খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ |

পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিন 

০৯ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে দ্রুত উদ্যোগ নিন 

বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিকদের ডাকে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে লাগাতার শ্রমিক ধর্মঘট চলছে। খুলনার নয় পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রেখে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ অব্যহত রেখেছে শ্রমিকরা। প্রথম রমজানে তারে সড়কেই ইফতার ও নামাজ আদায় করেছে। খুলনা-যশোর মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় খুলনার সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি অবরোধের কবলে পড়ে সদ্য শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
গত মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকেরা উৎপাদন কাজে যোগদান করেননি। একই সাথে প্রথম রমজানে খুলনা-যশোর অঞ্চলের তিনটি পয়েন্টে শ্রমিকরা রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ এবং রাজপথেই নামাজ আদায়সহ ইফতার করেছেন। এর আগে নিজ নিজ মিল গেট থেকে থালা-বাসন হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা। মূলত ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষেই রাজপথে নেমেছে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা। তাদের ৭ থেকে ৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। মুদি দোকানীরা এখন আর তাদেরকে বাকি দিতে চাইছে না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
এর আগেও একাধিকবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তবে কোন কার্যকর সমাধান আমাদের চোখে পড়েনি। আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছে, বিজেএমসি পাট মৌসুমে সময়মতো কাঁচা পাট কেনার জন্য টাকা দেয় না। ফলে মৌসুম শেষে বেশী দামে কাঁচা পাট কিনতে হয়। যে কারণে মিলগুলি লোকসানের মুখে পড়ছে। যার দ্বায় কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাধে চাপাতে চাইছে। এবারও শ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকানোর কৌশল হিসেবে বিজেএমসি থেকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের জন্য পাটকলগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার প্রস্তাব দেয়া  হয়েছে। যা নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়েছে। তবে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে বিজেএমসি’র চিঠিতে সাধারণ শ্রমিকরা খুশি নয়। কারণ এর আগেও এভাবে একাধিকবার তাদের আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে তারা দ্রুত বকেয়া মজুরি চায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না। 
শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিকের টাকা পরিশোধ করা উচিৎ। অথচ মাসের পর মাস পাটকল শ্রমিকেরা তাদের শ্রমের মজুরী না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। মানবিক দিক থেকে এটা বড়ই লজ্জাজনক। এটা তাদের মৌলিক অধিকারের উপর বড়  ধরনের আঘাতের সামিল বলে আমরা মনে করি। শ্রমিকদের ন্যয্য দাবিগুলো  বিবেচনায় এনে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ