খুলনা | মঙ্গলবার | ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আত্মসাৎ হচ্ছে অন্ধ হাফিজিয়া মাদ্রাসার টাকা 

খুলনায় প্রতিবন্ধী সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৬ মে, ২০১৯ ০১:০৫:০০

খুলনায় প্রতিবন্ধী সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নগরীর খালিশপুর থানার হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত ‘খুলনা প্রতিবন্ধী সংস্থা’ নামক সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়মের  অভিযোগ মিলেছে। পাশাপাশি উক্ত পরিষদ দ্বারা পরিচালিত ‘কাশিপুর অন্ধ হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামে বিকাশের মাধ্যমে দানের টাকা আতসাতের  অভিযোগ মিলেছে। গত ২৪ এপ্রিল খুলনা প্রতিবন্ধী সংস্থার সাধারণ সদস্যরা খুলনা মেট্রোপলিটন কমিশনার (কেএমপি) নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ বাতিলসহ অন্ধ হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিসাব তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়। 
এদিকে একই অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে খুলনা সমাজসেবা অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তপূর্বক আশানুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ার কারণেই পুনরায় সম্প্রতি সরকারি কয়েকটি দপ্তরে ফের অভিযোগ করেন অন্ধ কয়েকজন সদস্যরা।
কেএমপি কমিশনারের নিকট করা অভিযোগে উল্লে¬খ করা হয়, খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃতটি আর (টেষ্ট রিলিফ) এর টাকা প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন মিলে নিজেদের মধ্যে বন্টন করে নিয়েছেন। খুলনা প্রতিবন্ধী সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ দ্বারা পরিচালিত কাশিপুর অন্ধ মাদ্রাসার নিজস্ব মোবাইল নম্বর (০১৯১২৭৪০৬৭৫) নিকট বিকাশের মাধ্যমে যে দানের টাকা আসে তা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত আর্থিক বছরের অডিট রিপোর্ট করা হয় না। এর আগে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরে খুলনা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিকট উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৯টি লিখিত অভিযোগ করেন একাধিক সদস্যরা। যার প্রেক্ষিতে সমাজসেবা অফিসার (রেজিঃ) শায়লা ইরিন তদন্ত সাপেক্ষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। 
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগের সাথে কিছুটা প্রমাণ মেলে। যার মধ্যে উল্লে¬খযোগ্য হল, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের পূর্বের উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোন অডিট রিপোর্ট নথিতে পাওয়া যায়নি। কাশিপুর অন্ধ হাফিজিয়া মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য টিআরে টাকা প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদায়কারী কমিশন হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানা যায়। পাশাপাশি সংগঠনের  গঠনতন্ত্রটি পরিচালনা কাজে জটিলতার সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লে¬খ করা হয়। 
এ সকল বিষয়ে খুলনা প্রতিবন্ধী সংস্থার একাধিক অন্ধ সদস্যদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিষ্টানটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোন অভিযোগ করে সুরাহা মিলছে না। এমন অবস্থায় গত বছর সংস্থার কার্যকরী কমিটির নির্বাচন বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন মহলে আবেদন করা হলেও তা বন্ধ হয়নি। তারা দাবি করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলেই অনেক অপ্রকাশিত তথ্য প্রকাশ হবে।
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী আজগর আলী বলেন, টিআরের বিষয় আমরা কার্যনির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে কখনও কাউকে এখান থেকে কমিশন দেওয়া হবে না। এছাড়া তার কাছে বিগত দিনের প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের কাজ চলছে বলেও এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
খুলনা প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি কাজী সাফায়েত হোসেন প্যারেট এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি নামেই মাত্র সভাপতি। প্রতিষ্ঠানের কোন আয়-ব্যয় স্বচ্ছ নয়। সম্প্রতি মাহফিলের খরচ নিয়েও আমি আপত্তি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে আমার স্বাক্ষর ছাড়াই টাকা উঠানো হয়। এছাড়া অনেক বিষয় আছে যা বলা সম্ভব নয়। তবে এভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলতে থাকলে আমি পদত্যাগ করব।
খুলনা কেএমপি কমিশনার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নানাবিধ অভিযোগ সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য খালিশপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার তারিক রহমানকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারিক রহমানের সাথে কথা হলে তিনি তদন্তের জন্য কেএমপি কমিশনারের নির্দেশনার কথা স্বীকার করেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










জমজমাট খুলনা আয়কর মেলা 

জমজমাট খুলনা আয়কর মেলা 

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯


খুলনায় এলপি গ্যাসের দাম বাড়ছে

খুলনায় এলপি গ্যাসের দাম বাড়ছে

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০০


ব্রেকিং নিউজ