খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলে অস্থিরতার অভিযোগ

সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার সম্মেলন করার নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ২০ মে, ২০১৯ ০০:৪২:০০

খুলনা জেলায় আ’লীগের তৃণমূলে অস্থিরতার অভিযোগ করেছেন মাঠ পর্যায়ের বক্তারা। শিগগির এ অস্থিরতার নিরসন করতে না পারলে দলটি সংকটের মধ্যে পড়তে পারে এমনই আশঙ্কা করছেন দলের তৃণমূলের কর্মীরা। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অস্থিরতার কারণ মনে করছেন প্রাচীনতম সংগঠনটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আ’লীগের সম্মেলন শেষ করতে আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি ।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূল এবং অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় ইউনাইটেড ক্লাবে আয়োজিত জেলা আ’লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলটির বিভিন্ন উপজেলা আ’লীগের অধিকাংশ সভাপতি ও সম্পাদকের বক্তব্যে এ অস্থিরতার চিত্র ফুটে ওঠে। 
আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি দিক নির্দেশনা বক্তব্যে বলেন, ‘নৌকা ডুবানোর চক্রান্ত আমরা বরদাস্ত করবো না। বঙ্গবন্ধুর মার্কা নৌকা, শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা, তাই নৌকার জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে। স্বপন বলেন, আগামী অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে কাউন্সিলের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মিসকিন দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়, তিনি গোটা বিশ্বের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু মানে চেতনা, বঙ্গবন্ধু মানে ত্যাগ, বঙ্গবন্ধু মানে নৌকা, বঙ্গবন্ধু মানে আ’লীগ। তাই বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুজিব বর্ষ পালন করার জন্য নেতা-কর্মীদের কাছে আহ্বান জান তিনি। 
সম্মানিত অতিথি বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেন, আগামীতে বিএনপি’র পক্ষে কথা বলার মতো লোক থাকবে না। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে আরো শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি দলমত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়তে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করতে হবে। সেই ভাবে সকলকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল ও দপ্তর সম্পাদক এড. ফরিদ আহমেদের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আ’লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এড. পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। 
সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, আ’লীগের কেন্দ্রীয় কাযনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, নগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, বাংলাদেশ ক্রিকট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা এম এ মজিদ, ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, জেলা মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসনেয়ারা চম্পা, বটিয়াঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘তৃণমূলে হাইব্রীডের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা পদবঞ্চিত হয়ে আছে। দলের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ অস্থিরতার নিরসন করতে হবে; অন্যথায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’  
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় দিঘলিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন পথহারা পথিক। সংগঠনের তৃণমূলে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এ অস্থিরতার নিরসন করতে না পারলে দল চরম সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।’ 
ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুদ্দীন আল মাসুদ বলেন, দলের মধ্যে হাইব্রীড ভরে গেছে। এসব হাইব্রীড যেন আগামী কাউন্সিলে পদে আসতে না পারে সেদিক সকলকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।’ উপজেলায় সাংগঠনিকভাবে সংগঠনের কোনো কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ নিজের ইচ্ছামত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মূল্যয়ন করা হচ্ছে না। যার জন্য দলের নেতা-কর্মীরা দূরে সরে যাচ্ছে। 
রূপসা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু বলেন, ‘দলের মধ্যে হাইব্রীড কর্মী ঢুকে যাওয়ায় আ’লীগের প্রকৃত নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে আছে। তাদের একটুও মূল্যয়ন করা হচ্ছে না। তাই তৃণমূলে ত্যাগী কর্মীদের পদে আনতে হবে। অন্যথায় দলীয় কর্মীরা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে।’ 
তেরখাদা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আলমগীর হোসেন বলেন, তেরখাদায় দলের ভোট ব্যাংক। অথচ তেরখাদায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক প্রার্থী সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু পরাজিত হয়েছে। হাইব্রীড কর্মীদের কারণে নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে বলে এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি। 
দাকোপ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন বলেন, ‘ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং দলের প্রকৃত নেতা-কর্মী থানা পুলিশ দ্বারা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। অবিলম্বে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জের অপসারণের দাবি করেছেন তিনি।’ 
কয়রা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জি এম মহসীন মোড়ল বলেন, ‘দলের মধ্যে জামায়াত-বিএনপি ঢুকে যাওয়ায় দলের প্রকৃত নেতা-কর্মীরা মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এসব হাইব্রীড কর্র্মী যাতে আগামী কাউন্সিলে পদ পেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।’। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, সাবেক এমপি নূর আফরোজ আলী, এড. এম এম মুজিবর রহমান, ডাঃ বিএম বাহারুল আলম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, মোঃ নূরুজ্জামান, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, রফিকুর রহমান রিপন, জোবায়ের আহমেদ খান জবা, সাবেক ছাত্রনেতা শেখ মোঃ আবু হানিফ, যুবলীগ নেতা শফিকুর রহমান পলাশ, ছাত্রনেতা পারভেজ হাওলাদার ও ইমরান হোসেন, জামিল খান, রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ। এদিকে ডাঃ কামরুল ইসলাম শেখ হেলাল উদ্দিন এমপির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আ’লীগে যোগদান করেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

পরিত্যক্ত ২০ পিলার ‘গলার কাঁটা’

০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:২০




ব্রেকিং নিউজ