খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

শ্রীলঙ্কায় মসজিদে হামলা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ১৪ মে, ২০১৯ ০০:২৩:০০

ইস্টার সানডের দিনে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও অভিজাত হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর থেকেই দেশটিতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। এর জের ধরে রবিবার কিছু মানুষ দেশটির মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মসজিদ ও দোকানপাটে হামলা চালায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার রাতে দেশটির সহিংসতা কবলিত এলাকায় রাতে কারফিউ জারি করা হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির পশ্চিমের খ্রিস্টান-অধ্যুষিত উপকূলীয় শহর চিলোতে কিছু যুবক মসজিদে ও মুসলিমদের দোকানে পাথর নিক্ষেপ করে। তারা একজনকে পিটিয়েছেও।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ফেসবুকে ওই পোস্টটি দিয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী আবদুল হামিদ মোহাম্মদ হাসমার। তিনি তাতে লেখেন, ‘একদিন তোমাদের কাঁদতে হবে।’ তারপরই সহিংসতার শুরু হয়। পুলিশ হাসমারকে গ্রেফতার করে।
এর পাশাপাশি মসজিদ ও দোকানে হামলার অভিযোগে কুরুনেগালা জেলা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলেও পুলিশের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সুমিত আতাপাত্তু বলেন, এর পরই লোকজন গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে রাতে কারফিউ জারি করা হয়।’
শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় মুসলমানদের অসংখ্য বাড়িঘর, মসজিদ ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে মুসলিম-অধ্যুষিত শহর কানিইমার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘তারা দুই ঘণ্টা ধরে অনবরত হামলা চালিয়েছে। তারা এই এলাকার একটি বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে প্রায় একশ’ হামলাকারী ছিল।’
মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলছে, মুসলিমরা হামলাকারীদের যখন প্রতিহত করতে এগিয়ে এসেছিল, পুলিশ তখন তাদের ভেতরে যেতে বলে। তবে এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও নেগম্বোর বেশ কয়েকটি হোটেল ও গির্জায় সিরিজ বোমা হামলা চালায় এক নারীসহ নয়জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। এতে ২৫৩ জন নিহত হন।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই হামলার দায় স্বীকার করলেও শ্রীলঙ্কা সরকার স্থানীয় ইসলামী সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতকেই (এনটিজে) দায়ী করছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এ ঘটনার পর এনটিজেকে নিষিদ্ধ করেছে এবং এর শতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে। আরো অনেকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








নেপালে বন্যায়  নিহত বেড়ে ২৮

নেপালে বন্যায়  নিহত বেড়ে ২৮

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০১:০২






ব্রেকিং নিউজ