খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ফণী’র আঘাতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৩২টি পোল্ডারের প্রায় একশ’ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত

একের পর এক দুর্যোগ, নানা শঙ্কায় উপকূলবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৫ মে, ২০১৯ ০১:০৫:০০

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যায়, তবুও ভেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্ক আর আশঙ্কা কাটে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর। টেকসই ভেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষাকালের স্বাভাবিক জোয়ারে ভঙ্গুর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে নোনা পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এমনি শঙ্কা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার নদীকূলের বাসিন্দাদের। সিডরের এক যুগ পার হলেও বিধ্বস্ত ভেড়িবাঁধ টেকসই সংস্কার হয়নি। এর মধ্যে, সম্প্রতি ফণী’র আঘাতে এ অঞ্চলের একশ’ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, খুলনা ও সাতক্ষীরার এক হাজার ছয়শ’ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। বাগেরহাটের প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৩২টি পোল্ডারের প্রায় একশ’ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়। জরুরি ভাবে খুলনার ১৫টি, সাতক্ষীরার ২২টি ও বাগেরহাটের ৮টি স্থানে প্রাথমিকভাবে সিনথেটিক ব্যাগ, জিও ব্যাগ ও মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষা করা হয়। তবে তা কোনভাবেই টেকসই হবে না; বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ টেকসই সংস্কার করা না হলে স্বাভাবিক জোয়ারে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খুলনার কয়রা ও দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি, বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী এলাকার কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সামান্য পূর্ণিমার জোয়ারে ভেঙে যেতে পারে ভেড়িবাঁধ। নদী উত্তাল হয়ে উঠলে অথবা সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ভেড়িবাঁধ ভাঙন আতঙ্কে আঁতকে ওঠে উপকূলের মানুষ।সাতক্ষীরার পাউবো-২ নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, সাতক্ষীরার দুই ডিভিশনের আওতায় মোট ২৭ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এই ভেড়িবাঁধকে স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বাজেট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কয়রা দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এড. মঞ্জুর আলম নান্নু বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় এলাকার ভেড়িবাঁধের বেশির ভাগই এখন নাজুক। অনেক এলাকায় বাঁধের অস্তিত্ব নেই। উপকূলের ভেড়িবাঁধ সংস্কার ও মেরামতের নামে প্রতিবছর চলে সীমাহীন দুর্নীতি। সরকারি অর্থের হয় হরিলুট। কিন্তু হয় না স্থায়ী টেকসই ভেড়িবাঁধ। কার্যকর বিচারও হয় না সংশ্নিষ্টদের।
সাতক্ষীরার গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, ফণী’র আঘাতে ইউনিয়নে ২৭ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের অধিকাংশ স্থানের ক্ষতি হয়েছে। টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া না হলে বর্ষাকালে কয়েকটি পোল্ডারে ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়বে নোনাপানি।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, “পাউবো থেকে প্রাপ্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। সুপারিশ করেছি-যাতে বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়। অন্যত্থায় কয়েকটি পোল্ডার ভেঙে নদীর নোনা পানিতে প্লাবিত হতে পারে লোকালয়।” অনুরুপ মন্তব্য করলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






ভাঙনে আয়তন হারাচ্ছে সুন্দরবন

ভাঙনে আয়তন হারাচ্ছে সুন্দরবন

০২ জুলাই, ২০১৭ ০১:৪০

নিয়ম মানছে না খুলনার অনেক ইটভাটা

নিয়ম মানছে না খুলনার অনেক ইটভাটা

১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০২:০০




ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২