খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন

আর কতটুকু লাঞ্ছিত করলে তাঁদের মনে হতো ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে?

১৬ মে, ২০১৯ ০০:৪৫:০০

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন পদবঞ্চিত ও কাঙ্খিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ অংশের নেতা-কর্মীরা। সেদিন মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতপক্ষের নারী নেত্রীসহ কয়েকজনের ওপর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তাঁরা৷
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন। গণ সোমবার মধুর ক্যান্টিনে নারী নেত্রীদের ওপর হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা হয়।
এর আগে মধুর ক্যান্টিনে ঘটনাকে ছোট সাধারণ ঘটনা হিসেবে মঙ্গলবার মন্তব্য করেন আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর সদস্য (ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক উপসম্পাদক) নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রশ্ন রাখতে চাই, মধুর ক্যান্টিনের ঘটনাটি কোন পর্যায়ে গেলে তাঁদের মনে হতো এটি একটি বিশাল আকারের ঘটনা? আমাদের আর কতটুকু লাঞ্ছিত করলে তাঁদের মনে হতো ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে, আমরা মারা যাওয়ার পরে কি তাহলে ঘটনাটির সত্যতা প্রকাশ পেত?
নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় যখন ছাত্রলীগের কিছু ছোট ও বড় ভাইয়ের হাতে আমরা নির্যাতিত হই, সত্যিকার অর্থেই এরপরে কোনো বাবা, মা, ভাই কিংবা বোন ছাত্রলীগ করার জন্য তাঁদের ঘরের সন্তানকে পাঠাবেন না। নারী নেতৃত্বের ওপর আর কত আঘাত এলে টনক নড়বে? কবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে আমরা বিবৃতি পাব যে ছাত্রলীগের নারী নেতৃত্বের ওপর হামলা হয়েছে?
মধুর ক্যান্টিনের ঘটনায় ছাত্রলীগের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির বিষয়ে তন্বী বলেন, ওই তদন্ত কমিটি আমরা যারা ভুক্তভোগী, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় আসেনি। তাহলে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে যে তদন্ত কমিটি করা হলো, সেটি কি আমাদের সঙ্গে শুধুই প্রহসন করা হলো না? তদন্ত কমিটিকে বেঁধে দেওয়া সময় আজই শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে কমিটি আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।
নতুন কমিটি ছাত্রলীগের গৌরব-ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় না মন্তব্য করে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আক্তার (ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-সম্পাদক) বলেন, নতুন কমিটির ৫৯ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে ২২ জন এবারই প্রথম পদ পেয়েছেন। আমরা মনে করি, বিগণ দিনে দু-একটা পোস্ট পেরিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে আসা উচিত। আমরা বড় পদ পাইনি বা বাদ পড়েছি কিংবা আমাদের সঙ্গে পদ প্রহসন করা হয়েছে বলে নয়, যাদের পদ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে রাজাকারের সন্তান, মাদকসেবী, বিভিন্ন মামলার আসামি, বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িতরা। মধুর ক্যান্টিনের সেই ঘটনায় পদবঞ্চিতদের পক্ষ থেকে গণকাল ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয়দের কমিটি থেকে বাদ না দেওয়া হলে গণপদ্যুাগ ও অনশনের ঘোষণা দেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ছাত্রলীগের আগের কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর, ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ফোকাস বাংলা 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ