খুলনা | সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ |

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে উচ্চ  আদালতের ঐতিহাসিক রায়

২১ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে উচ্চ  আদালতের ঐতিহাসিক রায়

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা সব গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বয়সসীমা নির্ধারণের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে ১৫টি রিট আবেদনে দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত রবিবার এ আদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২ (১১) ধারা অনুযায়ী বয়সসীমা নির্ধারণের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এ ছাড়া আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়াসহ বন্ধ থাকা সম্মানীভাতা পরিশোধ বা চালু করতে বলেছেন আদালত। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করতে বলা হয়। 
যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছিলেন, কোনো রকম কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাদের ভাতা বন্ধ করে দিয়ে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর ৬ মাস হয়নি তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এ গেজেট জারির পর ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও বয়স নির্ধারণ’ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। এর পর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি গেজেটের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর জারি করা গেজেটে বয়স প্রতিস্থাপন করে ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস করা হয়। এই দু’টি গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ২(১১) ধারা অনুযায়ী সরকারের বয়সসীমা নির্ধারণের ধারার আংশিক চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে আদালত এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
‘সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণে দেখবেন, তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। সেখানে বয়সের কোনো ব্যাপার ছিল না। বীরপ্রতীক ছিলেন শহীদুল ইসলাম লালু। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন এবং বীরপ্রতীক খেতাব দিয়েছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে বীরপ্রতীক তো ননই, তিনি আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও বিবেচিত হবেন না। আদালত এ নিয়ে অত্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করেন।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টে ঝুলছে ৮০০ মামলা।  মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এক লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। মাসিক সম্মানী ভাতা, চাকুরির কোটা নির্ধারণ, চাকুরির বয়সসীমা বাড়ানোসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহের হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাও নানা প্রভাব খাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, এমন অভিযোগও আছে। আবার গেজেটভুক্ত হতে পারেননি বা সনদ সংগ্রহ করেননি এমন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। দেশের স্বার্থেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতীয় বীরদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া জাতির দায়িত্ব। আর সে কারণেই সব জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারা দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন সেটা জানা যেমন জরুরি,  তেমন কারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন তাদের ও তালিকা প্রনয়ন জরুরী বলে আমরা মনে করি।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬