খুলনা | সোমবার | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ফণী’র ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে বেশী দেখানোর অভিযোগ

মোংলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৭ মে, ২০১৯ ০০:২২:০০

মোংলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ

ঘূর্ণিঝড় ফণী’র আঘাতে মোংলা উপজেলায় যে ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতির পরিমাণ দেখানোর অভিযোগে মোংলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে কারন দর্শানো নোটিশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত ৭ মে পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানো নোটিশের কাগজ হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তিনি তার দোষকে আড়াল করতে প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 
মোংলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণী গত ৩ মে মোংলা বন্দর অতিক্রম করে। ৪ মে ফণী’র আঘাতে মোংলা পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে এসওএস ফরম পূরণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান। লিখিত প্রতিবেদনে তিনি জানান, পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে মোট ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৯শ’ ৫৬টি। এর মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ি  ৫শ’ ৬টি এবং সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বাড়ির সংখ্যা  ৪শ’ ৫০টি। প্রতিবেদনে জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার জন্য ওষুধ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার, জিআর চাল ও নগদ অর্থ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় , ঘূর্ণিঝড় ফণীতে মোংলার কানাইনগর, দক্ষিণ কাইনমারিসহ ১০টি গ্রাম রক্ষ বাঁধ উপচে প্লাবিত হয়ে ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এই প্রতিবেদনে প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাশিম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশে জানানো হয়। নোটিশে আরো বলা হয়,  ঘটনার পর দিন ৭১ টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এ মিথ্যা তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হয়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) ধারায় কর্তব্যে অবহেলা ও অসদাচারণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ‘কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না’ এই নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
চিলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আঃ হালিমসহ বেশ কয়েকজন জন প্রতিনিধি জানান, অনিয়ম দুনীতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ অভিযোগের শেষ নেই মোংলা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তারপরও অদৃশ্য ক্ষমতা বলে একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশী সময় ধরে। তার মেয়াদকালে ৭ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রদবদল হলেও বদলি হয়নি তার। ২০১৫ সালে নাহিদুজ্জানের অন্যত্র  বদলির আদেশ হলেও কয়েক ঘন্টার মধ্যে স্থগীত হয়ে যায় ঐ আদেশটিও, সেই  সাথে রামপাল উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। 
জানা গেছে, ওই কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোঃ রবিউল ইসলাম স্বয়ং লিখিত অভিযোগ করেছেন মন্ত্রণালয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে মোংলা-রামপাল উপজেলার সরকারি সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান বলেন, এসওএস ফরমটি দুর্যোগের পরপর তাৎক্ষণিক ভাবেই জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার তালিকা ধরে তৈরি করা হয়। এতে কিছু তথ্য এদিক-ওদিক হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির তালিকা প্রেরণের আগে এ তথ্য আমরা সব যাচাই-বাচাই করে নেই। কারণ দর্শানো নোটিশ হাতে পেয়েছি এবং এ নোটিশের জবাব দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি অন্যান্য বিষয়ে কিছু বলতে সম্মত হননি।   


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ