খুলনা | রবিবার | ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ |

শিরোনাম :
দলে অনুপ্রবেশকারী কোন জামায়াত-বিএনপিকে আ’লীগের টিকিট দেয়া যাবে না : মিজানজনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রীসাতক্ষীরায় প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে জনতার বিক্ষোভের মুখে দুই কর্মকর্তাসহ ৮ পুলিশ প্রত্যাহার : তদন্ত কমিটিধান কেনায় আরো ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপি’রখুলনা চেম্বারে ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন কাজী আমিনচার মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১১৮ নাগরিক নিহত নারী ধর্ষণ ৩৫৪, শিশু ২৩৪ : গুম ৬ নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা : মমতার অভিযোগ 

মোবাইল সিম নিবন্ধনের  ফাঁক-ফোকরে সন্ত্রাস

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১০:০০

মোবাইল সিম নিবন্ধনের  ফাঁক-ফোকরে সন্ত্রাস

বিশ্বে সন্ত্রাসী ও খারাপ মানুষের নিত্য নতুন কৌশল থেকে ভালো মানুষদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। এই যেমন ধরুন বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন। এর মূল উদ্দেশ্য মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে সন্ত্রাস করলে তাকে সহজে খুঁজে বের করা সহজ হবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোটি কোটি মানুষের একটি পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা অনেক জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা অনেকেই হয়তো জানি না আমাদের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে অন্য অনেকে সিম রেজিস্ট্রেশন করে নিচ্ছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে “আঙ্গুুলের ছাপ, পরিচয়পত্র কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, টাকা দিলেই মিলছে সিম”। এর জন্য অনেকাংশে দায়ী মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন সময় এক এক কোম্পানি লোভনীয় অফার দিয়ে ক্রেতা সাধারণকে আকৃষ্ট করছে আর সেই সুযোগে সংগঠিত হচ্ছে নানা ধরনের অপকর্ম। একজনের নামের  সিম ব্যবহার করছে অন্যজন। কারো নামের সিম যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে কোন অপকর্ম করে থাকে তার দায় প্রথমে নিরীহদের ঘাড়ে এসেই পড়বেই। সুতরাং কার আইডি দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেটা যাচাই করা খুব জরুরি। যদি দেখেন আপনার অজান্তেই চোরের দল অন্য কোন সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে তবে সেই নাম্বারগুলো হয় আপনি নিয়ে নিন, না হলে সেই রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে বলুন মোবাইল কোম্পানিগুলোকে। পুলিশের একাধিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, শতকরা ৯৫ ভাগ অপরাধী এখন অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করছে। এখন প্রশ্ন হলো কোনো ব্যক্তি যদি নিজের জ্ঞাতসারেই নিজের এনআইডি হতে ২০টি সিম নিবন্ধন করে থাকেন, তবে তাহাতে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী তার নিবন্ধন করা শেষ পাঁচটি সিম বন্ধ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু এখন যদি কারো অজ্ঞাতে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয় এবং সেই সংখ্যাটি যদি ওই ১৫টি সিম নিবন্ধনের মধ্যেই থাকে, তবে সেই অজ্ঞাত সিমগুলি কিন্তু বন্ধ হবে না। ইতোমধ্যে জানা গেছে, সাধারণ আমজনতার ভেতর হতে তুলনামূলক সহজ-সরল বয়স্ক অশিক্ষিত কিংবা গরীব কেউ যখন তার নামের নতুন কোনো সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে আসেন, তখন অনেক সময় ওই ব্যক্তির অজ্ঞাতসারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার নামে আরো একাধিক সিম নিবন্ধন করে রাখা হয়। অতঃপর ওই অতিরিক্ত নিবন্ধিত সিমটি একটু বেশি মূল্যে বিক্রয় হয়ে যায় অপরাধীদের নিকট। তারা তখন ওই সিম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, জঙ্গি কার্যক্রম হতে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সংঘটিত করে থাকে। সুতরাং এরও একটি বিহীত হওয়া দরকার। 
তবে আশার কথা প্রায় সাড়ে বিশ লক্ষ মোবাইল সিম বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে একজন গ্রাহকের নিবন্ধনকৃত ১৫টি সিমের অতিরিক্ত এই সংখ্যক সিম নিষ্ক্রিয় করা হয়। বর্তমানে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ১৫টির অধিক সিম নিবন্ধিত থাকলে শেষেরগুলি বাতিল করবার বিষয়টি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কতটি মোবাইল সিম নিবন্ধন করা হয়েছে তা *১৬০০১# নম্বর ডায়াল করে বা জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চারটি ডিজিট লিখে ১৬০০১ নম্বরে মোবাইল হতে এসএমএস পাঠালে জানা যাবে। সাধারণ জনগণকেও এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








সাবাস টিম টাইগার 

সাবাস টিম টাইগার 

১৯ মে, ২০১৯ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ