খুলনা | রবিবার | ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
দলে অনুপ্রবেশকারী কোন জামায়াত-বিএনপিকে আ’লীগের টিকিট দেয়া যাবে না : মিজানজনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীসাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দুই কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ প্রত্যাহার : তদন্ত কমিটিধান কেনায় আরো ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপি’রখুলনা চেম্বারে ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন কাজী আমিনচার মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১১৮ নাগরিক নিহত নারী ধর্ষণ ৩৫৪, শিশু ২৩৪ : গুম ৬ নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা : মমতার অভিযোগ 

উপকূলবাসীর খাবার পানির আধার পুকুর রক্ষায় উদ্যোগ নিন

১২ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

উপকূলবাসীর খাবার পানির আধার পুকুর রক্ষায় উদ্যোগ নিন

যেখানে বছরের ১২ মাস সুমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয় সেখানকার মানুষেরা বেঁচে থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে পুকুর কেটে বর্ষার পানি ওই পুকুরে ধারন করে মিষ্টি পানির চাহিদা মেটায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অবস্থাও অনেকটা এ রকম। বছরের বেশির ভাগ সময়ে তারা লবণাক্ত পানির সঙ্গে বসবাস করলেও পান করার মতো কোনো পানি পায়না। কেননা, সেখানে সমুদ্র বা নদী থেকে যে লবণাক্ত পানি আসে, তা মুখে দেওয়া যায় না। এমনকি গৃহস্থলী কাজেও তা ব্যবহার করা যায় না।
খুলনার দাকোপ, কয়রাসহ সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার অধিকাংশ গ্রামগুলিতে এ অবস্থা বিরাজমান। এখানে সুপেয় পানির প্রধান উৎস পুকুর। বর্ষার দিনে কিছু বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা হয়, যা তাদের মাস দু’য়েকের চাহিদা মেটাতে পারে। বাকি ১০ মাস ওই পুকুরই একমাত্র ভরসা। নদীর লবণাক্ত পানি পৌঁছাতে পারে না, এ রকম স্থানেই গ্রামবাসী পুকুর কেটে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে। কিন্তু পুকুর কাটা অনেক বেশি ব্যয় সাপেক্ষ বলে সব গ্রামে সেটি কাটা সম্ভব নয়। ফলে এক গ্রামে একটি পুকুর থাকলে আশপাশের গ্রামের মানুষও সেখান থেকে তাদের খাওয়ার পানি সংগ্রহ করে। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
খুলনার দাকোপ উপজেলার সর্বদক্ষিণের সুন্দরবন সংলগ্ন কালাবগী গ্রামে ২০০৭ সালে দীপায়ন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা যে পুকুরটি কেটেছিল, সেটিই এই এলাকার মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস। কিন্তু শিবসা নদীর তীরের পুরোনো বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০০ গজ ভেতরে গিয়ে যে নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়, তার ভেতরে ওই পুকুরও পড়ে গেছে। পাউবো পুকুরের পাশে লাল কাপড় টানিয়ে জায়গা অধিগ্রহণের নোটিশও জারি করেছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধ নির্মাণ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআইপি) অধীনে পাউবো এই বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী পুকুরটি রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসক ও পাউবোর কাছে আবেদন জানিয়েছে। পাউবোর কর্মকর্তাদের দাবি, বাঁধ নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা না থাকায় পুকুরটিতে হাত দিতে হয়েছে। তবে তাঁরা যতটা সম্ভব পুকুরটি রক্ষার চেষ্টা করবেন।
পাউবো কর্মকর্তাদের এই দাবি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুকুরের আংশিক জমি বাঁধের ভেতরে গেলে পুকুরটির পানি সুরক্ষিত থাকবে না। অতএব, পুকুরটির কোনো ক্ষতি করা যাবে না। বাঁধ নির্মাণের উদ্দেশ্য নদীর তীরবর্তী মানুষকে রক্ষা করা, তাদের ঘরবাড়ি ও খেতের ফসল নিরাপদ রাখা। কিন্তু এলাকাবাসীর সুপেয় পানির উৎসটি ধ্বংস হয়ে গেলে তারা কীভাবে বাঁচবে? উল্লিখিত পুকুরটি শুধু ওই গ্রামের চাহিদা মেটায় না, আশপাশের বেশ কটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষও এর ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি সুন্দরবনের জেলে, মৌয়াল ও পেশাজীবি বাওয়ালীদের নির্ভও করতে হয় এই পুকুরের পানির উপর। অতএব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত হবে পুকুরটি রক্ষা করেই বাঁধ নির্মাণ করা।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








সাবাস টিম টাইগার 

সাবাস টিম টাইগার 

১৯ মে, ২০১৯ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ