খুলনা | রবিবার | ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
দলে অনুপ্রবেশকারী কোন জামায়াত-বিএনপিকে আ’লীগের টিকিট দেয়া যাবে না : মিজানজনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীসাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দুই কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ প্রত্যাহার : তদন্ত কমিটিধান কেনায় আরো ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপি’রখুলনা চেম্বারে ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন কাজী আমিনচার মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১১৮ নাগরিক নিহত নারী ধর্ষণ ৩৫৪, শিশু ২৩৪ : গুম ৬ নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা : মমতার অভিযোগ 

রমজানে বাজারে নজরদারি বাড়ান

০৮ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

রমজানে বাজারে নজরদারি বাড়ান

শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। যদিও এটা সংযম সাধনার মাস, তবু এই সময়টাকে কেন্দ্র করে এমন কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যায়, যা সংযম সাধনার বিপরীত। যেমন রমজান শুরুর আগে থেকেই কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ দেখা দেয়, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনো বাস্তব যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়না। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অতিরিক্ত মুনাফালিপ্সা যে দায়ী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, রমজান মাসে ভোগ্য পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু কিছু ভোগ্য পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অবশ্য বাজারে সরকারের যথাযথ নজরদারি থাকলে এবং ব্যবসায়ী নেতারা অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়ে সতর্ক থাকলে যে তাদের মুনাফালিপ্সা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেতে পারে না, অন্তত কিছু ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তা কখনো কখনো দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, রমজান মাসে তাঁদের ওপর চাঁদাবাজদের উপদ্রব বেড়ে যায়। চাঁদাবাজেরা সাধারণত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকে। তাই তাদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে তৎপর হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদেরও এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধেও পণ্যবাহী যানবাহনের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ শোনা যায়। এটা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই ব্যবসায়ীদের কোনো অংশ যেন এমন অভিযোগ তুলতে না পারে যে চাঁদাবাজির কারণে তাঁরা ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
রমজান উপলক্ষে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি আয়-রোজগারের প্রবণতা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে রোজগার বাড়ানোর প্রয়াস অবশ্যই আইনি দৃষ্টিতে অপরাধ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পাপ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রমজান মাসে ইফতারি কেনাবেচা রীতিমতো উৎসবের রূপ ধারণ করে। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক পরিবারে ইফতারি বানানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া কর্মক্ষেত্রেও অনেকে ইফতার করেন। ফলে অনেকেই কেনা ইফতারির ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাজারে বিক্রি হওয়া এসব ইফতারিতে ভেজাল ও নানা ধরনের রং মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের খাবার রোজাদারদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। 
এবারও রমজান মাস শুরুর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমরা আশা করব, ব্যবসায়ী নেতারাও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল থাকবেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সরবরাহ-সংকট সৃষ্টি করে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বাজারে সরকারি সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পণ্য পরিবহনের পথে বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজির কারণে ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, চূড়ান্তভাবে এর অর্থনৈতিক চাপ গিয়ে পড়ে ভোক্তাসাধারণের কাঁধে। আমরা মনে করি, রমজান মাসে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার রাখা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে ভোক্তাদেরও সচেতন থাকা উচিত। পবিত্র রমজান মাসের সংযমি চেতনার প্রতি সবাই আন্তরিক থাকবেন এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








সাবাস টিম টাইগার 

সাবাস টিম টাইগার 

১৯ মে, ২০১৯ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ