খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ |

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায়  নেয়া প্রস্তুতির সফল বাস্তবায়ন হোক 

০৪ মে, ২০১৯ ০০:০৯:০০

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায়  নেয়া প্রস্তুতির সফল বাস্তবায়ন হোক 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে নানা সময়ে বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। এবার আরেক বড় ধরনের ঝড়ের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ। ‘ফণী’ নামে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়কে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় বলা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘন্টায় ১৭০-১৮০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে শুক্রবার সকালে ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানে এই ঘূর্ণিঝড়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত ধরে বাংলাদেশ অতিক্রম করার কথা রয়েছে এ ঝড়ের। তখন বাতাসের গতিবেগ থাকার কথা ঘন্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার। এ নিয়ে আতঙ্কে দেশবাসী। ঝড়ে প্রাণহানি এড়াতে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস মোবাবেলা আমাদের দেশের জন্য নতুন নয়। ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যায় প্রলয়ঙ্করী ‘গ্রেট ভোলা সাইক্লোন’। এই ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২২ কিলোমিটার। এই ঝড়ে প্রাণ হারায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। চার লাখের মতো বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯০৯ সালের ১৬ অক্টোবর খুলনা অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান ৬৯৮ জন। ১৯১৩ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় মৃত্যু হয় ৫০০ জনের। এর চার বছর পর খুলনায় আবারও এক ঘূর্ণিঝড়ে ৪৩২ জন মারা যান। পরে ১৯৭০ সালের নভেম্বরে, ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে, ১৯৭৪ সালের আগস্টে ও নভেম্বরে, ১৯৭৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। ১৯৮৩ সালে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দু’টি ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রাণ যায় অনেকের। ১৯৮৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয় সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও উড়িরচর এলাকা। এই ঝড়ে প্রাণ হারান উপকূলের ১১ হাজার ৬৯ জন বাসিন্দা। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়ে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায়। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৬২ কিলোমিটার। এই ঘূর্ণিঝড়ে ৫ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ হারান। ১৯৯৪ সালের মে মাসে এবং পরের বছর নভেম্বরে কক্সবাজারে, ১৯৯৭ সালের মে মাসে  চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী ও ভোলা জেলায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ১৯৯১ সালের ৩০ এপ্রিল বয়ে যায় আরেক প্রলয়ঙ্করী ঝড়। ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি ছিল সেই ঝড়ের, পরে তা ঘন্টায় ২২৫ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে আছড়ে পড়ে চট্টগ্রাম ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। প্রায় দেড় লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে ওই ঝড়ে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় দেশের দক্ষিণ উপকূল। উত্তর ভারত মহাসাগরে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে সৃষ্ট এ ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ থেকে ৩০৫ কিলোমিটার। এতে তিন হাজরের বেশি মানুষ মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩২টি জেলার ২০ লাখ মানুষ। ২০০৯ সালের ২১ মে ভারত মহাসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় আইলা, যার অবস্থান ছিল কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে। চার দিনের মাথায় ২৫ মে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আঘাত হানে এই ঝড়। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের ১৪৯ জন ও বাংলাদেশের ১৯৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে উপকূলে প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুভিটাহারা হয়। ২০০৮ সালের অক্টোবরে ঘন্টায় ৮৫ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রেশমিতেও প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’-এ প্রাণ হারান ১৭ জন। এরপর ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র আঘাতে মারা যান চট্টগ্রামের ২৬ জন অধিবাসী।
বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমেছে। সুন্দরবনের গাছগাছালি ও স্থানীয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সেটা সফলতা আসে। এবারও ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় নেয়া ব্যাপক পদক্ষেপ সফল হবে এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ