খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

যশোরে ৭২ টিসিবি ডিলার মধ্যে ৭ জন মালামাল তুলেছেন

যশোর প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৬ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

যশোরে ৭২ টিসিবি ডিলার মধ্যে ৭ জন মালামাল তুলেছেন


যশোর ৮ উপজেলায় টিসিবি’র ৭২ জন ডিলার থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ ডিলার ন্যায্য মূল্যে ভোক্তাদের জন্য মালামাল উত্তোলন করেছেন। এদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪ জন এবং কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরে ১ জন করে রয়েছেন। বাকি মণিরামপুর, শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলায় কোন ডিলারই এখনো টিসিবি’র মালামাল উত্তোলন করেননি। ফলে সরকারের দেয়া টিসিবির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
টিসিবি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে ডিলারগণ মালামাল না তুললে সরকারের কাছে থাকা তাদের ডিলারের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ তারা একই কথা বলে আসছেন। যদিও টিসিবির তালিকায় থাকায় ডিলারদের অধিকাংশেরই মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। চলতি বছর টিসিবির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে চিনি কেজি প্রতি ৪৭ টাকা, মসুর ডাল কেজি প্রতি ৪৪ টাকা, ছোলা কেজি প্রতি ৬০ টাকা, সয়াবিল তেল লিটার প্রতি ৮৫ টাকা এবং খেজুর কেজি প্রতি ১৩৫ টাকা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ডিলাররা পণ্য বিক্রি করছেন। কিন্তু যশোরে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ ডিলার থাকলেও তাদের অধিকাংশই এখনো পণ্য উত্তোলন করেনি।
সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর যশোর সদর উপজেলায় আদি ইন্টারপ্রাইজ, মাহফুজ ট্রেডিং, লোকনাথ ভান্ডার ও ইমন এন্টারপ্রাইজ নামে চারটি প্রতিষ্ঠান টিসিবি’র সরকার প্রদত্ত ন্যায্যমূল্যে মালামাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উত্তোলন করেন। এছাড়া, কেশবপুর উপজেলার বারী এন্টারপ্রাইজ, বাঘারপাড়া উপজেলার ভূঁইয়া ইন্টারপ্রাইজ এবং অভয়নগর উপজেলার এসএমসি ট্রেডার্স পণ্য উত্তোলন করেছে। এদের মধ্যে যশোরের আদি ইন্টারপ্রাইজ ও মাহফুজ ট্রেডিং ট্রাকে করে যশোর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ও কালেক্টরেট চত্বরে টিসিবির পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে। তারা প্রত্যেকে প্রতিদিন ৫শ’ কেজি চিনি, ৪শ’ কেজি ছোলা, ৭শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ৩শ’ কেজি মশুর ডাল এবং ৫শ’ কেজি খেজুর বিক্রি করছে। অন্যান্যরা ১ হাজার কেজি চিনি, ১ হাজার লিটার সয়াবিন তেল, ৫শ’ কেজি ছোলা এবং ৪শ’ কেজি করে মসুর ডাল উত্তোলন করেছে।
টিসিবি কর্মকর্তারা বলছেন, গত ২৩ এপ্রিল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক জেলা শহরে চারটি এবং উপজেলা শহরে তিনটি করে ডিলার থাকার কথা। সেই অনুযায়ী যশোরে ২৫ জন ডিলার দরকার। কিন্তু যশোরে রয়েছে ২৯ জন ও গোটা জেলায় ৭২ জন। তবে বেশি থাকলেও তাদের অধিকাংশ এখনো পণ্য উত্তোলন করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উত্তোলন না করা প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ এবার বাতিল করা হবে বলে টিসিবি’র কর্মকর্তারা বলেছেন।
টিসিবির কর্মকর্তারা বলেন, যশোর শহরে ট্রাকে করে ২ জন ডিলার প্রতিদিন ১ হাজার কেজি খেজুর, ৬শ’ কেজি মসুর ডাল, ১ হাজার কেজি চিনি, ৮শ’ কেজি ছোলা এবং ৮শ’ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করছে। তারা প্রত্যেকে তিনদিন পর পর তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কেশবপুর, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগরে একজন করে ডিলার তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করেছে। আর লাইসেন্সধারী যারা রয়েছে কিন্তু পণ্য উত্তোলন করেনি তাদের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। 
এ ব্যাপারে যশোরের একজন ডিলার জানিয়েছেন, টিসিবি’র খুলনা অফিস থেকে তেল ছাড়া বাকী মালামাল চাহিদা অনুযায়ী দেয়া হচ্ছে না, বিধায় তারা লোকসানের ভয়ে মাল উত্তোলন করছেন না। পর্যাপ্ত তেল ছাড়া বাকী টিসিবি’র মালামাল দেয়া হচ্ছে সামান্য পরিমাণে। যা বিক্রি করে ট্রাক ভাড়া লোক নিয়োগ করে তাদের ঘাটতিতে পড়তে হচ্ছে। তাই টিসিবি’র মালামাল তোলা থেকে তারা বিরত রয়েছেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ