খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে কার্ডিওলোজি ইউনিট : সেবা নিয়ে রোগীদের অসন্তুষ্টি

বশির হোসেন    | প্রকাশিত ১১ মে, ২০১৯ ০১:০০:০০

মাত্র ২ জন চিকিৎসক দিয়ে কোন রকমে চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলোজি বিভাগ (সিসিইই)। তবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন না এখানে। বেশিরভাগ এসিই নষ্ট। সপ্তাহে একদিন ইকো ছাড়া বিশেষ কোন সেবা নেই এখানে। ফলে কার্ডিওলোজির মত অতিগুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটিতে রোগী ভর্তি হতে সাহস পাচ্ছে না। গত দুই দিন সেখানে গিয়ে দেখা যায় ১৪টি বেডের ১০টিই ফাঁকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সমৃদ্ধ কার্ডিওলোজি বিভাগ থাকবে না এটা মেনে নেয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ৭ মাস ধরে ৫টি এসি নষ্ট হয়ে আছে। দুইটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে একটি নষ্ট, অপরটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। নেই রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার চিকিৎসক। অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ থাকলেও এই মানের কোন চিকিৎসক নেই এখানে। এসবের মধ্যে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিভাগটি।
গতকাল রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে ১৪টি বেডের মধ্যে ৪টি বাদে সকল বেড ফাঁকা। করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) যে ধরণের সেবা থাকার কথা তা নেই এখানে। তাই রোগীদের বাড়তি আগ্রহ নেই এই ওয়ার্ডে। অন্যান্য ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক ডিউিটি চিকিৎসক, সহকারী রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রার থাকলেও এখানে তা নেই। মাত্র দু’জন সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসক রয়েছে। এরা হচ্ছেন ডাঃ স ম দেলোয়ার হোসেন এবং ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল। ডাঃ দেলোয়ার হোসেন দিনে দুইবার রাউন্ড দিয়ে রোগী দেখেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ খুলনা বিএমএ ও স্বাচিপ এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আলাদা কোন সিসিইউ নেই। কিন্তু রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এটি চালু করা হয়েছে। এখন ৫শ’ শয্যা চালু হয়েছে, অতি শিগগিরই পূর্ণ জনবল ও সেবা পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।
বিএমএ খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, সিসিইউ ইউনিটটি একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালু রেখেছে। সিসিইউ বলতে যা বোঝায় এখানে তার কিছুই নেই। মনিটরিং ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও অন্যান্য জরুরী সেবা এখানে নেই। সিনিয়র চিকিৎসকদের পদই সৃষ্টি করা হয়নি। তবে খুলনার মানুষের কার্ডিওলোজি সেবার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের পড়াশুনার জন্যও সিনিয়র চিকিৎসকের প্রয়োজন।যা থেকে শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এসি নষ্ট থাকার বিষয়টি পিডব্লিউডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এখন তারা কখন ঠিক করবে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, জনবল সঙ্কট রয়েছে দীর্ঘবছর ধরে। খাতা কলমে হাসপাতালের জন্য সিসিইউতে আলাদা বিভাগ চালু নেই। রোগীদের স্বার্থে এটা খোলা হয়েছে। বর্তমানে ৫শ’ বেড চালু হওয়ায় এখানে পদ সৃষ্টি ও  চিকিৎসক দেয়া সম্ভব হলে ইউনিটটি ভালোভাবে চালু করা যাবে। 
রোগীর আত্মীয় আলামিন হাওলাদার ইসলাম জানান, সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার পাওয়া যায় না। কিছু হলেই নার্সদের কাছে বলা হচ্ছে। তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।  ইসিজি অনেক সময় বাইরে থেকে করে আনা লাগছে। সব মিলে এখানকার সিসিইউ সেবার মান খুবই নাজুক বলে মনে করেন তিনি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮




ব্রেকিং নিউজ











আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮