খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আন্দোলনের নবম দিনেও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ

উৎকন্ঠায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৫ মে, ২০১৯ ০০:৪৯:০০

খুলনা-যশোর অঞ্চলের পাটকল শ্রমিকদের মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলো দুর্বিষহ জীবন পার করছে। শ্রমিকদের ১০ থেকে ১৩ সপ্তাহের মজুরী, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ৪ মাসের বেতন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে গত ৫ মে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনে নামে খুলনা-যশোরের ৯টি পাটকলের প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক। গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনের ৯ম দিনেও মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে একই কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকেরা। সকালে মিলগেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং বিকেল ৪টায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের তিনটি স্থানে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিকরা। অবরোধের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়ক ও  রেলপথের যাত্রীদের। 
এদিকে ঈদ সমাগত। অথচ এখনো পর্যন্ত শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জন্য শ্রমিকদের মাঝে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। অবশ্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া মজুরির প্রদানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আশ্বাসে এখন আর শ্রমিকদের চলছে না। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অব্যাহত আন্দোলনে এবার শিল্প এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বিল না পেয়ে এবং বিজেএমসির নিরব ভূমিকায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা পর্যায়ক্রমে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের হাতে টাকা নেই, পেটে ভাত নেই, বকেয়া মজুরির পাশাপাশি সমাগত ঈদুল ফিতরে বোনাস পাবে কি না এমন ভাবনা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছে শ্রমিকরা।  
শ্রমিকরা জানান, বিগত ৯ দিন (শুক্রবার বাদে) খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের চাকা বন্ধ। কর্মবিরতি চলাকালেই প্রথম রমজান থেকে শ্রমিকরা বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ, নন-সিবিএ নেতারা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে এনে চিড়া, গুড়, মুড়ি, শরবত দিচ্ছে রোজাদার শ্রমিকদের। প্রতিদিনই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।   
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন জানান, আমাদের এখনও পর্যন্ত কোনো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এসব নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। বিজেএমসি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ৯ দফা দাবি যতোদিন আদায় না হচ্ছে, ততোদিন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 
বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। সে কারণে সময়মতো পণ্য বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। মিলগুলো সময়মতো শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে পারছে না। সার্বিক বিষয়টি বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।’
শ্রমিকরা জানান, তারা নিজেরা চাঁদা তুলে এবং এলাকার দোকানীরা কিছু আর্থিক সহযোগিতা করছেন। সেই টাকায় তারা প্রতিদিন রাস্তার ওপর বসে ইফতার করছেন। 
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, 'গত ১৫ এপ্রিল বিজেএমসিতে বৈঠকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের সব বকেয়া টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। শ্রমিকরা সময়মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় বকেয়া সব টাকা একসঙ্গে প্রদান না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা।’
এদিকে আন্দোলন আরো জোরদার এবং পাট শিল্পকে রক্ষা করতে ৯ মিলের শ্রমিকদের নিয়ে যুব পাট শিল্প রক্ষা কমিটি গঠন করেছে। প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মোঃ নুর ইসলামকে আহ্বায়ক ও জেজেআই জুট মিলের শমসের আলমকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছ। কমিটর অন্যান্য সদস্যরা হলেন অলিয়ার রহমান, মানিক পাভেজ, আজগর মোল্লা, মোঃ শাজাহান, আঃ রাজ্জাক, শফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, মোঃ রাশেদ, মনোয়ার হোসেন, আঃ রাজ্জাক, মোঃ ইউনুস, মোফাজ্জেল হোসেন, ফজর আলী, খায়রুল মল্লিক, মোঃ পিপলু, নাজমুল, সাব্বির, নান্নু, ইসমাইল।   


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২