খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে ছেলে ধরা আতঙ্ক!

খুলনায় রোহিঙ্গা সন্দেহে পিটুনি খাচ্ছেন বয়স্ক ভিক্ষুক ও মানষিক রোগিরা

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১৫ মে, ২০১৯ ০১:০৫:০০

খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা আতঙ্ক দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারন করছে। প্রতিদিনই জেলার কোন না কোন স্থানে ছেলে ধরা (শিশু চোর) রোহিঙ্গা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনি বা লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন এ দেশেরই বয়স্ক ভিক্ষুক ও মানষিক রোগিরা। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ডুমুরিয়া উপজেলায় ষাট্টোর্ধ এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। থানা পুলিশের তদন্তে এমনই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। 
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১১ মে ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়নে শিশু চোর রোহিঙ্গা সন্দেহে গণপিটুনিতে ষাট্টোর্ধ এক বৃদ্ধ নিহত হন। এ ঘটনায় মেহেদী মোড়ল (৩০) ও মধুসুদন মন্ডল (২৯) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন অভিযুক্ত এ দু’যুবক। এ বিষয়ে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) পুষ্পেন্দু দেবনাথ জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স ৬০-৬৫ বছর হতে পারে। তিনি রোহিঙ্গা কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নিহত ব্যক্তি মানষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে তদন্তে পাওয়া যাচ্ছে। তার পরিচয় জানতে আঙ্গুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। 
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দিঘলিয়ার দেয়াড়া কহিনুর স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে ভিক্ষা করতে গিয়ে পাখী বেগম (৫০) ও তার মানষিক ভারসাম্যহীন মেয়ে হীরা (২৫) শিশু চোর রোহিঙ্গা সন্দেহে লাঞ্চনার শিকার হন। এলাকাবাসী তাদেরকে ধরে টেনে হিচড়ে দিঘলিয়া থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার মৃত কাউয়ুম শেখের স্ত্রী পাখী বেগম ও তার মেয়ে হীরা ভিক্ষা করতে দিঘলিয়ায় এসেছিলেন। তাদের সাথে থাকা ব্যাগে চাল ও খুচরা পয়সা পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাদের স্বজনরা এসে থানায় ভিক্ষুক মা-মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। 
দিঘলিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক খান এমরান হোসেন জানান, গ্রামের মানুষ নতুন কোন মুখ দেখলে বর্তমানে রোহিঙ্গা মনে করে ধরে ফেলছেন। গতকালও এই অবস্থায় পড়েছে ফুলতলা এলাকা থেকে আসা দু’জন ভিক্ষুক নারী। তাদেরকে থানায় এনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে তারা নির্দোষ। পরে তাদের স্বজনদের ডেকে এনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 
গতকাল মঙ্গলবার খুলনা মহানগরীর যোগীপোল ভাঙ্গা মসজিদের সামনে থেকে স্থানীয় জনতা রোহিঙ্গা সন্দেহে মোঃ ফরিদ নামে এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। একই দিন সকাল ১০টায় যাব্দিপুর বৌ-বাজার এলাকা থেকে রাশিদা বেগম (৫০) নামের এক মহিলাকে রোহিঙ্গা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করেন স্থানীয়রা। বেলা ১২টায় মীরেরডাঙ্গা পেট্রোলিয়ামের সামনে থেকে দেবদাস (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে রোহিঙ্গা সন্দেহে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা রোহিঙ্গা সন্দেহে ৩ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তারা বাংলাদেশের মানুষ। তাার পেশায় কেউ ভিক্ষুক এবং কেউ মানষিক রোগী। 
এছাড়াও খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, রূপসা, ফুলতলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটাসহ মহানগরের বিভিন্ন অলি-গলিতে এ ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন সময় এধরনের প্রপাগন্ডা ছড়াচ্ছেন এক শ্রেণীর মানুষ। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষ যেভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হচ্ছেন তেমন কিছু নয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। 
এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশের সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে এলাকার মানুষ তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করবে। তবে আইন নিজেদের হাতে তুলে না নিলে সকলের জনই ভালো হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডুমুরিয়ায় এক বৃদ্ধকে রোহিঙ্গা সন্দেহে মারপিটের কারনে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবক হত্যার অভিযোগে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সাধারন মানুষকে পুলিশের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন । 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ