খুলনা | বুধবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

দুই মাস সাগরে মাদার ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশের চিংড়ি শিল্প

রুহুল কুদ্দুস, সাতক্ষীরা   | প্রকাশিত ০৮ মে, ২০১৯ ০১:০০:০০

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাস সাগরে মাদার (মা বাগদা) ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ফের সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প। সরকারি সিদ্ধান্তের এই সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থন্বেষী মহল ভারত থেকে অবৈধ পথে ভাইরাস যুক্ত নিম্নমানের নপ্লি (ছোট পোনা) দেশে এনে নার্সিং করে বাজারে বিক্রির পাঁয়তারা শুরু করেছে। ভারতীয় নপ্লি নার্সিং করা ভাইরাস যুক্ত চিংড়ি পোনা ঘেরে ছাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। ফলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের চিংড়ি শিল্প। 
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৬৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ৫৫ হাজার ১২২টি ছোট বড় চিংড়ি ঘের রয়েছে। চলতি ২০১৯ মৌসুমে চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন। এসব ঘেরে চিংড়ি পোনার চাহিদা রয়েছে ৩৩৪কোটি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৫৬টি এবং খুলনা অঞ্চলে ২৭টি মিলে দেশে মোট চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারি হ্যাচারী রয়েছে ৮৩টি। এছাড়া নার্সারী রয়েছে ১৮২টি।
মোস্তফা শ্রীম্প প্রোডাক্ট (ব্রান্ড-সৌদিয়া) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ কফিল উদ্দিন জানান, সাগরে এমনিতে মাদার সংকট চলছে। টাকা দিলেও মাদার মিলছে না। মাদার সংকটের কারনে কক্সবাজার ভিত্তিক চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারী অধিকাংশ হ্যাচারী ভরা মৌসুমে উৎপাদনে যেতে পারছে না। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভিত্তিক ৫৬টি হ্যাচারীর মধ্যে বর্তমানে ২১/২২টি চালু আছে। এসব হ্যাচারীতে যে পরিমান পোনা উৎপাদনে হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বাজারে এখন চিংড়ি পোনার সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে সরকার চলতি মে মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাসের জন্য সাগরে মাদার (মা বাগদা) ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাদার ধরা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনার সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে। ফলে চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুমে ঘেরে পোনা ছাড়তে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের চিংড়ি শিল্প। যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির উপর। তিনি দেশের চিংড়ি চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সাগরে মাদার ধরা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার দাবি জানান।
চিংড়ির সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দুই মাস সাগরে মা বাগদা (মাদার) ধরা বন্ধ থাকার কারনে এক মাস পরে বাজারে চিংড়ি পোনা সরবরাহ থাকবে না। আর কৃত্রিম পোনা সংকটের এই সুযোগে অবৈধ পথে ভারতীয় নিম্নমানের নপ্লি ঢুকবে বাংলাদেশে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্থানীয় কিছু হাচারী ও নার্সারীর মালিক অবৈধ পথে আনা নিম্নমানের এই ভারতীয় নপ্লি নাসিং করে তা বাজারজাত করবে। ফলে ভাইরাস যুক্ত নিম্নমানের এই ভারতীয় পোনা বাজার থেকে কিনে প্রতারিত হবে চিংড়ি চাষিরা। এই পোনা ঘেরে ছাড়ার কিছুদিন পর মাছে মড়ক দেখা দেয়। ফলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘেরের সমস্ত চিংড়ি মরে সাবাড় হয়ে যায়।
সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশের চিংড়ি ঘেরে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে সম্ভবত ভারতীয় নিম্নমানের পোনা থেকে। যা এখন দেশের চিংড়ি চাষ এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। চিংড়ি ঘেরে ভাইরাসের কারনে সর্বশান্ত হতে বসেছে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের অনেক চাষি। মা বাগদা ধরা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের এই সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থন্বেষী মহল ইতিমধ্যে ভারতীয় নিম্নমানের নপ্লি আনার পরিকল্পনা করছে। গত কয়েকদিন আগে সাতক্ষীরা শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ নিয়ে গোপন বৈঠকও করেছেন তারা। 
বাংলাদেশ মৎস্য চাষি সমিতির সভাপতি সাবেক মৎস্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ আফতাবুজ্জামান জানান, চিংড়ি চাষের এই ভরা মৌসুমে মাদার ধরা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনার সংকট দেখা দেবে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নপ্লি এনে তা বড় করে বাজারে বিক্রি করবে। এতে করে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অবৈধ পথে সব চেয়ে নিম্নমানের নপ্লিটা বাংলাদেশে পাঠায়। যে কারনে এই পোনা ঘেরে ছাড়ার কিছুদিন পর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষিরা। চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সাগরে মাদার ধরা বন্ধের সময়টা আরো পিছিয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই ক্ষেত্রে চিংড়ি চাষি, ব্যবসায়ী ও হ্যাচারী মালিকদের সাথে আলাপ আলোচনা করার দরকার ছিল। 
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম সরদার জানান, সাগরে দুই মাস মাদার ধরা বন্ধ থাকলে প্রথম এক মাস ওই পোনা দিয়ে চলবে। তবে পরের এক মাস একটু অসুবিধা হবে। এ সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিম্নমানের চিংড়ি রেণু, নপ্লি, পিএল ও চিংড়ি বিভিন্ন পন্থায় দেশের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষে ব্যাপক মড়ক এবং রপ্তানি বন্ধের জন্য এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে বা যাচ্ছে। বিষয়টি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে এবং চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিদেশী চিংড়ি রেণু, নপ্লি, পিএল ও চিংড়ি সীমান্ত দিয়ে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:১০









গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:১০


ব্রেকিং নিউজ












সুজনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

সুজনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০