খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

তিনপক্ষের সিন্ডিকেটে সর্বহারা সাধারণ রোগী

বারো টাকার ইফিডরিন ইনজেকশন বিক্রি হচ্ছে তিনশ’ থেকে সাতশ’ টাকা! 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ০৯ মে, ২০১৯ ০১:১০:০০

সরবরাহের সংকট দেখিয়ে ১২ টাকার ইফিডিুন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। ওষুধ কোম্পানি, দোকানদারদের সিন্ডিকেটের কারণে সর্বশান্ত হচ্ছে রোগীরা। আর এই সুযোগে ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড বিক্রি করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর হাসপাতালের সামনের একাধিক ওষুধ বিক্রেতারা নাম প্রকাশ না শর্তে জানিয়েছে সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের অনেকেই এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। আগে যখন ইফিডরিন ১২ টাকা ছিলো তখন একটি লিখতো আর এখন ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এখন লেখে দু’টি।
হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন ফার্মেসীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিটি ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ১২ টাকা। কিন্তু সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত।
ওষুধের দোকানের একজন কর্মচারী জানান, প্রতিটি ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশনের পাইকারি মূল্য ১০ টাকা। আর খুচরা মূল্য ১২ টাকা। অথচ বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ইনজেকশনটি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন মূলত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এবং অস্ত্রোপচার ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ে ব্যবহার হয়ে থাকে। রোগীর রক্তের চাপ কমে গেলে কিংবা হৃদস্পন্দনের চাপ বাড়াতে এটি ব্যবহার করা হয়। অ্যাজমার চিকিৎসায়ও ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া মাদকসেবীরা তা নেশা হিসেবেও ব্যবহার করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন মূলত দেশের আটটি ওষুধ কোম্পানি উৎপাদন করে। এর মধ্যে এসিআই ফার্মার ভ্যাসোড্রিন, কেমিস্ট ল্যাবরেটরিজের সি-ফিড্রিন, গণস্বাস্থ্যের জি-ইফিড্রিন, ইনসেপ্টার সরড্রিন, জেসন ফার্মার ফিড্রিন, পপুলার ফার্মার ইফিডিন, রেনাটার ইফিড্রন ও টেকনো ড্রাগসের ইক্লোইড নামে বাজারজাত করে। তবে পপুলার ফার্মা বাদে অন্যান্য ওষুধ কোম্পানীর এই গ্রপের ওষুধ বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ওষুধ দোকানীরা জানিয়েছে। এই সুযোগে পপুলার ফার্মা ভয়ংকর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।
নগরীর হেরাজ মার্কেটসহ কয়েকটি ওষুধ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, পপুলার ফার্মাসিটিক্যাল এক বক্স (১২টি প্রতি বক্সে) ১২০ টাকায় বিক্রি করছে, তবে এই কোম্পানি থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ নিলেই কেবল কোম্পানি রেটে ইফিডিন বিক্রি করবে তারা। এর মধ্যে ৬ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি করবে ওষুধের দোকানদারদের চাহিদা অনুযায়ী এবং ৪ হাজার টাকার ওষুধ পপুলার ফার্মা যে ওষুধ দেবে তাই নিতে হবে। 
ফার্মেসী মালিকরা জানিয়েছে, পপুলার ফার্মার সব ওষুধ বাজারে চলে না ডাক্তারাও লেখে, বাধ্য হয়ে কিনে ফেলে রাখতে হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ইফিডিন বাজার রেটের চাইতে বেশি বিক্রি করে।
তবে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি দামে ইফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড ইনজেকশন বিক্রি করা হলেও খুলনায় সম্প্রতি ওষুধ প্রশাসনের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মহলের। ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের আইনের ৪০ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক দামে পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করে। তাহলে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
খুলনা জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন কৃত্তিম সংকট তৈরি করে ১২ টাকার ওষুধ বেশি দামে বিক্রি করা গুরুতর অন্যায় ও অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানীর ডিপো এবং বাজারে পরির্দশন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২