খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সম্মেলনের ৪ বছর ৩ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি 

ঢিলে-ঢালা ভাবেই চলছে ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগ : সভাপতি ঢাকায়, সম্পাদক শয্যাশায়ী

জাহাঙ্গীর আলম | প্রকাশিত ১৭ মে, ২০১৯ ০০:২৩:০০

দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাসেও পূর্ণতা পায়নি ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সভাপতি অধিকাংশ সময় থাকেন এলাকার বাইরে। আর সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শয্যাশায়ী। ফলে চোখে পড়ার মত সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড নেই দলটিতে। কার্যত বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে এবং ঢিলে-ঢালা ভাবে চলছে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি সর্বশেষ ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সভাপতি ও বানিয়াখালী ভাসানী মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন আল মাসুদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৩ বছর মেয়াদী কমিটি শুধু সভাপতি-সম্পাদক দিয়েই পার করলো ৪ বছর ৩ মাস। এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সম্মেলনের সময় নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। মৎস্যমন্ত্রী সাইদুল হকের মৃত্যুর পর পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও এমপি নির্বাচিত হন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় অধিকাংশ সময় তিনি রাজধানীতে অবস্থান করেন। আর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন আল মাসুদ ২০০২ সালে ক্লীন হার্ট অপারেশনের সময় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এ সময় যৌথ বাহিনীর চরম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এক পর্যায়ে তার দু’টি কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে। অন্য দিকে পায়ে গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। বর্তমানে অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন আল মাসুদের সপ্তাহে দুই দিন কিডনি ডায়লোসিস করতে হয়। আর গ্যাংগ্রিনের জন্য একটি পায়ের হাঁটুর নিজ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খুলনার বয়রাস্থ বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 
এদিকে সভাপতি সম্পাদকের নিষ্ক্রীয়তা আর দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা হতাশ। যে কারনে ডুমুুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগে কার্যত কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল খোকন বলেন, সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ উদ্যোগ না নেয়ায় এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছেন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সময়ের অভাবে সভাপতি সাংগঠনিক কোন দিক নির্দেশনা তো এ পর্যন্ত দেননি বরং সাধারণ সম্পাদককে এক নজর দেখতে পর্যন্ত যাননি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু সালেহ বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো বলতে এখন কিছু নেই। জেলা সভাপতি একাধিকবার নির্দেশ দিলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে সভাপতিকে বার বার আমরা তাগিদ দিয়েও কোন ফল হয়নি।
সাবেক সহ-সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘদিন কমিটি পূর্ণতা পায়নি। তিনি অভিমান করে বলেন, সাড়ে ৪ বছর পার হলেও সাবেক কথা শুনতে হচ্ছে। জেলার সাধারণ সম্পাদকের হঠাৎ মৃত্যু এবং উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ হওয়াসহ আরও কিছু জটিলতার কারনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, সম্মেলনের পর থেকেই চিকিৎসার জন্য জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা বিদেশে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বিদেশেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাছাড়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক গুরুতর অসুস্থ। যে কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। অনেক নেতার অভিযোগ আপনার অবহেলার কারনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে সমালোচকরা সব সময় অন্যকে দোষারোপ করেন। তিনি এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগকে এই ডুমুরিয়ায় ধরে রেখেছি। দলকে গতিশীল রাখতে যে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার তা অবশ্যই নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষতে নেয়া হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২