খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

সময়ের খবরকে সালাম মূর্শেদী

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পনা করতে হবে

রাসেল আহমেদ, তেরখাদা   | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৯ ০০:৪৬:০০

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সালাম মূর্শেদী বলেছেন, “খুলনাকে এখন আর পৃথক পৃথক আসন হিসেবে চিন্তা করলে হবে না। পদ্মাসেতু নির্মাণের পরে এ অঞ্চলের ৩৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মিলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতির অভিভাবক শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র নেতৃত্বে উন্নয়নের টেকসই পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ খুলনার মূল অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে পদ্মাসেতু নির্মাণের পরে। পদ্মাসেতু নির্মাণের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরী খ্যাত খুলনা তার পুরনো জৌলুশ ফিরে পাবে। ছয়টি জায়গায় উন্নয়ন হবে। যেমন তেরখাদায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, খানজাহান আলী বিমান বন্দরের কাজ চলছে, মোংলা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এছাড়াও পদ্মাসেতুর উপরে যখন ট্রেন লাইন হবে তখন পর্যটন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তখন এই রূপসী রূপসা দিয়ে সুন্দরবন দেখতে দেশ-বিদেশের মানুষ ভীড় করবে। তখন হোটেল-মোটেল ও পর্যটন ব্যবসায় অভূতপূর্ব উন্নতি হবে। মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।’ সময়ের খবরের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। 
সালাম মূর্শেদী বলেন, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চাই। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে পর্যাপ্ত বাজেট থাকার পরও এ অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন হয়নি। সে কারণে তেরখাদা-রূপসা-দিঘলিয়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে জোর দিয়েছি।’
সাবেক এ কৃতি ফুটবলার বলেন, তেরখাদা-রূপসা-দিঘলিয়ার স্কুলগুলোর খেলার মাঠ সংরক্ষণ করবো। সারাবছর শিক্ষার্থী ও এলাকার যুবকরা খেলাধুলা করবে। স্কুলের মাঠগুলোকে দেওয়াল দিয়ে খেলার উপযুক্ত রাখতে চাই। উঠতি বয়সী যুবকদের আমি খেলাধুলায় ব্যস্ত রেখে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা করাটা জরুরি। তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে পারবো আমরা।
শিল্পপতি সালাম মূর্শেদী বললেন, আমার নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন শান্ত ও শান্তিপূর্ণ। তারপরও দু’একটি বিশৃঙ্খলা ঘটছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ভবিষ্যতে সকল বিরোধ নির্মূল করার চেষ্টা করবো। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় এলাকার মানুষ খুব খুশি। তারা নিজেদের ভোট দিতে পেরেছে। মানুষ বলছে-অনেক দিন পরে সুন্দর পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে ন্যূনতম সদস্য হয়ে এলাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই। কোন পদ-পদবীর লোভ-লালসা আমার নেই। আমার মূল কাজ হলো এলাকাবাসীর উন্নয়ন করা। আমি এমনভাবে কাজ করতে চাই, সারাদেশের তিনশ’ সংসদীয় আসনের মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা হবে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। অনুকরণীয় হবে ইনশাআল্লাহ্।
স্ত্রী রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, “আমাদের পরিবার রাজনীতিতে আসা না আসা বড় কথা নয়। আমরা পুরো পরিবার জনগণের জন্য কাজ করছি, করবো। কিছুদিন পূর্বে আঞ্জুমান এ মফিদুল ইসলামে একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়েছি। এবার আমি যাকাত দিচ্ছি অন্য ফর্মূলায়। তিনশ’ সেলাই মেশিন, ৬০টি ভ্যান, হুইল চেয়ার কিনে দিয়ে অন্তত সহস্রাধিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছি। যারা দু-এক বছর পরে নিজেরাই যাকাত দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ্। এছাড়া তিন হাজার মানুষকে ঈদ সামগ্রী দিচ্ছি ব্যক্তিগতভাবে। আমার সহধর্মিণী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করেন। গেল শীতে গভীর রাতে ঘরে ঘরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন তিনি, যা এলাকাবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছে। রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা। রাজনীতি মানেই জনগণের সেবক, ‘আমি রাজনীতিক নই জনগণের সেবক হতে চাই। অসহায় মানুষের পাশে থাকবো। এটাই আমার ও আমার স্ত্রীর একান্ত প্রত্যয়’।
তিনি বলেন, “তেরখাদা-রূপসা-দিঘলিয়ায় অনেক সমস্যা ছিল, তবে এখন কমে এসেছে। আমার প্রথম কাজ দলীয় নেতা-কর্মীকে একটি প্লাটফরমে দাঁড় করানো। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকে না। এই প্রতিহিংসা দূর করার চেষ্টা করবো। মুক্তিযোদ্ধা থেকে বৃদ্ধ ভাতা পর্যন্ত সরকারি যতো অনুদান রয়েছে তা যেন উপযুক্ত ব্যক্তি পান সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বেকারদের চাকুরির ব্যবস্থা করবো-আমার ইন্ডাস্ট্রিজে।
এমপি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। পরিবার থেকে শুরু করে রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ ছিল, আছে, থাকবে। তবে আমার জন্য রাজনীতিতে কোন বাধা আছে বলে মনে করি না। আমি কর্মীদের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা করি। আজ তারা আছে বলেই আমি নেতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি ওদের সেবক হিসেবে কাজ করি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে পদক্ষেপ নিচ্ছি। আওয়ামী লীগ একটা পরিবার। এখানে ভুল বোঝাবুঝি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। পরস্পারিক আলোচনার মধ্যদিয়ে আমি এসব দ্বন্দ্ব নিরসন করবো। আমার নির্বাচনী এলাকায় মামলা-মোকদ্দমা কমিয়ে আনবো। মামলায় বাদী-বিবাদী উভয়েই কষ্ট পায়। মানুষকে অযথা হয়রানির হাত থেকে রেহাই দেবো।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে খুলনার ছয়টি আসনের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আব্দুস সালাম মূর্শেদী।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











ব্রেকিং নিউজ