খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

অযতœ-অবহেলায় ফেলানো রয়েছে বিভিন্ন স্থানে

খুলনায় রেলের পরিত্যক্ত ওয়াগনে মাদক ও জুয়ার নিরাপদ আড্ডা!

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৮ মে, ২০১৯ ০১:০০:০০

খুলনায় রেলের পরিত্যক্ত ওয়াগনগুলোতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলার নিরাপদ আড্ডা স্থলে পরিণত হয়েছে। নগরীর দৌলতপুর রেলস্টেশন, বয়রা জংশন, নওয়াপাড়া স্টেশন এবং খুলনা রেল স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের পরিত্যক্ত ওয়াগন। এসব ওয়াগনগুলো উন্মুক্ত ও নিরাপত্তা কম থাকায় খুব সহজেই এসব স্থানে মাদক বিকিকিনি ও জুয়ার আসর বসছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ বিব্রত খুলনা অঞ্চলের রেলওয়ের নিরাপত্তা শাখাটি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর অভাব দীর্ঘদিনের। নিরাপত্তা কর্মীরা সবাই থাকেন নিরস্ত্র। অনেক সময় মাদক ও জুয়া ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করা যায় না।
রেলওয়ের সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের দৌলতপুর, বয়রা, নওয়াপাড়া ও খুলনা স্টেশন এলাকায় ২২৪টি পরিত্যক্ত ওয়াগন প্রায় ৪ বছর ধরে পড়ে রয়েছে। যা সরকারি নির্দেশে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির করার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে ৯৩টি ওয়াগন নিলামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা নগরীর খালিশপুরের ২নং নেভীগেট মেইন রোডে অবস্থিত ‘মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ’ দৌলতপুর রেলস্টেশন থেকে সংগ্রহ করছেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দিনের বেলায় পরিত্যক্ত ওয়াগন রাখার স্থানে কোন রেলওয়ের কোন নিরাপত্তা কর্মীর দেখা মেলেনি। বরং খুবই অযতœ ও অবহেলায় বিভিন্ন স্থানে ফেলানো রয়েছে ওয়াগন। 
এ ব্যাপারে দৌলতপুর রেলস্টেশন মাস্টার বুলবুল আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ওয়াগান দেখাশুনোর দায়িত্ব আমার নয়। তবে নিলাম হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে আনে। এরপর তাদের ওয়াগন তারা বুঝে নেয়। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেলওয়ের নিরাপত্তা শাখা এগুলো দেখাশুনা করে।
নগরীর বয়রা ও খুলনা স্টেশনগুলোতে পড়ে থাকা ওয়াগন এলাকায়ও মাদক, অশ্লীলতা ও জুয়ার অভিযোগ রয়েছে। দিনের বেলায়ও এসব এলাকায় কোন নিরাপত্তা কর্মীর দেখা নেই। অভিযোগ রয়েছে, রেলস্টেশনের আশে পাশের বস্তি এলাকা ও মিল-কলকারখানার লোকজন এসকল অপরাধের সাথে জড়িত। তবে স্থানীয় থানা পুলিশ কখনই এগুলো আমলে আনে না। ফলে খুব সহজেই দুর্বৃত্তরা দিনে ও রাতে উভয় সময়েই এ এলাকাটিকে নিরাপদে ব্যবহার করে। 
খুলনা অঞ্চলের রেলওয়ের ওয়াগনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআই সরদার রফিকুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকট চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এরিয়া অনুযায়ী জনবল খুবই অপ্রতুল। তবে দিনে ও রাতে উভয় সময়েই ওয়াগনগুলো দেখাশুনার জন্য লোকজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা নিরস্ত্র থাকে। যার কারণে রাতে বা দিনে এসব দুষ্টু লোকের দেখা মিললেও কিছু করার থাকে না। তবে তিনি অভিযোগ করেন, এইসব এলাকার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান করতে পারে। কিন্তু তারা কখনও তা করেন না। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










যাকাত গরিবের হক

যাকাত গরিবের হক

২১ মে, ২০১৯ ০০:৫২