খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এসএসসি’র ৫ বছরের পরিসংখ্যান

রেকর্ড সাফল্যে মেয়েদের বাজিমাত

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ০৯ মে, ২০১৯ ০০:২৯:০০

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে মেয়েদের সাফল্যের জয়জয়কার চলছে। গত পাঁচ বছর তারা ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার ফলাফলে বাজিমাত করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত ৫ বছরের এসএসসিতে মেয়েদের চেয়ে ১২ সহস্রাধিক বেশী ছেলে পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তবে জিপিএ-৫ এ এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। এ সময়কালে তারা মেয়েদের চেয়ে তিন সহস্রাধিক বেশী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় মেয়েদের সাফল্য বেশী। তারা পাসের হারে ছেলেদের থেকে অনেক বেশী এগিয়ে রয়েছে। প্রতিটি বছরেই ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী থাকলেও মেয়েদের পাসের সাফল্য অনেক বেশী। সোমবার প্রকাশিত এসএসসি’র ফলাফলে দেখা যায় মেয়েদের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার ছেলে পরীক্ষার্র্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩১০ জন। এরমধ্যে তিনটি বিভাগে ছেলে ৯১ হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮১ হাজার ৬৩৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৯ হাজার ৫৫০ জন। আর মেয়ে ৯১ হাজার ১২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৪ হাজার ৫১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৭ হাজার ৭২ জন। এ হিসেবে চলতি বছরে মেয়েদের চেয়ে ২৪ শ’ ৭৮ জন ছেলে বেশী অকৃতকার্য হয়েছে। অনুরূপভাবে ২০১৮ সালের এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯০৩ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৯ জন। পাসের হার ছিল ৭৬.৬৪ ভাগ। পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ৯২ হাজার ৪৪৩ জনের মধ্যে পাস করেে ৬৮ হাজার ৮১৩ জন। পাসের হার ৭৪.৪৪ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ২৩ হাজার ৬৩০ জন। আর মেয়ে ৯১ হাজার ১৪২ জনের মধ্যে পাস করে ৭১ হাজার ৮৮২ জন। তাদের পাসের হার ৭৮.৮৭ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ১৯ হাজার ২৬০ জন। এ হিসেবে মেয়েদের চেয়ে ৪ হাজার ৩৭০ জন বেশী ছেলে অকৃতকার্য হয়েছে। ২০১৭ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন। এর মধ্যে পাস করে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন। পাসের হার ছিল ৮০.০৪ ভাগ। মোট ৭৮ হাজার ১৬০ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৬০ হাজার ৯৭১ জন। ছেলেদের পাসের হার ৭৮.০১ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ১৭ হাজার ১৮৯ জন। আর মেয়ে ৭৫ হাজার ৫১৩ জনের মধ্যে পাস করে ৬২ হাজার ২৪ জন। পাসের হার ৮২.১৪ ভাগ। এ হিসেবে মেয়েদের চেয়ে ৩ হাজার ৭শ’ জন বেশী ছেলে অকৃতকার্য হয়। ২০১৬ সালের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন। এদের মধ্যে পাস করে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৪ জন। পাসের হার ছিল ৯১.৮৫ ভাগ। মোট ৭৫ হাজার ৭৩০ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৬৯ হাজার ২১৭ জন। পাসের হার ৯১.৪০ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ৬ হাজার ৫১৩ জন। মেয়ে ৭২ হাজার ৩৩৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৬৬ হাজার ৭৭৭ জন। পাসের হার ৯২.৩২ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ৫ হাজার ৫৫৭ জন। এ হিসেবে মেয়েদের চেয়ে ৯৫৬ জন বেশী ছেলে অকৃতকার্য হয়। ২০১৫ সালের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৭৬৮৫ জন। এদের মধ্যে পাস করে ১ লাখ ৭ হাজার ৯০৮ জন। পাসের হার ৮৪.৫১ ভাগ। মোট ৬৫ হাজার ৩৯১ ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৫৫ হাজার ১১৭ জন। পাসের হার ৮৪.২৯ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ১০ হাজার ২৭৪ জন। মেয়ে ৬২ হাজার ২৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৫২ হাজার ৭৯১ জন। পাসের হার ৪৮.৭৪ ভাগ। অকৃতকার্য হয় ৯ হাজার ৫০৩ জন। এ হিসেবে মেয়েদের চেয়ে ৭৭১ জন বেশী ছেলে অকৃতকার্য হয়।
এসএসসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত পাঁচ বছরে ছেলেরা মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৬৭ হাজার ১৬৫ জন। আর মেয়েরা অকৃতকার্য হয়েছে ৫৪ হাজার ৮৮১ জন। এ হিসেবে মেয়েদেরে চেয়ে ১২ হাজার ২৭৫ জন বেশী ছেলে অকৃতকার্য হয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে ছেলে মেয়ে মিলে গড়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৭ জন পরীক্ষার্থী। 
এদিকে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসএসসিতে বিগত পাঁচ বছরে জিপিএ-৫ পেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। এ সময়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৪৪৫ ছাত্র-ছাত্রী। এদের মধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ২২ হাজার ৭২৯ জন ও মেয়েরা পেয়েছে ১৯ হাজার ৭১৬ জন। এ হিসেবে মেয়েদের চেয়ে ৩ হাজার ৩৫ জন বেশী ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১৮ সালের এসএসসিতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৩৯৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছেলেরা পায় ৫ হাজার ১৮ জন ও মেয়েরা পায় ৪ হাজার ৩৭৭ জন। ২০১৭ সালে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৪৬০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলেরা পায় ৩ হাজার ৫২৪ জন ও মেয়েরা পায় ২ হাজার ৯৩৬ জন। ২০১৬ সালে মোট জিপিএ-৫ পায় ৯ হাজার ৪৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলেরা পায় ৫ হাজার ৮৫ জন ও মেয়েরা পায় ৪ হাজার ৩৫৯ জন। ২০১৫ সালে মোট জিপিএ-৫ পায় ৭ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলেরা পায় ৪ হাজার ১৩৯ জন ও মেয়েরা পায় ৩ হাজার ৫৯ জন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ফলাফলে মোট জিপিএ-৫ পায় ৯ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলেরা পায় ৪ হাজার ৯৬৩ জন ও মেয়েরা পায় ৪ হাজার ৯৮৫ জন।
এসব ব্যাপারে যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা শারমিন সুলতানা বলেন, মেয়েরা সব বিষয়ে সুশৃঙ্খল ও মনোযোগী। তারা সব কাজই মনোযোগ সহকারে করে থাকে। পড়াশুনাও তার বাইরে নয়। এ কারণে লেখাপড়ায় তাদের সাফল্য বেশী বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক একেএম গোলাম আযম বলেন, মেয়েরা মমতাময়ী, মেধাবী ও বুদ্ধিমতি। তারা যেটা করে সেটা মনোযোগ সহকারে করে। এ কারণে সবক্ষেত্রেই এখন মেয়েরা এগিয়ে। আর ছেলেরা ফেসবুক ও আড্ডাবাজিতে সময় নষ্ট করে। পড়াশুনায় ছেলেরা আর একটু সময় ব্যয় করলে তারা এগিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
বিষয়টি নিয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, মেয়েরা পড়াশুনা বেশী করে। সে পরিমাণ পড়ার টেবিলে ছেলেরা বসে না। আর শিক্ষার্থীর অভিভাবক মায়েরা টিভি চ্যানেলের সিরিয়ালে সময় কাটিয়ে ছেলেদের পড়াশুনার ঠিকমত খবর রাখেন না। তারা সামনে মেয়েদের পেয়ে তাদের দেখভাল বেশী করে থাকে। এ কারণে মেয়েরা এগিয়ে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২