানো হচ্ছে অনুমোদনহীন সাব-মার্সিবল পাম্প। অন্যদিকে রয়েছে ওয়াসার উৎপাদক নলকূপ সমূহের মারাত্মক প্রভাব। যার কারণে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশির ভাগ নলকূপে চাহিদা মতো পানি পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। 
জানা গেছে, ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৭৬২ বর্গমাইল আয়তন নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্র। ৩১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ অধিক্ষেত্রে বসবাস করে ১৬ লাখ মানুষ। চতুর দিকে নদ-নদী বেষ্টিত এ মহানগরীতে শিল্প-কারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, বিপণী বিতানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সমৃদ্ধ কর্পোরেশন এলাকার এ বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির জন্য একমাত্র ভূ-গর্ভস্থ গভীর নলকূপ ও ওয়াসার সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের এক জরিপে উঠে এসেছে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ওয়াসার অন্তত ৮৪টি বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ রয়েছে। এসব উৎপাদক নলকূপ চালু করার পর পানি স্তর ১০৩ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর গোয়ালখালি বিজিবি, খালিশপুর, নুরনগর, শেখপাড়া বাজার, সদর হাসপাতাল, খুলনা জিলা স্কুল, পিটিআই মোড় এলাকায় এ দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। 
অন্যদিকে, নগরীতে যত্রতত্র স্থাপন করা হচ্ছে সাব মার্সিবল পাম্প। এক্ষেত্রে ওয়াসার ১০তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকায় ১.৫ ডায়া সাইজের পাইপের স্থাপন ফি ১০ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার বাইরে ৫ হাজার টাকা, আবাসিক ব্যবহারের মাসিক ফি ২৫০ টাকা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফি ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকায় ২ ডায়া সাইজের পাইপের স্থাপন ফি ১৫ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার বাইরে ৭ হাজার ৫শ’ টাকা, আবাসিক ব্যবহারের মাসিক ফি ৩৫০ টাকা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফি ৩ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকায় ৩ ডায়া সাইজের পাইপের স্থাপন ফি ৩০ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার বাইরে ১৫ হাজার টাকা, আবাসিক ব্যবহারের মাসিক ফি ১ হাজার টাকা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফি ৬ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকায় ৪ ডায়া সাইজের পাইপের স্থাপন ফি ৫০ হাজার টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার বাইরে ২৫ হাজার টাকা, আবাসিক ব্যবহারের মাসিক ফি ২ হাজার টাকা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফি ১০ হাজার টাকা এবং নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকায় ৬ ডায়া সাইজের পাইপের স্থাপন ফি ১ লাখ টাকা, নেটওয়ার্কভুক্ত এলাকার বাইরে ৫০ হাজার টাকা, আবাসিক ব্যবহারের মাসিক ফি ৫ হাজার টাকা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফি ২০ হাজার টাকা ওয়াসাকে পরিশোধ করতে  হবে। কিন্তু ওয়াসার এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে যত্রতত্র সাব-মার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সংস্থাটি। এছাড়া বাসা-বাড়ি ও সড়কে স্থাপিত নলকূপের পানি লেয়ার ও সাব-মার্সিবল পাম্পের লেয়ার একই অর্থ্যাৎ ৭শ’ থেকে ১ হাজার ফুট। কিন্তু হাতচাপ টিউবওয়েলে পাম্প স্থাপন করা হয় উপরে। অন্যদিকে সাব মার্সিবল পাম্প স্থাপন করা হয় ২শ’ ফুট নিচেই। ফলে সাব-মার্সিবল পাম্প চালু করলে এর প্রভাবে উপরে স্থাপিত নলকূপে পানি উঠছে না।
নগরীর মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন বলেন, বর্তমান তাদের বাসায় বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরু হয়েছে। টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। শত চেষ্টা করে যে পানি পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের পরিবারসহ ভাড়াটিয়াদের চাহিদা মিটছে না।
টিবি বাউন্ডারী এলাকায় বসবাস করেন মধ্য বয়সী আঞ্জুমারা বেগম। সব মিলিয়ে তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বেশ কয়েকদিন ধরে সঠিকভাবে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছে না তাদের পরিবার। তিনি বলেন, সকাল থেকেই পানির চাহিদা মেটাতে পুরো পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাজার থেকে বোতলজাতকৃত পানি কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।
খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) এম ডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নানা কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত, নদীর নাব্যতা হ্রাস ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের তুলনায় তা’ স্তরে জমা না হওয়া। ফলে নগরীতে যত্রতত্র সাব-মার্সিবল ও ওয়াসার বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ সমূহ চালু সাথে সাথে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাসা-বাড়ি ও সড়কে স্থাপিত টিউবওয়েলের উপর। যার কারনে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পাচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওয়াসা নগরবাসী চাহিদা মতো এখনও পানি দিতে পারছে না সংস্থাটি। তাই অনুমতি ছাড়া স্থাপন করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। তবে খুব অচিরেই ওয়াসার চাহিদা মতো পানি সরবরাহ করবে তখন সাব মার্সিবল বন্ধ করে দেয়া হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ