খুলনা | রবিবার | ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
দলে অনুপ্রবেশকারী কোন জামায়াত-বিএনপিকে আ’লীগের টিকিট দেয়া যাবে না : মিজানজনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীসাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দুই কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ প্রত্যাহার : তদন্ত কমিটিধান কেনায় আরো ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপি’রখুলনা চেম্বারে ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন কাজী আমিনচার মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১১৮ নাগরিক নিহত নারী ধর্ষণ ৩৫৪, শিশু ২৩৪ : গুম ৬ নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা : মমতার অভিযোগ 

ত্রাণ নয় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি

০৬ মে, ২০১৯ ০০:১০:০০

ত্রাণ নয় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি

৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে হালকাভাবেই বয়ে গেছে। যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, শেষ পর্যন্ত তেমন প্রলয়ঙ্করী রূপ নেয়নি ফণী, এটি স্বস্তিদায়ক। তবে ফণী’র আগমনের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষত খুলনার কয়রা, দাকোপ ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে ফণীর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি যে একেবারেই হয়নি তা নয়। খুলনাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ফসল তলিয়ে যাওয়া, চিংড়ি ঘেরের ক্ষয়ক্ষতি, কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়াসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাউবো’র ভেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। এতে ফসল ডুবিসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে অনেকে।
উপকূলীয় বাঁধসহ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো দৃঢ়, মজবুত ও টেকসই করে গড়ে তোলার দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে উপকুলবাসী আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন। প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এগুলোর কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এসব বাঁধের সিংহ ভাগই যে কত নাজুক অবস্থায় রয়েছে তা ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা হলেই বোঝা যায়। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বাঁধ রক্ষায় নেমে পড়ে। এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিদের ভূমিকা খুবই দায়সারা গোছের মনে হয়েছে। তাদের আচরণে মনে হয়, যেমনই হোক আমরা বাঁধ নির্মাণ করে দিয়েছি, এখন রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয়দের। অথচ জনগণের অর্থ দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি এসব বাঁধ নির্মাণ করে এবং করছে। তারা এমনভাবেই এগুলো নির্মাণ করছে যেন তা বালির বাঁধ হয়ে থাকে এবং বন্যায় বা জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। ভেসে গেলেই প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মকর্তাদের লাভ। তাদের মধ্যে এ প্রবণতা বিরাজমান, বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে পুনরায় অর্থ বরাদ্দ হবে এবং তাদের পকেট ভারি হবে। মানুষ, ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের, গবাদি পশু ভেসে গেল কি গেল না, তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। অর্থাৎ জনগণের অর্থে নির্মিত বাঁধ নিয়ে দুর্নীতিবাজ চক্র স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে নিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বাঁধ নিয়ে এমন খেলা চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ নিয়ে বাঁধগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, তা যদি সততার সঙ্গে নির্মাণ ও সংস্কার করা হতো, তাহলে দেশের অনেক প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষা করা পেত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শূন্যের কোটায় থাকত। 
আমরা মনে করি, বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় তা সরকারের কেন্দ্র থেকে সরাসরি মনিটর করা উচিত। বাঁধ নির্মিত হবে অথচ তা ভেসে যাবে, এ ধরনের বাঁধ নির্মাণের চেয়ে না নির্মাণ করাই ভালো। এতে অন্তত অর্থের অপচয় রোধ হবে। কাজেই বিদ্যমান বাঁধগুলোকে টেকসই-মজবুত করে গড়ে তোলা এবং যেসব বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট দুর্বল তা চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। 
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেই আগাম ও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো ও বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমিয়ে আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং যেসব এলাকা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে, সেসব এলাকার বাঁধ দ্রুত পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। যে সব বাঁধ নির্মিত হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত সংস্কার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ চায় না চায় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








সাবাস টিম টাইগার 

সাবাস টিম টাইগার 

১৯ মে, ২০১৯ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ