খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ছাতকে আ’লীগের দু’গ্র“পের গোলাগুলিতে  নিহত ১ : ওসি ও দুই এসআই গুলিবিদ্ধ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৯ ০০:৩০:০০

সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী ছাতকে নৌপথে টোল আদায়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সহোদর দুই আ’লীগ নেতার লালিত গ্র“পের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক লীগ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা সদরের বাস স্টেশন রোডে ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় থানার ওসি ও দুই এসআই ছররা গুলি লেগেছে। এছাড়া চার পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অন্তত ২০ জনকে রাতে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়া ওসিসহ আরও বেশ কয়েকজনকে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের শ্রমিক লীগ সদস্যের নাম সাহাবুদ্দিন (৪৫)। তিনি পৌর শহরের আবদুস ছোবানের ছেলে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতক পৌরসভার মেয়র ও জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী ও তার সহোদর জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাহাবুদ্দিনকে মেয়র গ্রুপের লোকজন শ্রমিক লীগের সদস্য দাবি করলেও কেউ কেউ তাকে একজন ভ্যান চালক বলছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ছাতকের সুরমা নদীতে বালু পাথর সিমেন্ট পরিবাহী কার্গো, জাহাজ বাল্ক হেড নৌকা থেকে চাঁদা সংগ্রহে সম্প্রতি ছাতক পৌরসভার মেয়র নিয়ন্ত্রিত ৯ কাউন্সিলর জোট বেধে ‘শাহজালাল সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এই সংগঠনের ব্যানারে পৌর শহর ঘেঁষে বয়ে চলা সুরমা নদীতে বালু, পাথর, সিমেন্ট পরিবাহী কার্গো, জাহাজ বাল্ক হেড নৌকা থেকে টোল আদায়ের নামে চাঁদা উত্তোলন করা হতো। সম্প্রতি পুলিশ চাঁদা উত্তোলনের সময় দুই জনকে আটক করে।
এনিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির জের ধরে ছাতক পৌরসভার মেয়র আও’লীগ নেতা কালাম চৌধুরী ও তার কাউন্সিলদের সঙ্গে তারই সহোদর জেলা আ’লীগ নেতা শামীম চৌধুরীর গ্র“পের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে  দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শহরের জালালিয়া মাদ্রাসার সামনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নিজেরাও আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হন ভ্যানচালক শাহাবুদ্দিন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। শাহাবুদ্দিন কাউন্সিলরের পক্ষের লোক ছিলেন।
সংঘর্ষ চলাকালে ওসি মোস্তফা কামালসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এর মধ্যে ওসিসহ তিনজনের গায়ে ছররা গুলি লেগেছে। ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে আহত হয়েছে ৩০ জন। আহত ব্যক্তিদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালে পুলিশ ৩০ জনকে আটক করেছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পৌর মেয়র শামীম চৌধুরীর ভাই জামাল চৌধুরী, চাচা এলাইস চৌধুরীসহ কমপক্ষে ৩০ জনকে আটক করেছে।
সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার রাতে কয়েকদফা ছাতক পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করলে দুই সহোদর সাড়া না দেয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, মূলতঃ আধিপত্য বিস্তার ও নদীতে চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পক্ষের গুলিতে শাহাবুদ্দিন নামের একজন মারা গেছেন। ঘটনায় থানার ওসিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ২৮ জনকে আটক করেছে। থানায় এ ঘটনায় দু’টি মামলা হবে। একটি করবে পুলিশ, অন্যটি নিহত ব্যক্তির পরিবার। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২